নেতৃত্বের সঙ্গা এবং নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাবলি

নেতৃত্ব ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য অঙ্গ । নেতৃত্ব পদ বাক্যটি মনস্তাত্বিক ধঅরনার সাথে সম্পর্তিক যা যতখানি উপলব্দি করা যায় ততখানি প্রকাশ করা যায় না । বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে গতিশীল নেতৃত্ব ব্যবস্থাপকের প্রয়োজন অপরিহার্য ।
নেতৃত্বের সংজ্ঞাঃ
কোন দল গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে উদ্দেশ্যার্জনের প্রচেষ্টাকে নেতৃত্ব বলো হয় । যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাকে নেতা বলে ।
ইংরেজি lead থেকে Leadership শব্দ এসেছে যর বাংলা অর্থ হলো নেতৃত্ব । Lead শব্দের অর্থ হলো পথ দেখানো , চালিক করা , আদেশ করা ইত্যাদি তাই নেতৃত্ব বলতৈ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য অধীনস্থ লোকদের পরিচালনা করে এমন কৌশলকে বুঝায় যাতে দলীয় সদস্যদের তাদের সর্বাধিক সামর্থ্য অনুযারি নির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনের তৎপর হয় ।
নিম্নে নেতৃত্ব সম্পর্কে দু জন খ্যাতনামা লেখকের মতামত তুলে ধরা হলো –
NewstorM ও Keith devis এর মতে , নেতৃত্ব হলো অন্যান্যদের উৎসাহিত ও সাহায্য করার একটি প্রক্রিয়া যাতে তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয় ।
M.j. Gannon এর মতে, নেতৃত্ব হলো একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া যেখানে নেতা একটি নির্দিষ্ট কার্যধারা সমাপন করতে তার অধীনস্তদের অবশ্যই প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেন ।
মিঃ বেনিশ এর মতে , নেতৃত্ব হচ্চে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নির্বাহী অধস্তনদেরকে তার কাম্য আচরণ করতে প্রভাবিত করে থাকে ।
HIcks এবং Cullet এর মতে , নেতৃত্ব হলো যেকোনো ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দানের ক্ষেত্রে অন্যান্য আচরণকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য ।
উপররিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, নেতৃত্ব হলো একটি বিশেষ গুন বা কৌশল যার দ্বারা উধ্বর্তন কর্মকর্তা অধীনস্ত কর্মীদের প্রেরণার মাধ্যমে প্রভাবিত করে কোন সংগঠনের উদ্দেশ্যার্জন ত্বরান্তিত করে ।


নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাবলিঃ


নেতৃত্ব হলো যেকোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা অধস্তন জনশক্তিকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে চালনা করে । সফল নেতৃত্বের উপর একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা নির্ভর করে ।
নিম্নে নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাসমূহ আলোচনা করা হলো-
১. অনুসারিদের সাথে সহ অবস্থানঃ
নেতা ও অনুসারিদের সহ অবস্থান যোগ্য নেতৃত্বের একটি অন্যতম পুর্বশর্ত । নেতৃত্ব কৌশল যেহেতু পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত তাই পরিচালক এবং অধস্তনরা পাশাপাশি অবস্থান না করলে এরুপ কৌশল সুষ্ঠভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না ।
২. অধসত্নদের সম্পর্কে ধারণাঃ
নেতৃত্ব হলো অধস্তনদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালনা করার কৌশল । এরুপ কৌশল প্রয়োগের অধস্তনদের আবেগ , অনুভূতি ও সমস্যা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা থাকতে হবে ।
৩. পরিবেশের প্রভাবঃ
নেতা কখনই পরিবেশকে উপেক্ষা করতে পারে না । কোন বিশেষ পরিবেশেই কোন বিশেষ ব্যক্তি নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেন । একেক পরিবেশে একেক যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি নেতা বিবেচিত হন ।
৪. ক্ষমতা ও কর্তুত্বের উপস্থিতিঃ
একজন নেতার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের কারণে অধস্তনরা নেতার নির্দেশনা পালন করে থাকে ।
৫. অধস্তনদের প্রেষনা দানঃ
নেতৃত্বের সাথে উৎসাহ প্রদান ও প্রবাদকরণের যোগসূত্র রয়েছে । যোগ্য নেতা তার মোহনীয় গুণাবলির দ্বারা অধস্তনদের আকৃষ্ট করতে থাকেন ।
৬. অনুসারিদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগঃ
অধস্তনদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করা নেতার জন্য অপরিহার্য বিষয়, নেতার চিন্তা, ধ্যান ধারনা ও কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য অনুসারিদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য অনুসারিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন ।
৭. অনুসারিদের আনুগত্যঃ

নেতৃত্ব আনগত্যের সাথে সম্পর্কিত । অনুসারীদের আনুগত্য না থাকলে নেতৃত্ব কখনই সফলকাম হতে পারে না । এরুপ আনুগত্য স্বেচ্ছামূলক হোক বা বাধ্যতামূলক হোক নেতৃত্বের পক্ষে অনুসারীদের আনুগত্য লাভ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যার্জনের অপরিহার্য ।
৮. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতাঃ
নেতা যেহেতু কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন তাই তাকে কাজের দায়িত্ব ও ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয় । যেকোন নতুন উদ্যাগ গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব যেহেতু নেতৃত্বের উপর থাকে তাই যেকোন ঝুঁকির উদ্ভব হলে নেতৃত্ব তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে ।
৯. নেতৃত্ব কতিপয় গুণের সম্ষ্টিঃ
নেতৃত্বের কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের বা সংগঠনের গৃহতি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যা পরিচালনা করতে গিয়ে নেতাকে অবশ্যই কতগুলো গুণের অধিকারী হতে হয় ।
১০. উদ্দেশ্যভিত্তিক সম্পর্কঃ
নেতা তার প্রতিটি কার্য উদ্দেশ্যভিত্তিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন । স্বজনপ্রীতি পরিহার করে ন্যায় অন্যায় বিশ্লেষণ করে ন্যায়ের পথে অগ্রসর হবেন ।
১১. নেতৃত্ব শক্তির সাথে তুলনীয়ঃ

দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোন কর্মকান্ড পরিচালনার নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপুর্ণ উপাদান বা শক্তি হিসেবে কাজ করে । নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই অনুসারীরা একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয় ।

বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ

বাংলাদেশ পৃথিবীর ঘনবসিপূর্ণ দরিদ্র দেশসমূহের মধে অন্যতম একটি । ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশটির আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে সুযোগ ছিল তা সঠিক রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার অভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । স্বাধীনত্তোর কালে যে রাষ্ট্র খাতের তৈরি হয়েছিল তাও কর্তৃপক্ষীয় ব্যর্থতার কারণে দেশের আপামর জনসাধারণের তেমন কোন কল্যান সাধনে সক্ষম হয় নি ।
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ দেশটি শাষিত ও শোষিত হয়েছে ঔপনিবেশিক কায়দায়, ষাটের দশকের পূর্বে তেমন কোন শিল্পই ছিল না । ক্ষদ্রায়তন ও কুটিরশিল্পসমূহ মূলত পারিবারিক ব্যবস্থাপনা ধীরেই ড়ড়ে উঠেছিল । প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও উপ-বিভাগ খোলে কাজ করে । কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে উদ্দেশ্যার্জন ব্যাহত হয় । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা বিভাগীয় কাজগুলো সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ করে । ফলে সহজে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ অর্জিত হয় ।

ষাটের দশকে যে সকল মাঝারি ও বৃহদায়তন শিল্পকারখানা গড়ে উঠে তার ও মালিকানা ছিল মুষ্টিমেয় পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ । অধিকিন্তু ঐ সকল পরিবার যেহুতু মূলত ছিল অবাঙালি সেহেতু তাদের মালিকানাধীনে ব্যবস্থাপকীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসন হওয়া বাঙালিদের পক্ষে ছিল প্রায় অসম্ভব ।
সুতরাং স্বাধীনতা লঅভের পরপরিই অবাঙালি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অন্তর্ধানের শিল্পীয় ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় শূণ্যতার সৃষ্টি হয় । রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাত ছিল সে শ্যন্যতা পূরণের একটা বড় সুযোগ । একটি পশ্চাৎপদত দেশের শিল্পীয় ব্যবস্থাপনাও পম্চাৎপদ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনি । দীর্ঘ দিনের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণই সম্ভবত এর জন্য বেশি দায়ী ।
দীর্ধ দিনের বঞ্চনা হয়তো আমাদের হতোদম করে ফেলেছে , না হয় স্বাধীনতাত্তোর প্রায় তিন যুগেও আমরা
শিল্পোন্নয়নের পথে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেতে সক্ষম হয়নি ।
আমাদের অবশ্য মনে রাখা প্রয়েঅজন যে, আমাদের অনেক পরে স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়েও কোনো কোনো জাতি নিজেদেরকে বিশ্বদরবারে আত্মমর্যাদা হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছে । আমাদের প্রতিবেশি অনেকগুলো দেশই তো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে শিল্পোন্নয়নের পথে । তাদের উন্নয়নের মূলে যে ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা শক্তিটি কাজ কেরেছে তার অনুপস্থিতিতেই যে আমরা বেশি পেছিয়ে পরছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না ।

প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বত্র সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অনুপস্থিতি জাতীয় অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে । বস্তুতঃ ব্যবস্থাপনার সফল প্রয়োগের অভাবে আমাদের সীমিত জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্রবহার সুনিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না । ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে ঠিক তেমনি ব্যক্তি জীবনেও বাড়ে দুর্ভোগ ।
শিল্প জাতীয়করণের পদক্ষেপটি ছিল , এদেশের জনগণের দীর্ঘ দিনের আশা-আকাঙ্খারই প্রতিফলন । দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শতকরা ৮৫ ভাগের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ । যদিও যথাযথ প্রস্তুতি বাদেই এ কাজটি করা হয়েছিল , তথাপি ক্রমান্বয়ে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীদের মতানুকূল্যে ও কর্ম প্রচেষ্টায় প্রায় অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানই একটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধে্যে চলে এসছিল । কিন্তু নব্য ঔপনিবেশিক শক্তি ও তার তলপিবাহক এদেশীয় সহচর কর্তপক্ষের যৌধ চক্রান্তের ফরশ্রুতিতে এ সকল প্রতিষ্ঠানে কোন দক্ষ ব্যবস্থাপনা কাঠামো বা ব্যবস্থাপক শ্রেণী গড়ে উটতে পারে নি ।
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে পুরর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে একটি দক্ষক্ষাতে পরিণত করা কোনো কঠিন কাছ ছিল না । দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে প্রশয় না দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে সামাজিক দায়িত্ব সম্পন্ন পেমাদার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উপর যথাযথ গুরুত্বারোপ করলেই অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত অনায়াসেই ।
ব্যবস্থাপকদের কোনো আচরণবিধি তৈরি না করার এবং ব্যবস্থাপনার সকল স্তরেই জবাবদিহীতার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান সমূহ দ্রুত নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার স্বীকারে পরিণত হয় ।
প্রতিষ্ঠিত হয় লুটপাটের রাজত্ব । জনগণ বিচ্ছিন্ন সরকার সুযোগ বুঝে নাম মাত্র মূল্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তুলৈ দেয় লুটেরা পুঁজিপতিদের হাতে যাদের না আছে কোন ব্যবস্থাপনা দক্ষতা না আছে কোনো সামাজিক দায়িত্ববোধ ।

ব্যবস্থাপনা কি একটি পেশা ব্যাখ্যা কর

বর্তমানে ব্যবস্থাপনার গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে এক একটি পৃথক পেশা হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হবে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । এ প্রশ্নের সমাধান করতে হল পূর্বে জানতে হবে পেশা কি এবং পেশার উপাদানগুলো কি হতে পারে ।
সাধারণত জীবিকার্জনের জন্য বিশেষায়িত জ্ঞান সম্বলিত কোনকাজ বা বৃত্তিকে পেশা বলা যায় । পেশা অবশ্যই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যে , নৈতকিতার মানদন্ডে উন্নীত এবং আইনের দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে । কোন কাজ বা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হলে তার কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন সে সম্পর্কে অনেকেই মতামত প্রদান করেছেন ।
Kenneth R. Andrews তাঁর Toward Professionalism in Business Management নামকে প্রবন্ধে পেশার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন । এগুলো হলো-
১. নিদির্ষ্ট পেশার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত জ্ঞান ।
২/ বিশেষায়িত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ।
৩/ ব্যক্তিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ।
৪/ ব্যক্তির অনিয়ন্ত্রণ সামর্থ্য এবং
৫/ সামাজিক স্বীকৃতি ।
এছাড়া Frank B, Miller পেশার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন ।
উপরিউক্ত ব্যবস্থাপনাবিদ গনের আলোচনা থেকে বলা যায় কোন কাজ বা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে গন্য করতে হরে তার নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে ।
১. সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমাল সম্বলিত বিশেষায়িত জ্ঞান ।
২. উক্ত বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন , প্রসার ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির উপস্থিতি ।
৩. পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিণিধিত্বমূলক সংঘ বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা ।
৪. পেশা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের প্রমাণ হিসেবে সনদ লাভ এবং পেশাজীবি সংঘের সদস্য পদ লাভ ।
৫. পেশাগত আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য পেশা সংক্রান্ত বিশেষ আইন প্রণয়ন ।
৬. পেশাগত উপদেষ্টা শ্রেণীর উপস্থিতি ।
৭. সদস্যদের সাথে তাদের কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পারিশ্রমিক বা ফি নির্ধারণ ।

ব্যবস্থাপনা একটি পেশা কিনা এ ব্যঅপারে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতি কতটা রয়েছে তা দেখো প্রয়োজন । এ ক্ষেত্রে দেখা যায় কতগুলো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে ও আবার কতকগুলো অনুপস্থিত । নিচে পেশার সাথে সামঞ্জস্যপুল।ণ ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো ।
১. ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সুসংবদ্ধগুলোর ব্যাপক প্রসারঃ
ব্যাপক প্রসার বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে ব্যবস্তাপনার বিষয়ে জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে । আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা অর্নাস ও মাস্টার্স ডিগ্রী পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সুসংবদ্ধ পাঠদান করা হয় । এছাড়া BBA, MBA কোর্সে ও এটি পড়ানো হয় । এ ক্ষেত্রে বিভিন্নি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, BIM, IPM, BIBM ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যপক ভূমিকা রাখছে । এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রশাসন হিসেবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
২. ব্যবস্থাপনার সঙ্গা ও সংস্থা প্রতিষ্ঠাঃ
বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে ব্যবস্থানা বিষয়ে বিভিন্ন সংঘ ও সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ।
American Management Association (AMA), American Bankers Association (ABA), National Office Managemment Association, National Sales Executive Incorporation ইত্যাদি সংস্থার নাম এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযো্য । কেবল ব্যবস্থাপকগণই এ ধরনের সংঘের সদস্য পদ লাভ করতে পারে ।
৩. পেশাদার উপদেষ্টা শ্রেণীর উপস্থিতি
অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা , বিশ্বাবিদ্রঅয়ের শিক্ষক, প্রকৌশরী, ডাক্তার ইত্যাদি উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তি পরামর্শক হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার ফলে ব্যবস্থাপনাকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করার বিকাশ দেখা দিচ্ছে ।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবস্থাপনাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্তাপন করা সম্ভব হলেও বাস্তবিক পক্ষে আইন ব্যবসায় , চিকিৎসা , স্থাপত্য ,চাটার্ড একাউন্টেন্ট ইত্যাদি পেশার ন্যায় ব্যবস্থাপনা এখনো্ বিশেষ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পার নি । কারণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান এখনো পেশার মত বিশেষ জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি । ব্যবস্থাপকদের স্বার্থ রক্ষার্থে কোন একক সংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি । ব্যবস্থাপকদের জন্য স্বতন্ত্র আচরণবিধি প্রণীত হয়নি ।
তাই ব্যবস্থাপনাকে এখনো পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হয় না । তবে ভবিষ্যতে সকল বাধা অতিক্রম করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থাপনা পূর্নাঙ্গ পেশা হিসেবে মর্যাদা লাভ করবে বলে আশা করা যায় ।

ব্যবস্থাপনার নীতির গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ব্যবস্থাপনার নীতি হলো কোনো ব্যবস্থাপনা চিন্তা বা কাজের বিষেয়ে প্রতিষ্ঠিত মৌলিক বক্তব্য, বিকৃতি বা সত্য ভাবনা, বিচার- বিশ্ণেষণ ও গবেষনা করে ব্যবস্থঅনপার কতিপয় ও নীতি উদ্ভাবন করেন । এ সকল নীতির উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থাপককে কাজ করতে হয় । ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সঠিক ও নির্ভূলভাবে সম্পাদন করা সম্ভ হয় । কাজেই প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সম্পাদনে ব্যবস্থপনা নীতির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।
১. দক্ষতা বৃদ্ধিঃ
কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিও অনেকাংশে সুষ্ঠূ নীতিমালার উপর নির্ভর করে । সুষ্ঠূ নীতিমালা অনুযারী ব্যবস্থাপনা যে কর্মী যে কাজে দক্ষ তাকে সেই কাজ দেয় । এতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রত্যেকে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারে । ফলে দক্ষতার সাথে কার্যসম্পাদন সম্ভব হয় ।
২. কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিঃ
সুষ্ঠূ নীতিমালা ছাড়া প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয় না । কারণ এর অভোবে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, সন্দেহ, অবিশ্বাস, ধীরগতি, আলস্য, অবাধ্যতা ইত্যাদি বিরাজ করে । আর এজন্যই প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে কার্যকর নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন ।
৩. প্রতিযোগীতায় সাফল্য অর্জনঃ
নিয়ম-নীতির প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ ও নিয়েম-নীতি মেনে চলার প্রতি ঐকান্তিক আগ্রহ প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য অপরিহার্য । এজন্য তীব্র প্রতিযোগীতামূলক কারবারি জগতে সফলতা অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠূ চিন্তাভাবনার আলোকে যথাযথ উদ্যোগ ও কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হতে হয় ।
এক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা অনুসরণ অনেকাংশে সহযোগিতা করে ।
৪. শ্রম-ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক উন্নয়নঃ
প্র্রতিষ্ঠানে উত্তম শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠ নীতিমালা কার্যকর ফল দেয় । প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা থাকলে ব্যবস্থাপনার সকল কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদিত হয় । ন্যায্য পারিশ্রমিক ও ন্যায় – পরায়ণতার নীতি অনুসরণের ফলে শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক উন্নত হয় ।
৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তাঃ
সুষ্ঠু নীতমিালা ব্যবস্থাপকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহয়তা করে । ভবিষ্যত্বে কোন ধরনের কর্মসূচি গ্রহন করা হবে , কোন কাজ কিভাবে সম্পাদন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিমালা সহয়াতা কর । যেমন- প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পদোন্নতি দেয়া হবে বা পদোন্নতির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা হবে তা যদি পুর্ব থেকেই নির্ধারিত থাকে তবে উর্ধ্বতনদের সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হয় না ।
৬. অনুকুল মনোভাব প্রদর্শনঃ
সুষ্ঠ নীতিমালা কর্মীদের অনুকূল মনোভাব সৃষ্টিতে সাহায্য করে । সাম্য নীতির আলোকে ব্যবস্থাপক সকল কর্মীদের সমান দৃষ্টিতে দেখে । ফলে শ্রমিক-কর্মীরা শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সহকারে ব্যবস্থাপনার প্র্রতি উত্তম মনোভাব প্রদর্শন করে ।
৭. জীবনযাত্রার মানোন্নয়নঃ
প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠ নীতিমালা না থাকলে শ্রমিক-কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় না । যদি পারিশ্রমিক নীতির আওতায় কাজের প্রকৃতি , সময়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচেনা করে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয় তাহলে শ্রমিক-কর্মীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত হয় । এর ফলে অর্জিত অর্থ দ্বারা শ্রমিকেরা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে পারে ।
৮. কার্যভার লাঘবঃ
কার্যভার লাভবের ক্ষেত্রে ও সুষ্ঠ নীতিমালা ব্যবস্থাপকদের্ সহয়াত প্রদান করে । নীতিমালা যদি পূর্বনির্ধারিত থাকে তাহলে ব্যবস্থাপকদের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হয় । অধীনস্থ কর্মীরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সহজে বুঝতে সক্ষম হয় এবং দক্ষতার সাথে কার্যসম্পাদন করতে পারে ।
৯. উৎসাহ বৃদ্ধিঃ
প্রতিষ্ঠানে সকল পর্যায়ে সুষ্ঠ নীতিমালা থাকলে কর্মীরা তার আলোকে কাজ করতে উৎসাহ পায় । চাকরির স্থায়িত্ব নীতির কারণে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মীরা মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকে । এত তারা নিরাপদে কাজ করতে পারে । ফলে তারা দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে কার্যসম্পাদনে উৎসাহিত হয় ।
১০. গবেষনা ও উন্নয়নঃ
গবেষনার সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য নীতিমালা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ । গবেষণা কার্য সফলভাবে সম্পাদনের জন্য তথ্য সংঘ্রহ করা আবশ্যক । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবারাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনা করা সম্ভব হয় ।
উপরিউক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ব্যবস্থাপনার নীতি সহায়তা করে । তাই সহজে ও সুষ্ঠভাবে কার্য সম্পাদনের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ অনুসরণ করা প্রয়োজন ।

ব্যবস্থাপনার আওতা বা বিষয়বস্তু

ব্যবস্থাপনার আওতা বা পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও সর্বব্যাপী । তাই যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং এর অন্তর্গত বিভিন্ন বিভাগরে প্রতিটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব বা পদচারণা লক্ষ করা যায় ।
নিম্নে বিভিন্ন দিক থেকে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র বা পরিধি আলোচনা করা হলোঃ
(ক) কার্যাবলির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ কার্যাবলির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার আওতা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত । যথাঃ
১. অফিস ব্যবস্থাপনাঃ
পরিকল্পিত উপায়ে কার্যাবলির মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা, অফিসের সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ , অফিসে নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বন্টন এবং নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করারকে অফিস ব্যবস্থাপনা বলে ।
এক্ষেত্রে অফিস ব্যবস্থঅপনা অফিসের সকল মানবিক এবং অমানবিক উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে । এত সহজে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষার্জন করা সম্ভবপর হয় ।
১. কারখানা ব্যবস্থাপনাঃ
কারখানা ব্যবস্থাপনার আওতায় কি কি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা হবে, উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কোথা হতে সংগ্রত করা হবে, কারখানা বিন্যাস কীরুপ হবে এবং উৎপাদিত পণ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হবে ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ।
৩. বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনাঃ
ব্যবস্থাপনা কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাঁছামাল রুপান্তরের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে । অতঃপর উৎপাদিত পণ্য ত্রেতা ও ভোক্তার নিকট সরবরাহ করে । এক্ষেত্রে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরন , পণ্য প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচান , বন্টন প্রণালি নির্ধারন , প্যাকেজিং গুদামজাতকরণ ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে থাকে ।
৪. শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনাঃ
ব্যবস্থঅপার যে অংশ প্রাথমিকভাবে সংগঠনের মানবিক উপাদানের সাথে সংশ্লিষ্ট তাকে শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনা বলে । ব্যবস্থাপনার একটি শাখা হিসেবে শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ , নির্বাচন ও প্রশিক্ষন প্রদান পদোন্নতি বদলি ইত্যাদির কাজ সম্পাাদন করে ।
৫. আর্থিক ব্যবস্থাপনাঃ
এক্ষেত্রে প্রয়োজন নির্ধারন করে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করে । তাাছাড়া বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতি প্রয়োগ করে অর্থের উৎস নির্ধারন , অর্থ সংগ্রহ এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যয়ের পদ্ধতি নির্ধারন করে থাকে । অধিকিন্তু আর্থিক ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিকল্পনা অনুযারি অর্থ ব্যয়ের জন্য হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা । এতে অর্থের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয় ।
(খ) স্তরের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামো বিশ্লেষণ করলৈ চারটি স্তর লক্ষ করা যায়। যথাঃ
১. উচ্চ স্তর ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠনিক কাঠামোর যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারন, কর্মসূচি গ্রহণ , নির্দেশনাদান ও নিয়ন্ত্রনের কাজে জড়িত থাকে তাকে উচ্চ স্তর বলে । এ স্তরে সাধারণত পরিচালক পর্ষদ, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, ব্যবস্থাপক পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক প্রমুখ ব্যবস্তাপনা কার্যাবলি সম্পাদন করেন ।
২. উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থাপনাঃ
উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনার সন্নিকটে যারা অবস্তান করেন তাদেরকে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থাপনা বলে । উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থানা বিক্রয়, উৎপাদন, অর্থ ও হিসাব , গবেষণা ইত্যাদি কাজ করেন । যেমন- ডি. জি. এম. জেনারেল ম্যানেজার বা জি. এম. প্রমুখ ।
৩. মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠনিক কাঠামোর যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ নিম্নস্তরে নিয়োজিত কর্মীদের কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করেন তাকে মধ্যম স্তর বলে । মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপকেরা উচ্চ স্তরের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও নীতি অনুযারী উদ্দেশ্যের আলোকে কাজ করেন ।
৪. নিম্ন স্তর ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠিক কাঠামোর যে স্তরে তত্ত্বাবধায়কগণ সরাসরি ম্রমিক-কর্মীদের সাথে জড়িতি থাকে তাকে নিম্ন স্তরে বলে । যেমন- চেয়ারম্যান, সুপারভাইজার । নিম্ন স্তরের ব্যবস্থাপকরে কাজগুলো শ্রমিক-কর্মীদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হয় । তাই সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরির কাজ এ ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত থাকে ।
(গ) সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ
সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যবস্থপনা ব্যাপক পরিসরে কাজ করে থাকে । যথাঃ
১. কারবার পরিচালনাঃ
প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ সম্পাদন নিশ্চিত করাকে কারবার পরিচালনা বরে । ব্যবস্থাপনা পরিচালনা প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মীসংস্থান , নির্দেশনা দান, সমন্বয়সাধন, প্রেষনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করে । ফলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বা সেবা পরিবেশন করা সম্ভবপর হয় ।
২. নির্বাহী ব্যবস্থাপনাঃ
একটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক ব্যবস্থঅপক নিয়োজিত থাকেন । তাই প্রত্যেক নির্বাহীর কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকল্পে সমন্বয়সাধন করতে হয় । এক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা বা পরামর্শ দান করে নির্বাহীদের কার্যাবলি তত্ত্বাবধান বা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ।
৩. ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবনঃ
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ব্যবস্থাপনা ব্যাপক প্র্রভাববিস্তার করে । এক্ষেত্রে ব্যবস্তাপনার নীতি পদ্ধতি মানুষের জীবনের বিলাসবহুল ও জীবনযাপন বৃদ্ধি করে সুখ – শান্তি দান করে । এত মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সুন্দর ‍ সুখী হয় ।

ব্যবস্থাপনার সঙ্গা প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য

সংঘবদ্ধ মানবজীবনে ব্যবস্থঅপনা একটি অতি গুরত্বপূর্ণ বিষয় । সামষ্টিক প্রছেস্টা যেকানে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব ও উপস্থিতি ও সেখানে বিদ্যমান । কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য জনশক্তি ও অন্যান্য বস্তুগত উপাদান , যেমন , যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল , অর্থ, পদ্ধতি ও জায়গা প্রয়োজন হয় ।

ব্যবস্থাপনা সঙ্গাঃ
উপকরণসমূহের সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশ্য পরিকল্পনা, প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, সমন্বয় , প্রেষনা ও নিয়ন্ত্রনের মানবীয় প্রচেষ্টাকে ব্যবস্থাপনা বলে ।
ইংরেজি Management শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো to handle অর্থাৎ চালনা করা বা পরিচালান । এই পরিচালানর সঙ্গে মানব যেমন সম্পৃক্ত তেমনি অন্যান্য উপায় উপরন ও জড়িত । এগুলো পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপকের কাজকে ব্যবস্থাপনা বলে ।
নিম্নে ব্যবস্থাপনসার কয়েকটি জনপ্রিয় সঙ্গা উল্লেখ করা হলো
L.A.Allen এর মতে , ব্যবস্থাপক যা করেন তাই ব্যবস্থাপনা । management is what a manager does
জর্জ আর টেরীর মতে, মানুষ ও অন্যান্য সম্পদ সমূহ ব্যবহারের মাধ্রমে যে প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারন ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা , সংগঠন কর্মীদের উৎসাহিতকরণ ও নিয়ন্ত্রন কার্যাবলি সম্পাদন করা হয় তাকে ব্যবস্থাপনা বলে ।
Peter Dracker এর মতে , ব্যবস্থাপনা হলো বহুবিধ উদ্দেশ্য অর্জনকারী এমন যন্ত্র যা ব্যবসায় পরিচালনা করে ।
আমেরিকার ব্যবস্থাপনা সমিতিরি সঙ্গানুযারি, মানুষ উদ্যম সংগঠিত ও পরিচালিত করার মাধ্রমে প্রাথমিক মক্তি সম্পদগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে মানবকুলর কল্যান সাধনে নিয়োজিত করার বিজ্ঞান বা কলাকে ব্যবস্থাপনা বলে ।
ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের পুর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্য দক্ষ ও কার্যকরভাবে অর্জনের জন্য উপায় উপকরণের যথাযথ ব্যবহার কল্পে পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা , প্রেষনা সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রনের সামাজিক প্রক্রিয় ।

ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনেও এত নিয়োজিত জনশক্তি ও উপায় উপরকরণের কার্যকর ব্যবহারে ব্যবস্থাপনা হরেঅ একটি অতি অপরিহার্য সামাজিক প্রক্রিয়া । প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও প্রকৃতির ভিন্নতার কারণে ব্যবস্থাপনার কতিপয় সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় । নিম্নে এরুপ বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো ।
১. প্রক্রিয়া বা কাজের সমাহারঃ
ব্যবস্থপনা হরো কতিপয় ধারাবাহিক কর্ম সমস্টি বা কর্ম প্রক্রিয়া । Stoner ও অন্যান্যদের মতে Prosexx means a systematic method of handling activitics . অর্থাৎ প্রক্রিয়া হলো কর্ম সম্পপাদন বা কর্ম পরিচালনার প্রনালিবদ্ধ পদ্ধতি বিশেষ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সংগঠন কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা , প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়েন্ত্রণ কার্যাদি পরস্পর সম্পর্ক রেখে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হয় ।
২. সামাজিক প্রক্রিয়া বা কার্যক্রমঃ
ব্যবস্থাপনা একটি প্রক্রিয়া এবং সেই সঙ্গে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া । কারণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জনশক্তিতে সংঘবদ্ধ করে তাদেরকে সমাজবদ্ধ করে , পারষ্পরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে পরস্পর সহযোগী করে তোলে এবং প্রত্যেকের পৃথক কর্মপ্রায়সকে সমন্বিত করে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম করে তোলে ।
৩. লক্ষ্য অর্জনের উপায়ঃ
যেকোনো সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মূলে একটা লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ক্রিয়াশীল থাকে । আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্যই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয় । এ কারণেই বিভিন্ন লেখক ব্যবস্থাপনাকে লক্ষ্যার্জনের উপায় হিসেবে গণ্য করেছেন ।
৪. কাজ আদায়ের কৌশলঃ
প্রতিষ্ঠঅনে নেয়োজিত উপায় উপকরণের কার্যকর ব্যবহারের প্রতি ব্যবস্থপনা গুরত্বারোপ করে । আর এজন্য ব্যবস্থাপনা সবসময় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনশক্তির কাছ থেকে যথাযথ কাজ আদায়ে সচেষ্ট থাকে ।
ব্যবস্থাপনার সকল কর্ম প্রচেষ্টাই জনমক্তির কাছ থেকে যথাযথ কাজ আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত হয় ।
৫. দলীল কর্ম প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ততাঃ
যেকোনো দলীয় কর্ম প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা অত্রন্ত গুরত্বপুর্ণ বিবেচিত হয় । ব্যক্তি যখন একলা কোনোকিছু পাওয়ার জন্য প্রয়াস চালায় তখন ব্যবস্থাপনা বলে সেখোনে কিছুই থাকে না । যখন এরুপ প্রচেষ্টার অনেক লোক একত্রে কাজ করে তখন স্বাভাবিকভাবে সংগঠন প্রতিষ্ঠা লাভ করে ও এর পরিচালনার জন্য ব্যব্স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে ।
৬. মানবীয় কর্মপ্রয়াসঃ
প্রতি্ষ্ঠানে নিয়োজিত উপায় উপকরণের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্য ব্যবস্থাপনা মানবীয় কর্ম প্রয়াসের সঙ্গে সম্পৃক্ত । ব্যবস্থাপনা কার্য যারা পরিচালনা করেন তাদের কে ব্যবস্থাপক বলে । প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে চিন্তনীয় ও করণীয় উভয় ধরনের কর্মপ্রয়াস পরিচালনা করেন । আর এরুপ মানবয়ি প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতেই প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয় ।