আত্মতত্ত্ব দর্শনে প্রবৃত্তি ধর্মসাধন বা কর্মকান্ড

প্রবৃত্তি ধর্মসাধন বা কর্মকান্ড

প্রবৃত্তিশ্চ নিবৃত্তিশ্চ দ্বৌ ভাবৌ জীবসংস্থিতৌ

প্রবৃত্তিমার্গঃ সংসারী নিবৃত্তিঃ পরমাত্মনি ।।

যামালং

এই পৃথিবীতে জীবগণ প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি  এই দুই ভাবে অবস্থান করে থাকে । যারা সংসারী অর্থাৎ গৃহস্থধর্মাবলম্বী তারা প্রবৃত্তি মার্গে ( পথে ) অবস্থান করে আর যারা পরমাত্মা লাভে  ইচ্ছুক অর্থাৎ বাণ প্রস্থ ধর্মাবলম্বী তারা অবস্থান করে নিবৃত্তি মার্গে ।

প্রবৃত্তি ধর্ম যাজনের জন্য যে সকল অনুষ্ঠান অবলম্বন করতে হয় তার  প্রধান প্রধান অংশগুলো সাধনাঙ্গ প্রকরণে সন্নিবেশিত হয়েছে । এখন সে গুলো কোন সময়ে কিভাবে কার্য পরিণত করতে হয় তা বলা হবে । এবং সে নিয়ম ও নীতি অনুসারে কার্য করলে প্রবৃত্তি ধর্ম সাধন করা হবে ।

পূর্বে ধর্মসাধনে প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি মার্গ প্রস্তাবের  বর্ণনা করা হয়েছে যে, অগ্রে প্রবৃত্তি ধর্ম সাধনে সিদ্ধ হলে পরে নিবৃত্তি ধর্ম সাধনে অধিকার জন্মে এজন্য প্রথমে প্রবৃত্তি ধর্ম সাধন প্রণালী বর্ণনা করার পরে নিবৃত্তি ধর্ম সাধন প্রণালি বর্ণনা করা হবে ।

ইহ মুত্র কাম্যং চ প্রবৃত্তিমভিধীয়তে ।

ধন পুত্রাদি  ঐহিক সুখ কামনা করিয়া অথবা মৃত্যুর পর স্বর্গ সুখ কামনা করিয়া যে কর্মকান্ডের অনুষ্ঠান করা হয় তাহারই নাম প্রবৃত্তি মার্গ ।

কর্ম কান্ড (১) বললে  যে কর্তব্য অকর্তব্য সকল প্রকার কর্মকে বুঝাই বে তা  নয় । কেবল ইষ্টদায়ক অর্থাৎ মঙ্গলকর কর্মকেই বুঝাবে । যে সকল কার্য্যর দ্বারা  ইহলোকের হিত সাধন হয তারই নাম কর্মকান্ড বা প্রবৃত্তি ধর্ম । এখন দেখতে হবে যে  ইষ্টদায়ক কর্ম কি কি ?  এবং কি রুপেই বা তার নির্বাচন করা হয়েছে ,  শাস্ত্রকারগণ বলেন যে,

বেদাদি বিহিতং কর্ম লোকানামিষ্টদায়কং ।

তদ্বিরুদ্ধং ভবেত্তেষাং সর্ব্বদানিষ্টদায়কং ।।

অর্থাৎ বেদ পুরাণ তন্ত্র ইত্যাদি শাস্ত্রে নির্দিষ্ট যে সকল কর্ম তা মানব জাতির পক্ষে ইষ্টদায়ক ( মঙ্গলময় )  এবং তার বিপরীতে যে সকল কর্ম তা অনিষ্টদায়ক ।

বেদাদি বিহিত কর্ম তিন প্রকার , নিত্য , নৈমিত্তিক এবং কাম্য । যথা-

বেদাদি বিহিতং কর্ম ত্রিবিধং পরিকীর্ত্তিতং ।

নিত্য নৈমিত্তিকং কাম্যং ব্যক্ত শাস্ত্র প্রদর্শিভিঃ ।।

বেদাদি বিহিত কর্ম ত্রিবিধ , নিত্যকর্ম , নৈমিত্তিক কর্ম এবং কাম্য কর্ম । এসব শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত গণ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে ।

নিত্যকর্ম

বস্যাকরণজন্যং স্যাদ্দরিতং নিত্যমেব তৎ ।

প্রাতঃকৃত্যাদিকং তাত শ্রাদ্ধাদি পিতৃতর্পণং ।।

তত্ত্ববিচার

যে কর্মের অকরণে প্রত্যবায় জন্মে তাকে নিত্যকর্ম বলা যায় । যথা- প্রাতঃকৃত্য, প্রাতঃ সন্ধ্যা, পিতৃশ্রাদ্ধ এবং পিতৃতর্পণ ইত্যাদি ।

অর্থাৎ আমি কর্তা , আমি ভোক্তা এরুপ অহংকার রুপ বন্ধনের যে কারণ , জন্ম এবং মৃত্যুর যে কারণ , এবং নিত্য নৈমিত্তিক যাগ ব্রহ তপস্যা ও দান ইত্যাদি কার্য্যর যে ফলের অনুসন্ধান তারই নাম কর্ম ।

পঞ্চ যজ্ঞাশ্রিতং নিত্যং যদেতৎ কথিতং তব ।

নৈমিত্তিকং তথা চান্যাৎ পুত্রজন্মক্রিয়াদিকং ।

নিত্য নৈমিত্তিকং জ্ঞেয়ং পর্বশ্রাদ্ধাদি পন্ডিতৈ ।।

মার্কন্ডেয়পুরাণ ।

পঞ্চযজ্ঞাশ্রিত কর্মকে নিত্যকর্ম বলা যায় । অর্থাৎ যা প্রত্যহ করতে হবে তাই নিত্যকর্ম । নিমিত্ত জন্য যে কর্ম তাকে নৈমিত্তিক কর্ম বলা যায় ।

যেরুপপত্রজাতকর্মাদি কার্য্যর নিমিত্ত শ্রাদ্ধাদি কার্য্যর অনুষ্ঠান করতে হয় ।

নৈমিত্তিক কর্ম

মাসাদ্য বীজং যৎ  কিঞ্চিদ্বীজং নৈমিত্তিকং মতৎ

বৃদ্দিশ্রাদ্ধাদি জাতেষ্টি যাগ কর্মাদিকন্তথা ।।

স্মৃতি

যে কর্মের নিমিত্ত বিধায় মাস পক্ষাদি নির্দিষ্ট নাই কিন্তু নিমিত্তাধীন তাই নৈমিত্তিক কর্ম । যথা, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ, জাতেষ্টি যাগ এবং গ্রহণের জন্য শ্রাদ্ধ দানাদি ।

কাম্যকর্ম

যৎ কিঞ্চ ফলমুদ্দিশ্য যজ্ঞদান জপাদিকৃৎ ।

ক্রিয়তে কায়িকং যচ্চ তৎ কাম্যং পরিকীর্ত্তিতং ।।

গৃহস্থ ব্যক্তিকে পঞ্চসুনা জনিত পাপ হতে পরিমুক্ত হবার জন্য প্রতিদিন পঞ্চ মহা যজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হয় ।

পঞ্চসুনা অর্থাৎ

পঞ্চসুনা গৃহস্থস্য চুল্লী পেষণ্যুপস্করঃ ।।

কন্ডনী চোদকুম্ভশ্চ বধ্যতে যাস্তু বাহয়ন ।। 

মনু 68

গৃহস্থ ব্যক্তির চুল্লী ( উনা্ন ) , পেষণী ( শিল লোড়া ) , উপস্কর ( সূর্প চালনী ) ধুচনী ( সন্মার্জ্জনী – খাংরা, ঝাঁটা) কন্ডনী ( উদুখল, মূষল, ঢেঁকী , হামানদিস্তা ) এবং উদকুম্ভ  ( জল কলস ) ইত্যাদিকে পঞ্চসুনা বলে ।

এই পঞ্চ সুনা অর্থাৎ গার্হস্থ সামগ্রী কার্য নিয়োজিত হলে তাদ্বারা যে সকল জীব হিংসার শিকার হয় , সেই হিংসার জন্য পাপ হতে মুক্তি লাভের জন্য গৃহস্থ ব্যক্তিকে প্রতিদিন পঞ্চ মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হয়  ।

বৈদিক গণিত পর্ব – চার

আরো একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাকঃ

88 × 90 এক্ষেত্রে ও সাপেক্ষ সংখ্যাটি ধরব 100 । তাহলে পূর্বের নিয়মে আমরা বলতে পারি ।   

88 – 12

90 – 10

একই ভাবে 88 থেকে 10 বিয়োগ করে অথবা 90 থেকে 12 বিয়োগ করে 88 × 90 এর গুণফলের প্রথম সংখ্যা পাই 78 । কিন্তু 12 × 10  এর গুণফল হয় 120 যা দুই অঙ্কের থেকে বেশি তাই শেষ দুট সংখ্যা 20 ধরে  প্রথম দুটি সংখ্যা্ 78 + 1 = 79 পাই । অর্থাৎ বলতে পারি 88 × 90 = 7920

বৈদিক নিয়মে গুণ করতে চাইলে অনুশীলনের জন্য কিছু উদাহরণঃ

(১) 93 × 92

(২) 88 × 91

(৩) 25 × 99

( ৪) 67 × 97

(৫) 88 × 98

এবার তিন সংখ্যার গুণ দেখব , কিভাবে করতে হবে –

উদাহরণ (১)

879 × 999 এই গুণটি করতে আমরা সাপেক্ষ সংখ্যাটি ধরব 1000 । যারা ইতিমধ্যে বৈদিক ৩ টি পর্ব পড়েছেন তারা হয়ত এতক্ষনে বুঝে গেছেন ।  কিভাবে এই অঙ্কটি করতে হবে ?

এবার একই নিয়মে আমরা নিজেদের সুবিধার জন্য লিখব ।

879 – 121

999 – 001

যদি ভুলে দিয়ে থাকেন পাশের  এই 121 এবং 001 সাপেক্ষ সংখ্যাটি কিভাবে পেলাম তাহলে মনে করুন সাপেক্ষ সংখ্যা 1000 থেকে 879 বিয়োগ করলে 121 এবং 999 বিয়োগ করলে 001 হয় । বৈদিক গণিত প্রয়োগে মনে মনে কিভাবে এই বিয়োগ করতে হয় তা আমরা আগেই আলোচনা করছি ।

এবার পুর্বের মতোই 879 থেকে 001 বিযোগ করে অথবা 999 থেকে 121 বিয়াগ করে পেলাম 878 । অর্থাৎ 879 × 999 এর গুণফলের প্রথম তিনটি সংখ্যা 878 । এবার  121 × 001 করলে পাই 121 অর্থাৎ শেষ তিনটি সংখ্যা 121 এবার আমরা বলতে পারি 879 × 999 = 878121 ।

 তিন সংখ্যার আরো একটি গুণ প্রাকটিস করব আবার ও

উদাহরণ (২) 888 × 991 এক্ষেত্রে সাপেক্ষ সংখ্যা ধরব 1000 । তাহলে আমারা নিজেদের সুবিধার জন্য লিখে ফেলি –

888 – 112

991 – 009

পূর্বের  একই নিয়ম প্রয়োগ করে 888 × 991 এর গুণফলের প্রথম তিনটি সংখ্যা পাই 879 কিন্তু শেষ সংখ্যা পাই 112 × 9 = 1008 তাই শেষ তিনটি সংখ্যা 008 ধরে প্রথম তিনটি সংখ্যা 879 এর সাথে 1 যোগ করে প্রথমে তিনটি সংখ্যা পাই 880 । তাই সহজেই বলতে পারি, 888 × 991 = 880008 ।

উদাহরণ ৩

999999997 × 999999997   এক্ষেত্রে সাপেক্ষ সংখ্যা 1000000000 , কেন তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ।

তাই পূর্বের নিয়মে

999999997 – 000000003

999999997 – 000000003

———————–

উত্তরটি হল 999999994000000009

বৈদিক নিয়মে অঙ্ক করতে চাইলে অনুশীলন করতে পারেন –

(১) 879 × 998

(২) 112 × 990

(৩) 99979 × 99999

(৪) 9997 × 9997

(৫) 999999998 × 999999999

আরো কিছু উদাহরণ দেখে নিব

একই নিয়মে কখনও কখনও কিন্তু আপনার সমস্যা হতেই পারে । যেমন 12 × 11  এই গণিত টি করতে গেলে কি হবে ।  এখানে 12 এবং 11 দুটি সংখ্যাই সাপেক্ষ সংখ্যা 10  এর থেকে বড় । এক্ষেত্রে কী করব?

উদাহরণ (১) 12 × 11 আমাদের সাপেক্ষ সংখ্যা 10 । তাই আগেরমতই নিয়মেই লিখব

12 + 2

11 + 1

এক্ষেত্রে হয় 12 সংখ্যাটির সাথে 1 যোগ করব নতুবা 11 সংখ্যাটির সাথে 2 যোগ করব । দুটি ক্ষেত্রেই যোগফল হবে 13 তাই প্রথম দুটি সংখ্যা হবে 13 এবং 2 × 1 = 2 অর্থাৎ শেষ সংখ্যাটি হবে 2 এর অর্থ 12 × 11 = 132

উদাহরণ (২)

12 × 8 এক্ষেত্রে ও সাপেক্ষ সংখ্যা 10  এবং পূর্বের ন্যায় নিয়ম অনুসরন করব ।

12 + 2

8 – 2

এবার 12 থেকে 2 বিয়েোগ অথবা 8 এর সাথে 2 যোগ করব । উভয় ক্ষেত্রেই উত্তর হবে 10 ।

তাই 12 × 8 গুণফলের প্রথম দুটি সংখ্যা হবে 10 কিন্তু (+2 ) × (-2)   এর গুণফল হবে -4 । তাই 100  থেকে 4 বিয়োগ করলে উত্তর হবে 96 সেই কারণে আমরা বলতে পারি 12 × 8 = 96

বৈদিক গণিত পর্ব – তিন

 আমরা আগেই আলোচনা করেছি গুণ মানে একাধিক যোগ । কিন্তু এই সাধারণ বিষয়টিই যখন বড় হয়ে যায় তখন তা জটিল হয়ে ওঠে । মনে মনে কিংবা লিখে ও দ্রুত তা করা অসম্ভব হয়ে যায় । এখনকার প্রচলিত নিয়মে গুণের অঙ্ক করতে হলে নামতা জানার বিশেষ প্রয়োজন । যে যত বেশি সম্ভব নামতা মুখস্ত করতে পারে তার পক্ষে প্রথমটা ততই সোজা হয় । কিন্তু  একটা পর্যায়ের পর যতই নামতা জানুন দ্রুত তা করা সম্ভব নয় , কিন্তু বৈদিক গণিতে 5 পর্যন্ত নামতা জানলেই হয় । তবে যে 10 পর্যন্ত নামতা জানে তার পক্ষে মনে মনেই যে কোনো  অঙ্কের গুণ করা শুধুই অভ্যাসের ফল । তবে আবার ও মনে করিয়ে দেই বৈদিক গণিতে শেষ বা নির্দিষ্ট্ কোনো নিয়ম নেই যখন যেখানে যে সূত্র ব্যবহার করে আমরা সহজে তা করতে পারবো আমরা সেখানে সেই সূত্রের প্রয়োগ করব । আর ও মজার বিষয় যে সূত্রের ব্যবহার বিয়োগ করতে লাগে তার ব্যবহার গুণে ও লাগে আবার তার ব্যবহার ভাগে ও লাগে । অর্থাৎ সমগ্র বিষয়টিই আপেক্ষিক ।  এবার আমরা দ্বিতীয় সূত্রটি অর্থাৎ Nikhilam…. সূত্রটির ব্যবহার করে গুণ করা যায় কীভাবে তা দেখাবো ।

উদাহরণ একঃ

9 × 7  এই দুই সংখ্যার গুণ করার আগে আমাদের একটি সাপেক্ষ সংখ্যা স্থির করতে হবে । পাঠকদের জন্য বলি আমরা চেষ্টা করব যাতে সাপেক্ষ সংখ্যাটি 10/100/1000/10000 ইত্যাদি রাখা যায় । প্রথম উদাহরণের ক্ষেত্রে আমরা সাপেক্ষ সংখ্যাটি 10 ধরলাম ।  এখানে 9 ,  10 এর থেকে 1 সংখ্যা কম  এবং 7 , 10 থেকে 3 কম  । তাহলে বিষয়টি কে আমরা আমাদের বোঝার সুবিধার জন্য এভাবে লিখতে পারি

9 – 1

7 – 3

এবার হয় আমরা 9 থেকে 3 বিয়োগ করব নতুবা 7 থেকে 1 বিয়োগ করব । এখন খেয়াল করুন , উভয়ক্ষেত্রেই কিন্তু উত্তরটি 6 । তাহলে আমরা 9 × 7 এর গুণফলের প্রথম সংখ্যাটি পেয়ে গেলাম সেটি হল 6 । এবার 1 এবং 3 এর গুণ করব গুণফল হবে 3 । তাহলে 9 × 7 এর গুণফলের দ্বিতীয় সংখ্যাটি হবে 3 । তাই আমরা বলতেই পারি 9 × 7 = 63

উদাহরণ দুইঃ

 8 × 7   এক্ষেত্রে ও আমরা 10 কে আমাদের  সাপেক্ষ সংখ্যা স্থির করলাম  এবং আগের উদাহরণের অনুরুপে লিখলাম-

8 – 2

7 – 3

এবার হয় 8 থেকে 3 বিয়োগ করব নতুবা 7 থেকে 2 বিয়োগ করব উভয় ক্ষেত্রেই উত্তরটি 5 তাই 8 × 7 এর গুণফলের প্রথম সংখ্যাটি 5 । এবার 3 × 2 করে যে সংখ্যাটি পাব তা হল 6 তাহলে আমরা বলতে পারি 8 × 7 = 56

উদাহরণ তিনঃ 

7 × 6 এক্ষেত্রে ও 10 হল আমাদের সাপেক্ষ সংখ্যা তাই অনুরুপভাবে আমরা লিখবো ।

7 – 3

6 – 4

7 থেকে 4 বিয়োগ করলে বা 6 থেকে 3 বিয়োগ করলে উভয় ক্ষেত্রেই বিয়োগফল 3 তাই 7 × 6 এর গুণফলের প্রথম সংখ্যাটি 3 পাচিছ  কিন্তু 3 × 4 করলে গুণফল 12 হয় । কিন্তু দ্বিতীয় সংখ্যাটিতে 12 হতে পারে না তাই 2 লিখে আগের 1 সংখ্যাটিকে 3 এর সাথে যোগ করে প্রথম সংখ্যা পেলাম 4 । অর্থাৎ আমরা 7 × 6 = 42 বলতে পারি ।

আপনারা কয়েকটি অংক অনুশীলন করতে পারেন – তার জন্য চারটি উদাহরণ দিলাম ।

(১) 8 × 9

(২) 9 × 9

(৩) 5 × 8

(৪) 6 × 6

এখন আমরা  একটু বড় গুণ করার চেষ্টা করব । এ ধরনের গুণ করতে সাধারণ পদ্ধতিতে প্রচুর সময় ও জায়গার প্রয়োজন হয় । ভুল করার সম্ভাবনাও থেকেই যায় । কিন্তু বৈদিক গণিত ব্যবহারে  আপনি সহজেই প্রায় মনে মনেই এই গুণ করে ফেলতে পারবেন।

উদাহরণ একঃ

97 × 95 এই গুণটিতে সাপেক্ষ সংখ্যা হিসাবে আমরা 100 ধরব । এবার পূর্বেই নিয়মে আমরা লিখতে পারি

97 – 03

95 – 05

পাঠক বন্ধু খেয়াল করুন পূর্বে যেহেতু  আমরা সাপেক্ষ সংখ্যায় 1 এর পরে একটাই 0 রেখিছিলাম অর্থাৎ 10 ধরেছিলাম । তাই পরবর্তীকালে সংখ্যা মানে এক অঙ্কের সংখ্যা ধরেছিলাম । 7 × 6 গুণ করতে গিয়ে আমরা দ্বিতীয় সংখ্যার ক্ষেত্রে 12 পাওয়াতে আমরা দ্বিতীয় সংখ্যা 2 নিয়ে 1 সংখ্যাটিকে আগের পাওয়া 3 এর সাথে যোগ করে প্রথম সংখ্যাটি 4 পেয়েছিলাম এবং বলেছিলাম  7 × 6 = 42 । কিন্তু এক্ষেত্রে যেহেতু 1 এর পর দুটি 0 ধরছি তাই প্রতিবার আমরা দুটি করে সংখ্যাকে আমরা আমাদের হিসাবের মধ্যে ধরব । যতি তিন অঙ্কের সংখ্যা কখন ও পাওয়া যায়  

97 – 03

95 – 05 তাহলে তৃতীয় অঙ্কটিকে প্রথম দুই অঙ্কের সাথে যোগ করব । পরবর্তীতে এটি আপনার কাছে আর ও বেশি পরিষ্কার হয়ে যাবে ।

তাহলে হয় 97 থেকে 5 বিয়োগ করব নতুবা 95 থেকে 3 বিয়োগ করব । উভয় 03 × 05 করে পেলাম 15 অর্থাৎ 97 × 95 এর গুণফলের প্রথম দুটি সংখ্যা 92  । এবার 03 × 05 করে পেলাম 15 অর্থাৎ 97 × 95 এর গুণফলের শেষ দুটি সংখ্যা 15 তাহলে আমরা বলতেই পারি 97 × 95 = 9215

মনে মনে এরকম গুণ করতে আপনি পারবেন তো ।

বৈদিক গণিত পর্ব – দুই

বৈদিক গণিতের কথা প্রথম সর্বসমক্ষে আনেন জগতগুরু শংকরাচার্য  শ্রী ভারতী কৃষ্ণ তীর্থজী মহারাজ ( 1884-1960) । বৈদিক গণিতের বিশেষত্ব এই যে এক ব্যবহার করে যেমন কটিল অঙ্ক অতি সহজেই প্রায় মনে মনেই করে ফেলা যায় তেমনই গণিতের যে-কোনো পদ্ধতিতেই একে ব্যবহার করে সহজেই অনেক অসাধারণ সূত্র বানিয়ে ফেলা যায় । এখানেই শেষ নয় বৈদিক গণিত প্রয়োগে আমাদের জীবনের বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় ।

বৈদিক গণিত সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই । দর্শন ভাবনা পরিবর্তন ঘটলে যে সকল ভাবনার পরিবর্তন ঘটে তা হয়তো অনেকেই বুঝতে চান না । ভারতীয় দ্বন্দ্বতত্ত্ব বা জ্যোতিষ দর্শনের হাতে গড়ে উঠেছেল এই গণিতশাস্ত্র যা  যথাসম্ভব সহজভাবে আমি বোঝাতে চেষ্টা করব । অভ্যাসে যাতে প্রতিটি পাঠক প্রায় মানব কম্পিউটার হয়ে উঠতে পারেন সে চেষ্টা আমি করব । মনে মনে অঙ্ক করা অসম্ভব নয় ।

বেদের বিভিন্ন শ্লোকের মধ্যে থেকে যে কয়টি সূত্রকে  আজ পর্যন্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সেগুলি নিয়ে  এবার আমরা আলোচনা করব ।

মাত্র 16 টি মূল সূত্র এবং 13 টি উপসূত্র আমরা জানতে পেরেছি । কিন্তু মজার বিষয় মাত্র এই কটি সূত্রের ব্যবহারেই আমরা সাধারণ গণিত থেকে , জ্যামিতি ও অন্য সব ধরনের গণিতই আমরা করতে পারি । আর ও যেটি মজার তা হলো অন্য যে কোনো গণিতের পদ্ধতিতে এর ব্যবহার করে সেই পদ্ধতিটি কে আর ও সহজ ও সরল করে তোলা সম্ভব । মূল সূত্র গুলিকে এবার আমি বলছি তবে পাঠকরা যাতে সকলেই তা বুঝতে পারেন মূল সংস্কৃত সূত্রগুলিকে আমি ইংরেজি বর্ণমালায় লিখব ।

  • Ekadhikena Purvena
  • Nikhilam Navatascaremam Dasatah
  • Uradhava tiryagbham
  • Paravartya Yojayet
  • Sunyam Samyasamuccaye
  • Anurupye Sunyamanyat
  • Sankalana- Vyavakalanabhyam
  • Purana Puranabhyam
  • Calana – Kalanabhyam
  • Yavadunam
  • Vyastisamastih
  • Sesanyankena Caramena
  • Sopantyadvayamantyam
  • Ekanyunena Purvena
  • Gunitasamuccayah
  • Gunakasamuccayah

উপসূত্রঃ

  • Anurupyena
  • Sisyate sesasmjah
  • Adyamadyenantyamantyena
  • Kevalaih Saptkam Gunyat
  • Vestanam
  • Yavadunam Tavadunam
  • Yavadunam Tavadunikrtya
  • Antyayordasakepi
  • Antyayoreva
  • Samuccayagunitah
  • Lopanasthapanabhyam
  • Vilokanam
  • Gunitasamuccayah Samuccayagunitah

তবে পাঠকবন্ধু  এই সবগুলি সূত্র ও উপসূত্রের ব্যবহার এই বইতে আমরা  আলোচনা করব না ।  মাত্র কয়েকটি নিয়েই আমরা আলোচনা করব । পাঠক বন্ধু আশাকরি , আপনি ভুলে যান নি আমি আগেই বলেছিলাম বৈদিক গণিতে সুত্রের প্রয়োগ করা হলেও আমরা আমাদের সুবিধামতো যে-কোনো সূত্রের প্রয়োগ করব ।

একই সূত্রের প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রে ও ব্যবহার করতে পারি । তাই বেদিক গণিত কোনো যান্্রিতক পদ্ধতি নয় । আপনি যদি বুঝতে পারেন এবং এটি অভ্যাস করেন সহজেই তার ব্যবহার শিখে যাবেন । কিন্তু যান্ত্রিকভাবে একে বুঝতে চাইলে তা বোঝা আপনার পক্ষে মুশকিল হবে । যখন যেদিক থেকে অঙ্ক করলে আমার সুবিধা হবে আমি তাই করব । যে সূত্র বা উপসূত্র ব্যবহার করলে সুবিধা হবে আমি তাই করব । প্রয়োজনে ভিন্ন ক্ষেত্রে ও  একই সূত্রের প্রয়োগ করব । কিন্তু সবসময়ই একটি কাল্পনিক সাপেক্ষ স্থির করব যাকে ঘিরে আমার চিন্তা আবর্তীত হবে । বিষয়টি জটিল শোনাতে পারে কিন্তু পাঠকবন্ধু আমি আপনাকে এটুকু আমার বাণী শোনাতেই পারি যে, এই আমি তা সাধ্যমতো সহজ করে সূত্রের ব্যাখ্যার জটিলতায় না গিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করবো যাতে আপনি এই গণিতের প্রতি আগ্রহী হয়ে পরেন এবং আগামীতে কোনো বিচক্ষণ গনিতজ্ঞের সহচর্য এ শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারেন । এই গ্রন্থটিতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যথাসম্ভব কম সূত্রের ব্যবহার করে সাধারণ গণিত করা । আগামীতে আগ্রহী পাঠকরা বিচক্ষণ গণিতজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই শাস্ত্রের অর ও গভীরে প্রবেশ করে চলমান মানব কম্পিউটারর হয়ে উঠবেন আশাকরি ।

সাধারণ গণিতে আমরা সাধারণত ডানদিক থেকে শুরু করে ক্রমে বাঁদিকে অগ্রসর হই । কিন্তু বৈদিক গণিতে  এরকম কোনো বাধ্য বাধকতা নেই । যখন যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে আমরা তাই করব । যেমন –

  100000 – 73245

এই বিয়োগরে গণিতে আমি এখনকার চলতি নিয়েমে ডানদিক থেকে করতে পারি এক্ষত্রে প্রথমে 5 সংখ্যাটিকে 10 থেকে বিয়োগ করতে হবে কিন্তু যেহেতু 0 আগে একটি 1 সংখ্যা কল্পনা করেছি তাই এই 1 সংখ্যা 4 এর সাথে যোগ করে আবার 10 থেকে বিয়োগ করব ।  এভাবেই করে যাব । কিন্তুক বৈদিক গণিত দিয়ে আমরা বাঁদিক থেকে শুরু করে ক্রমে ডানদিকে যেতে পারি । এক্ষেত্রে আমরা বৈদিক গণিতের দ্বিতীয় সূত্রটিকে ব্যবহার করতে পারি । সূত্রটি বাংলায় এ রকম, সবগুলি 9 থেকে শেষটি 10 থেকে । অর্থাৎ প্রথম শূণ্যটিকে 9 কল্পনা করলাম এবং তার থেকে 7 বিয়োগ করলাম উত্তর হলে 2 এবার 9 থেকে 2 বিয়োগ করলাম । উত্তর হল 7 । তারপর 9 থেকে 4 বিয়োগ করলাম উত্তর হলো 5 এবং একদম শেষে 10 থেকে 5 বিয়োগ করে উত্তর পেলাম 5 । যেহেতু শেষ 0 টিকে 10 ধরলাম  এই 1 সংখ্যাটিকে প্রথম 1 থেকে বাদ দিলে উত্তর হয় 0 ।

আমরা উত্তর বলতে পারি 026755 ।

বৈদিক গণিত পর্ব এক

বৈদিক গণিত এই শব্দটিই বলে দেয় এই গণিতের সৃষ্টি বেদ থেকে । মূল বেদ চারটি । ঋক, সাম , যজু এই তিন বেদকে ত্রয়ী বলা হয় এ ছাড়াও অর্থবঙ্গিরস মনুসংহিতার সময়কালে যার সাথে গোপথ ব্রাহ্মণ যোগ করে একত্রে অর্থববেদ বলা হয়্ । এছাড়ও চারটি উপবেদ আছে । যেগুলি হলো, Ayurveda, Gandharvabeda, Bhanurveda  এবং Sthapatyaveda । এটা  এই জন্য জানানো হলে যে, বেদ মানে কয়েকটি  গ্রন্থ নয় । শত শত গ্রন্থ নিয়ে বেদ । বেদের বহু শাখা  এবং গুরু ছাড়া তা বোঝা প্রায় অসম্ভবই বলা যায় ।

তার উপর রুপকের ব্যবহার একে আরও জটিল করে ফেলছে । বেদকে বুঝতে হলে আগে বেদাঙ্গ জানতে ও বুঝতে হবে ।

বেদাঙ্গ ৬ টি । শিক্ষা, ছন্দ, কল্প , নিরুক্ত , জ্যোতিষ এবং ব্যাকরণ । এর মধ্যে জ্যোতিষ কে বলা হয় বেদের চোখ । জ্যোতিষ আসলে  একটি দর্শন এবং এর থেকেই বৈদিক গণিতের সূত্রপাত । বৈদিক গণিতের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে উপবেদে সেটি হল  Sthapatyaveda । জ্যোতিষ দর্শন দিয়ে যদি বিচার করা যায় তাহলে বুঝা যায় গণিত শাস্ত্রের দুটি প্রান্ত । একটি পূর্ণ বা অসীম অর্থাৎ আমরা যা ভাবতে পারছি তার থেকেও বেশি । অর্থাৎ  এটি একটি কল্পনা । আজ যাকে আমরা “α”  আক্ষা দিচ্ছি , অপর প্রান্ত টি হলো কস বা কসুড় যা পরে 0 নামে অভিহিত হয়েছে । পরমশূণ্য আসলে একটি কল্পনা । অর্থাৎ সমগ্র বিষয়টি এক কল্পনা থেকে অন্য এক কল্পনার পথে যাত্রা । মাখের কিছু কল্পনাকে তারা সংখ্যা নাম দিয়েছিলেন । যেমন- নবগ্রহ, সেইরকম সংখ্যা ও নয়টি এগুলি হল-

(১) কা, পা, টা অথবা ইয়া      অর্থ ১

(২) কহা, যা, ফা অথবা রা      অর্থ ২

(৩) গ, দা, বা অথবা লা         অর্থ ৩

(৪) ঘা , ধা ভা অথবা ভ        অর্থ ৪

(৫) গ্না, না, মা, অথবা সা       অর্থ ৫

(৬) ক, ত, স                     অর্থ ৬

(৭) চা, যা, অথবা সা            অর্থ ৭

(৮) যা, দা হা                      অর্থ ৮

(৯) ঝা, ধা                         অর্থ ৯

এগুলি প্রতিটিই আসলে এক একটি কল্পনা , দশমিক দিয়ে আমরা “α” সংখ্যায় 9 লাগালে ও 1 হয় না । যেমন- .9/.99/.999/.9999 ইত্যাদি কিন্তু আমরা কেউ 9=1 ধরি কখনও .99=1 ধরি অথবা কখনো .999=1 ধরি । অর্থাৎ আমরা 1 কল্পনা করি । এই একই ভাবে আমরা অন্য সংখ্যাগুলিকেও কল্পনা করি  এবং এই সংখ্যার বিচার করতে কখন ও 0 এর সাপেক্ষে তা করি কখন ও “α” সাপেক্ষে করি ।

ঈশাবাস্যোপনিষদ এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদে আমরা পাই

ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্নমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমূদচ্যতে

পূর্ণষ্য পূর্ণমাদায় পূর্নবেবাশিষ্যতে ।।

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

ওঁ অর্থে সচ্চিদানন্দঘন পরব্রহ্ম যিনি স্থুল , সূক্ষ্মু , অতিন্দ্রিয় সকলকিছুর স্রষ্টা  । তিনি পূর্ণ অর্থাৎ “α” ( জ্যোতিষ দর্শন মনে করে শক্তির বিভিন্ন প্রকৃতির অর্ন্তদ্বন্দেই এই জগতের সবকিছুর সৃষ্টি । )

 এই পূর্ণ থেকেই বহু পূর্ণের সৃষ্টি এবং এই পূর্ণ থেকে যদি সকল পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় তাহলে অবশিষ্ট যা থাকে তাহা ও পূর্ণ । এর থেকে যে গানিতিক সূত্র আমরা পেতে পারি তা এরকম

α = α

α -1 = α

α – 2 = α

α – x = α

α – α = α

α / α = α

α + α = α

 অপর দিকে যেহেতু 0 অর্থ কিছুই নেই এবং এই দুই কল্পনার মধ্যে যদি সম্পর্ক স্থাপন করি তাহলে বিষয়টি এরকম হয়

α – 0 = α

α + 0 = α

α / 0 = α

0 / α = 0 আবার  = α

যেহেতু আমরা আমাদের সুবিধামতো কোনো একটি কল্পনা সংখ্যার মর্যাদা দেই তাই বৈদিক গণিতে কিছু সূত্র থাকলে ও আমরা তাদের ব্যবহার নিজের সুবিধা মতোই করব । সাধারণ গণিতে যেমন , যে-কোনো যোগ, বিয়োগ আমরা আমাদের ডানদিক থেকে বাঁ দিকে যাই , বৈদিক গণিতে আমরাদের সুবিধামতো আমরা কখনও ডান থেকে আবার কখনো বাম দিকে থেকে ডান দিকে করব । এ প্রসঙ্গে আমাদের  আরো  দুটি কথা মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন ।

 প্রথমটি হলো গুণ মানে একাধিক যোগ এবং ভাগ মানে একাধিক বিয়োগ ।

দ্বিতীয়টি হলো আমাদের সব সময়ই অপর একটি সংখ্যার কল্পনা করতে হবে যার সাপেক্ষে আমরা গণিতটি করব ।

এবং তার কতকগুলি বিশেষ নিয়ম রয়েছে । সাধারণ গণিত দিয়ে যদি আমাদের নিম্নের গুণটি করতে বলে তাহলে বেশ কয়েক পাতা লাগবে ।

3479329 * 9999999

কিন্তু বৈদিক গণিত দিয়ে আমরা  এক লাইনেই  এর সমাধান করতে পারি ।

উত্তরঃ 34793286520671

তাই বৈদিক গণিতকে মনে মনে করা গণিত ও বলা যেতে পারে তবে তার জন্য অভ্যাসের প্রয়োজন  এবং যারা তা জানে তাদের মানব কম্পুটার বলে মনে হয় । যারা এটি বোঝে না তারা নিজেদের অজ্ঞতা ঢাকবার জন্য একে প্রতারণা  বলে ।