প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যসমূহ

প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি কর্মীর অবহিতকরণ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত যা কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের নীতির পদ্ধতি ও কার্যদক্ষতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হয় ।

প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন একটি পরস্পর সম্পর্কিত বিষয় এবং একটি অন্যটির পরিপূরক ।

নিম্নে প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যসমূহ আলাকপাত করা হলোঃ

১. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণাঃ

প্রশিক্ষণের অতি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত করানো । এর ফলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের রীতি-নীত, কার্যসম্পাদনের কৌশল, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয় ।

২. মনোভাব পরিবর্তনঃ

প্রশিক্ষণ কর্মীর মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করে । প্রকৃতপক্ষে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীর মনোভাবের ঋণাত্মক পরিবর্তিত হয় ।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাঃ এর মাধ্যমে কর্মীদের এমনভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়, যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত পরিকল্পনা মানব সম্পদ পরিকল্পনা সঠিক কার্যকরভাবে প্রণয়ন করতে পারে । যার ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ অর্জন হয় ।

৪. মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিঃ কর্মীকে কার্যক্ষেত্রে পারদর্শী করে তোলায় প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । যার ফলে কর্মসম্পাদনে অন্যর তদারকির কোনো প্রয়োজন হয় না । ফলে তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় ।

৫. লক্ষ অর্জনঃ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো লক্ষ অর্জন করা , কারণ এর সাথে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ও সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয় ।

৬. সময় জ্ঞানঃ প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মীদের সময় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয় । যার ফলে কর্মীরা যথাসময়ে কার্যাদি সম্পূর্ণ করতে পারে  এবং প্রতিষ্ঠনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় ।

৭. অপচয় হ্রাসঃ প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয় । ফলে অপচয় অনেকাংশে কমে যায় ।

৮. সামাজিক উন্নয়নঃ কর্মীদের তাত্ত্বিক ও কারিগরি ভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ফলে তারা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে । যার প্রভাব সমাজে পরিলক্ষিত হয় ।

অতএব বলা যায় যে, প্রশিক্ষন ও উন্নয়ন উপরের লক্ষ্যগুলো সাধন করে থাকে । যা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্যঃ

প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রায়ই এক এবং অভিন্ন মনে হয় । কিন্তু এ দুটি বিষয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে তা তুলে ধরা হলো-

পার্থক্যর বিষয়প্রশিক্ষণউন্নয়ন
১. সংজ্ঞাঃকোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করার জন্য মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার নাম প্রশিক্ষণ ।উন্নয়ন বলতে বোয়ায় একজন ব্যবস্থাপকের বা নির্বাহীদের এবং কর্মীদের সার্বিক উন্নয়ন ।
২. ফলাফলঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনেকটা কার্যভিত্তিক  এবং প্রশিক্ষণ হতে প্রাপ্ত ফলাফল খুব দ্রত আশা করা যায় ।উন্নয়ন অর্থ হচ্ছে সূদরপ্রসারি ফলাফল , অর্থাৎ নিকট ভবিষ্যৎ কিছু আশা করা যায় না ।
৩. উন্নয়নঃপ্রশিক্ষন বলতে সর্বস্তরের কর্মীর উন্নয়নকে বোখায় এখানে একজন মেশিনম্যান যেমন অন্তুর্ভুক্ত হতে পারে তেমন ব্যবস্থাপক ও হতে পারে ।উন্নয়ন মূলত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বা নির্বাহী উন্নয়নকে বোঝায় সমগ্র সংগঠনের স্বার্থ এখানে জড়িত ।
৪. প্রশিক্ষণঃকর্মী উন্নয়নে সাধারণত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় ।নির্বাহী উন্নয়নে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়  ।

প্রশিক্ষন ও মনোবলের মধ্য সম্পর্কঃ

সাধারণত মনোবল বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তির দৃঢ় মানসিক অবস্থাকে । কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কর্মী যখন তার দৃঢ়তা, বিশ্বাস, সামর্থ্য ও  ঐচ্ছিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যায় তখন সে অবস্থাকে মনোবল বুঝায় । আর একটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের মধ্যে কর্মীর দক্ষতা , মনোবল , ক্ষমতা যাচাই করা যায় । মনোবল মনস্তাত্ত্বিক ধারণার সাথে সম্পৃক্ত । শিল্প প্রতিষ্ঠানে মনোবল কর্মীদের কাজের প্রতি সকল ধরনের মানসিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করে । আবার শিল্পে নিয়োজিত সকল শ্রেণীর কর্মীর কার্য সন্তুষ্টি ও প্রেষণার সাথে সম্পৃক্ত । কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগদানের পর কর্মীকে দক্ষ ও পারদর্শিতা করে তোলার জন্য কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । যাতে করে একজন কর্মী তার নিজস্ব মনোবল ও দৃঢ়তা নিয়ে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে । যেমন- উচ্চ মনোবলের অধিকারি কর্মীগণ কাজের প্রতি অত্যাধিক মনোযোগী হয় ।  অন্যদিকে নিম্ন মনোবলের কর্মিগণ কাজের প্রতি অনিচ্ছা ও অনাগ্রহ প্রকাশ করে । সুতরাং বলা যায় কর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই কর্মীর অভ্যন্তরীণ মানসিক অবস্থা যা কর্মীর কাজের প্রতি ইচ্ছা ও অনিইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ।

শিক্ষা

কোনো বিষয় সম্পর্কে সাধারণ ও ব্যাপক দান করাকে শিক্ষা বলে । শিক্ষা মানুষের চিন্তা ও মননশীলতার নৈপূন্য বৃদ্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের পরিধি , চিন্তার পরিধি, বিচার বুদ্ধির পরিধি বিস্তৃত করতে সক্ষম হয় । শিক্ষা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি  এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে । শিক্ষা হলো সঠিক জ্ঞান আহরণের একটি প্রক্রিয়া ।

প্রশিক্ষনের সুবিধা , প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ ও প্রেষণার মধ্য সম্পর্ক এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পার্থক্য

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি কর্মী প্রশিক্ষণ থেকে নিজে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ না দেখায় অথবা প্রশিক্ষণ থেকে নিজে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ না দেখায় অথবা প্রশিক্ষণ গ্রহণের সামর্থ্য না থাকে ।
সামর্থ্যের বিচার করতে গেলে কর্মীদের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণের পাশাপাশি পঠন, গাণিতিক যুক্তি লিখিতে পারার যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকাটা প্রয়োজন । কর্মী নিয়োগের সময় কর্মীদের এসব প্রাথমিক দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত ।
কর্মীদের শিক্ষণ যোগ্যতা বাড়াতে এবং প্রেষণা দিতে নিয়োগতাতা প্রতিষ্ঠান কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে । যেমন- নগরে গাড়ি চালকদের
দূর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করতে চাইলে সাধারণ ভাবে সতর্ক করার চাইতে সচিত্র গ্রাফিক্সের মাধ্যমে দেখালে বেশি কার্যকর হয় ।
কর্মীর প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত প্রেষণা বিষয়গুলোকে নিম্নরুপে উপস্থাপন করা যায় ।
(ক) শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে । এজন্য যা করা দরকার ।
১. প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রশিক্ষণের সব উপকরণ কৌশল সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা দিতে হবে কর্মীদের এগুলো শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে তাও জানাতে হবে ।
২. পরিচিত বিভিন্ন উদাহরণ টানতে হবে ।
৩. তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং যুক্তিসহকারে উপস্থাপন করতে হবে ।
৪. শব্দ ও অলংকার ব্যবহার হবে যেগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে পরিচিত ।
৫. যতটা সম্ভব ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখাতে হবে।
(খ) দক্ষতা প্রতিস্থাপন সহজ করতে সহজে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র থেকে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও আচরণ যতটা যায় সহজ করতে হবে । এজন্য যা করা দরকার-
১. প্রশিক্ষণ ও কাজের পরিবেশে যতটা পারা যায় মিল রাখতে হবে ।
২. পর্যাপ্ত অনুশীলনেরর সুযোগ ।
৩. যন্ত্রের বা প্রক্রিয়ার প্রতিটি অংশ ও স্তর সম্পর্কে পরিচিতিমূলক জ্ঞান দিতে হবে ।
৪. কাজের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দিতে হবে ।
৫. কাজ করতে দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে বিকল্প কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে , বা অতিরিক্ত কাজের চাপ সম্পর্কে আগাম ধারণা দিলে কর্মীরা প্রশিক্ষণের সময় বিষয়টি সহজভাবে নেয় ।

উপরিউক্ত শর্ত ও পরামর্শ পূরণ করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থী শেখার মনোযোগী হবে এবং প্রেষণা পারে । অর্থাঃ সঠিক উপায়ে প্রেষণা দিতে পারলে কর্মীর শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে এবং অর্থবহ হবে ।
প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্য
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে । নিম্নে সেগুলো দেখানো হলো-

পার্থক্যর বিষয়প্রশিক্ষণব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
১. সঙ্গাআচরণের উন্নতি সাধন করার প্রক্রিয়াকে প্রশিক্ষণ বলে ।অপরদিকে ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নির্বাহীদেরকে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ করার প্রক্রিয়া ।
২. মেয়াদ কালঃপ্রশিক্ষণ হচ্ছে একটি স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া ।
৩. উদ্দেশ্যঃমেধাবি মানব সম্পদ সৃষ্টির প্রয়াস এর মূল উদ্দেশ্য । প্রতিষ্ঠানের  নির্বাহীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করার কৌশল বৃদ্ধি করাই এর মূল উদ্দেশ্য ।
৪. ভূমিকাঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাধারণত শিক্ষা প্রক্রিয়ার সহায়ক ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সহায়ক ।
৫. ফলাফলঃপ্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হয় ।ব্যবস্থাপনা  উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকগণ ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ধারণা অর্জনে সক্ষম হয় ।
সংশ্লিষ্টতাঃপ্রশিক্ষণ সাধারণত নিম্নপদ্স্থ কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক নির্বাহীদের সাথে সম্পর্কিত ।

অতএব বলা যায় , প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পার্থক্য থাকলে ও  এদের গুরুত্ব অনেক ।

প্রশিক্ষনের সুবিধাঃ
প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য যদি ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন হয় তাহলে এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হলো প্রশিক্ষণ । আবার কর্মী প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত ফল যদি ও প্রতিষ্ঠান ভোগ করে , প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কর্মীরাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হয় । নিম্নে প্রশিক্ষনের সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলোঃ
১. প্রশিক্ষনের ফলে কর্মীদের মনোবল বাড়ে, সেই সাথে কার্যসন্তুষ্টি ও উল্লেখ যোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায় ।
২. কর্মীদের প্রেষণা বৃদ্ধি পায় ।
৩. উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মীদের দক্ষথা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন-মজুরি ও বৃদ্ধি পায় ।
৪. নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরী হয় ।
৫. শ্রম ঘূর্ণায়মান হ্রাস পায় ।
৬. নৈতিকতা প্রশিক্ষন, যৌন হয়রানি রোধ ভা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায় ।
৭. ভারি যন্ত্রপাতি, ছবি ও বিপজ্জনক রাসায়নিক সংস্পর্শে না এসে নিরাপদে কর্ম সম্পাদনের দক্ষতা অর্জন হয় প্রশিক্ষনের্ মাধ্যমে ।
৮. প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বাহিনীর সৃষ্টি হয় যারা ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনে অবদান রাখেন । এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনামে বৃদ্ধি পায় ।
৯. প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উজ্জীবিত কর্মী বাহিনীর ফলাফল সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে রাখা ।
১০. ইতবাচক প্রশিক্ষনের ফলে যেহেতু কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের ক্রমাগত পরিবর্তন হয় , ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানে দুটিই তথ্য প্রযুক্তিতে হালনাগাদ থাকে ।
উপরের আলোচনায় এটা মনে হতেই পারে যে, প্রশক্ষণে কর্মীরা বেশি উপকৃত হয় । কিন্তু প্রশিক্ষণে বিনিয়োগটা করতে হয় কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে । আর যেহেতু বিনিয়োগ বলা হচ্ছে , প্রতিষ্ঠান নিশ্চয়ই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পায় ও প্রশিক্ষণের চুড়ান্ত লক্ষ্য ও তাই ।

প্রশিক্ষণের সুবিধা ও মূলনীতি

প্রশিক্ষণের সুবিধা
সঠিকভাবে প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ একজন কর্মীকে তার কাজে অভিজ্ঞ করে তোলে । ফেলে যে নিখুঁতভাবে দ্রুত কার্য সম্পাদন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্খিত লক্ষ অর্জন করতে সক্ষম হয় ।
প্রশিক্ষণ হতে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
১. মনোবল বৃদ্ধিঃ প্রশিক্ষণ ও কার্য সম্পাদনের ফলে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস তৈরির পাশাপাশি মনোবল বৃদ্ধি পায় । এবং তারা অধিক মনোবলসহ কার্যসম্পাদন করতে হয় ।
২. সময় সম্পর্কে সচেতনঃ কর্মীরা যদি যথাসময়ে তাদের কার্যাবলি সম্পাদন করতে না পারে তাহলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় । তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের যথাসময়ে কার্য সম্পাদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা যায় ।
৩. মনোভাব পরিবর্তনঃ প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের মনোভাবে ইতিবাচক দিক পরিলক্ষিত হয় । ফলে কর্মীরা সহজেই এক অন্যকে বুঝতে পারে । এতে কর্মীর এবং প্রতিষ্ঠানের উভয়ের লাভ হয় ।
৪. কঠিন কার্য সম্পাদনঃ প্রশিক্ষনের মাধ্যেমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এমনভাবে দক্ষ করে তোলা হয়, যাতে তারা অনেক জটিল কাজ ও খুব সহজে সম্পাদন করতে সক্ষম হয় । ফলে প্রশিক্ষণ এক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে ।
৫. জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিঃ সঠিকভাবে কার্য সম্পাদনের ফলে কর্মীদের পদোন্নতি হয় । ফলে তাদের আয় বৃদ্ধি পায় । আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের ভোগের মাত্রা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় । সর্বোপরি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় ।

প্রশিক্ষণগত সুবিধা অনেক । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীকে দক্ষ করে তুলে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় । তাই বলা যায় , প্রশিক্ষনের গুরত্ব অপরিসীম ।

প্রশিক্ষণের মূলনীতি
শিক্ষা তত্ত্বই প্রশিক্ষনের মূলভিত্তি । প্রশিক্ষণে শিক্ষণ তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয় । গবেষনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের কতগুলো নীতমালা উদ্ভাবন হয় । গবেষণালগ্ন এ নীতিগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মীদের জ্ঞান দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং মনোভাব পরিবর্তন হয় ।
১. প্রেষণাঃ প্রেষণা মানুষের চালিকা শক্তি অনুপ্রাণিত করলে প্রশিক্ষণ সুষ্ঠ ও দ্রুত সম্পন্ন হয় । নতুন কর্মীকে তার কাজটি শেখার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে । পুরনো কর্মীকে প্রশিক্ষণ এবং বেতন বৃদ্ধি করতে হবে পদোন্নতি প্রভৃতির সাথে সম্পর্কিত হলে প্রশিক্ষণে আগ্রহ সৃষ্টি হবে ।
২. শিক্ষার্থীর ক্ষমতাঃ প্রশিক্ষণকে কার্যকর করার জন্য শিক্ষা যার ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত গুণাবলি বিবেচনা করতে হবে । কেননা ব্যক্তির বুদ্ধি বয়স আগ্রহ প্রভৃতির সাথে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির একটি সম্পর্ক রয়েছে ।

৩. অগ্রগতি প্রতিবেদনঃ প্রশিক্ষণের ফলপ্রসূতার অন্যতম শর্ত হরেঅ শিক্ষার্থীকে তার অগ্রগতি জানতে দেওয়া , শিক্ষার অগ্রগতি একদিকে যেমন প্রশিক্ষনের জন্য প্রয়োজন তেমনি শিক্ষার্থী ও এর মাধ্যমে ভূলক্রটি সংশোধন করতে সক্ষম হয় ।
৪. কার্যকর অনুশীলনঃ দক্ষতা অর্জন বা মনোভাব পরিবর্তনের কার্যকর অনুশীলন প্রয়োজন , কথায় বলে আমরা কাজ করে শিখি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীকে হাতে কলমে কাজটি করতে হয় ।
৫. ব্যাক্তিত্বের পার্থক্যঃ প্রত্যেক মানুষ ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির । প্রতিটি মানুষের মূল্যবোধ , আবেগ , মনোভাব, বুদ্ধিমত্তা , ব্যক্তিত্ব ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে । তাছাড়া প্রত্যেক উত্তরাধিকার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও ভিন্ন । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগুলো সমন্বয় করা যায় ।
৬. সামগ্রিক বনাম আংশিকঃ এক সাথে সম্পূর্ণ না আংশিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তা কাজের উপর নির্ভর করে । দীর্ঘ ও জটিল বিষয়গুলো বিভিন্ন অংশে বিভাজন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সার্বিক দক্ষতা জাগ্রত হয় ।
৭. স্পষ্টতাঃ প্রশিক্ষনের বিষয়বস্তু যতটা সম্ভব স্পষ্ট ও সুনিদিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয় । বিষয়বস্তু স্পষ্টতা প্রশিক্ষণের জন্য অপরিহার্য এতে প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে সার্বিক দক্ষতা সবকিছু দক্ষতা জাগ্রত হয় ।
৮. বোধ্যতাঃপ্রশিক্ষনের বিষয়বস্তু সবসময় সহজ হতে হবে । অসংগঠিত বিষয় মানুষের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করে না । উপস্থাপনের গুণে অনেক জটিল বিষয় সহজ হয়ে ওঠে েএবং উপস্থাপন ভালো না হলে জটিল হয় ।
৯. প্রয়োগ অবস্থার সাথে মিলঃ প্রশিক্ষণ বাস্তবধর্মী হওয়া উচিত । এ অবস্থা সমগ্র প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের নিকট অর্থবহ করে তোলে ।
১০. সহযোগীতাঃ সহযোহিতা ও আন্তরিকতা পূর্ণ পরিবেশে প্রশিক্ষণ দিতে হবে । অনেকসময় তারা সহজে সবকিছু বুঝতে পারে না । মনে রাখা দরকার শিক্ষার্থী যদি সহযোগিতার পরিবেশ না পায় তাহলে শিক্ষা/ কাজের প্রতি আগ্রহ থাকবে না ।
১১. ধারাবাহিকতাঃ প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে । কারণ পরিবেশ ও পরিবর্তন এবং কর্মীকৈ এই পরিবর্তনশীলতার মধ্যে কাজ করতে হয় । অনেক সময় দেখা যায় আগের প্রশিক্ষণ আর কাজে আসে না । তখন নতুন সমস্যা বিষয়ে নুতন করে প্রশিক্ষণ দিতে হয় ।
১২.অনুবর্তনঃ সব ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ান্তে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন । এতে প্রশিক্ষণের ক্রটি বিচ্যুতি পরিহার করা যায় । এর ফলে প্রশিক্ষণ সফল হয় এবং শিক্ষার্থী আর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে ।
উপরিউক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা হলে প্রশিক্ষণকে অধিকতর কার্যকর ও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা যায় ।

আদর্শ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সফল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন

আদর্শ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বৈশিষ্ট্যসমূহ

সঠিকভাবে ও পর্যাপ্তভাবে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দান করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন করা একান্ত আবশ্যক ।একটি আদর্শ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ নির্ধারিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তার দিকে খেয়াল রেখে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে ।
২. সময়, অর্থ ও পরিস্থিতিঃ প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অবস্থা, সঞ্চয় এবং সময় বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হয় । পরিস্থিতি , অর্থ ও সময় অনুকূলে থাকলে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দীর্ঘায়িত এবং জোড়দার করা যায় ।
৩. নমনীয়তাঃ পরিবর্তিত অবস্থা অনুযারি যেন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া যায় তার সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে ।
৪. প্রশিক্ষন বিভাগঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতাধীন সকল নির্দেশাবলি অভিজ্ঞ জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আসা উচিত । বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি প্রশিক্ষন বিভাগ খুলে অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক দ্বারা সাফল্যজনকভাবে শিক্ষাদান করা যেতে পারে ।

৫. তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের শিক্ষণ পদ্ধতি চালূ থাকতে হবে । তাত্ত্বিক শিক্ষণের চেয়ে হাতে কলমে শিক্ষনের দিকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে ।

৬. আধুনিক চিন্তাধারাঃ আধুনিক চিন্তাধারায় যেন অনু্প্রবেশ ঘটানো যায় তার জন্ম তত্ত্বাবধায়, নির্বাহী এবং অন্যান্য প্রশিক্ষকদের পূর্বেই আধুনিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে শিক্ষা ও কলাকৌশলর প্রয়োগ ঘটাতে হবে ।
৭. উভয় পক্ষের স্বার্থ ও লক্ষ্যঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দ্বারা যেন প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারী উভয়ই উপকৃত হতে পারেন তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ।
৮. মূল্যায়নঃ প্রশিক্ষন ফলপ্রসু হচ্ছে কি না তা যাচাই করার জন্য প্রশিক্ষনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কাজের হিসাব নিতে হবে ।
৯. নির্দেশের কৌশলঃ প্রশিক্ষকের দক্ষতার উপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সাফল্য দক্ষতার উপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে । একটি সংগঠিত , পদ্ধতিগত এবং সহজ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশ তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন প্রশিক্ষকগণ নির্দেশদান কৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন ।
১০. ফলাফলের জ্ঞানঃ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি সম্বন্ধে জানাতে হবে । ফলাফলেরৈ অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেলে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের ভূল-ভ্রান্তিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে এবং তা সংশোধনের অবকাশ পায় ।
উপরিউক্ত আদর্শ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বৈশিষ্ট্য গুলো আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সার্থক করে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে ।

সফল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিবেচ্য বিষয়ঃ

প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া । কর্মীদের কার্যসম্পাদনের জ্ঞান ও দ্ক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত ও আচরণগত নৈপূণ্য বৃদ্ধি করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যৗ অর্জনকে গতিশীল করার সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা হ্চ্ছে প্রশিক্ষণ । প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের নিবেচ্য বিয়ষ ।
নিম্নে একটি সফল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিবেচ্য বিয়য়গেুলো আলোচনা করা হলোঃ
১. প্রশিক্ষণদাতার প্রস্তুতি গ্রহণঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো প্রশিক্ষণদাতার প্রস্তুতি গ্রহণ । প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আরম্ভ করার পূর্বেই প্রশিক্ষণদাতাকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয় । প্রশিক্ষণদাতাকে অবশ্যই ঠিক কতে হবে তিনি কী বিষয়ের ও কোন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন ।
২. প্রশিক্ষণ গ্রহীতার প্রস্তুতি গ্রহণঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরের পর্যায়ে হলো প্রশিক্ষণ গ্রহীতার প্রস্তুতি গ্রহণ । আর এ পর্যায়ের প্রধান কাজ হলো প্রশিক্ষণ প্রার্থীকে সহজ করে নেয়া । তিনি এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন যাতে কর্মীগণ কার্যভার সম্পর্কে আশংকা মুক্ত থাকেন । মূলকথা হলো প্রশিক্ষণার্থীগণকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করার মতো মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে ।
৩. উপায় উপকরণ সংগ্রহঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সর্বশেষ পর্যায় হলো উপায় উপকরণ সংগ্রহ । প্রশিক্ষন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য্ প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ যেমন- কাগজ, কলম, পেন্সিল, গ্রাফ, পেপার , বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপকরণ, মাল্টিমিডিয়া উপকরণ প্রভৃতির প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে । এছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীদের বাসস্থান ও আহারাদির ব্যবস্থা করাও এই পর্যায়ের কাজ । অতএব মোট কথা এ পর্যায়ের প্রশিক্ষনার্থীদের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে ।
অতএব আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য উপরের বিবেচ্য বিষয় গুলো খুব গুরত্ব সহকারে দেখতে হবে । উপরের কাজ গুলো সঠিক ভাবে পালন করতে পারলে প্রশিক্ষণ সফল হবে ।

প্রশিক্ষণ – প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ

প্রশিক্ষণ

কার্যকরী মানব সম্পদ সৃষ্টির অন্যতম উপায় হলো প্রশিক্ষণ । কেননা কর্মীর সফলতার উপর প্রাতিষ্ঠানিক সফলতা নির্ভরশীল ।
নিম্নে প্রশিক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
সাধারণত প্রশিক্ষণ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো অনভিজ্ঞ বা স্বল্প অভিজ্ঞ কর্মীকে হাতে কলমে শিক্ষা প্রদান ।
অন্যভাবে বলা যায়, কাজে কর্মীদের উৎসাহ বৃদ্ধি পেশাগত, জ্ঞান ও দ্ক্ষতা এবং মনোভাব ও আচরণের পরিবর্তনের জন্য যে, শিক্ষাদানের কৌশল গ্রহণ করা হয় তাকে প্রশিক্ষণ বলে ।
প্রামাণ্য সংঙ্গাঃ নিম্নে কতিপয় লেখকের সংঙ্গা প্রদান করা হলোঃ
M.J. Jucius- এর মতে, প্রশিক্ষণ হলো যেকোনো প্রক্রিয়া যা কর্মীদের নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রবণতা দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করে ।
Skinner ও Ivancevich- এর মতে, কর্মীদের উচ্চমাত্রার কার্যসম্পাদনে সহায়তাদানের অবিরত প্রক্রিয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ।
Prof. R.W. Griffin বলেন, প্রশিক্ষন সাধারণত কার্যগত ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের কীভাবে কাজ করতে হবে তা শিক্ষা দেয় যার জন্য তাদেরকে নিয়োগে করা হয়েছিল ।
Robert Keritner- এর মতে, কতিপয় নিদিষ্ট অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কর্মীর আচরণ এবং মনোভাবের পরিবর্তন সাধনের প্রক্রিয়াকে প্রশিক্ষন বলে ।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
প্রশিক্ষণ হলো যেকোনো প্রক্রিয়া যা কর্মদের নিদির্ষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রবণতা দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করে । গুণগত মান উন্নয়ন করে প্রতিষ্ঠানের অধিক মুনাফা অর্জনের পথ সুগম করে ।
নিম্নে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
১. উৎপাদন বৃদ্ধিঃ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । প্রশিক্ষণ একজন কর্মীকে তার কাজে অভিজ্ঞ করে তোলে । যার ফলে সময় বাঁচে এবং সে অধিক উৎপাদনে ব্রতী হয় ।
২. কর্মসন্তুষ্টি বৃদ্ধিঃ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীর দক্ষতা, ইতিবাচক মনোভাব ও কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মনোবল ও উন্নত হয় । যার ফলে কর্মীর কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায় ।
৩. কর্মীর মনোভাব পরিবর্তনঃ কর্মীর মনোভাব পরিবর্তনে প্রশিক্ষণের প্রভাব অনেক । Kreitner বলেন, প্রশিক্ষণ কতিপয় নির্দেশিত ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কর্মী আচরণ ও মনোভাবে পরিবর্তন করে । ফলে কর্মীর ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পায় ।
৪. সময় জ্ঞানঃ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সময় সম্পর্কে সচেতন করা হয় । কর্মীরা যদি যথা সময়ে তাদের কার্যাবলি সম্পাদন করতে না পারে তাহলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় ।
৫. দক্ষতা বৃদ্ধিঃ যেকোনো পেশায় সাফল্য অর্জনের জন্য দক্ষতা প্রয়োজন । আর এ দক্ষতা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নতুন ও পুরাতন সকল কর্মীর আচরণগত পরিবর্তন , নিদির্ষ্ট দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান ও মনোভাব উন্নয়ন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন ।
৬. সহজ তত্ত্বাবধানঃ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের অধিক নির্দেশনা ও তদারকের প্রয়োজন হয় না । ফলে নির্বাহীরা অল্পসময়ে অধিক সংখ্যক অধস্তনের কাজ তদারক করতে পারে ।
৭. সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনাঃ সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে থাকে ।
৮. উন্নত শিল্প সম্পর্কঃ প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন হয় । ফলে ব্যবস্থাপনার সাথে কর্মীরা সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় । এ ধরনের সহযোগীতামূলক ভূমিকা উন্নত শিল্প সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্র তৈরি করে ।

প্রশিক্ষনের বৈশিষ্ট্যঃ
কর্মীদের উচ্চমাত্রার কার্যসম্পাদনে সহায়তা দানের অবিরত প্রক্রিয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ । একটি প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠ কার্যপরিবেশ বজায় রাখাও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য । প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কর্মদক্ষতা গড়ে তূলতে সাহায্য করে ।
১. প্রশিক্ষনের আওতাঃ প্রশিক্ষণকার্যক্রম কেবলমাত্র নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের নিদির্ষ্ট কর্মীবৃন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে । তবে ক্ষেত্রবিশেষ প্র্রতিষ্ঠানের সমুদয় কর্মীকেও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা যায় । তাই বলা যায় , প্রশিক্ষনের আওতা সুনিদির্ষ্ট ।
২. প্রশিক্ষণ পূর্ব নির্ধারিতঃ প্রশিক্ষণ পূর্ব নির্ধারিত বিষয় অনুযারি কার্যকর হয় । প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুরুতেই নির্ধারণ করা হয় । যে কত জন কর্মীকে কত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় ।
৩. সংগঠিত প্রক্রিয়াঃ প্রশিক্ষণ হচ্ছে শিক্ষাদানের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কারিগরি আচরণগত এবং কার্য সম্পাদনের দক্ষতা ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো হয় ।
৪. প্রশিক্ষনের উদ্দেশ্যঃ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হবে সুনিদিষ্ট কী উদ্দেশ্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে তা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত করা হয়ে থাকে । তাই নিদির্ষ্ট কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে কর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির কৌশলই হলো প্রশিক্ষণ ।
৫. ধারাবাহিক কর্মপন্থাঃ প্রশিক্ষণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া । একজন কর্মীকে তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পরিবর্তনের জন্য পুনঃপুণঃ প্রচেষ্টা চালাতে পদ্ধতি গ্রহণ করা হয় ।
৬. নমনীয়তাঃ পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যবিধান করার ব্যবস্থা প্রশিক্ষনে থাকতে হয় । নমনীয়তা প্রশিক্ষনের একটি বড় গুণ । নমনীয়তা ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম লক্ষ অর্ঝনে সহায়ক হতে পারে না ।
৭. আধুনিক ও বস্তুনিষ্ঠঃ সাধারণত প্রশিক্ষণ কার্যত্রম আধুনিক প্রস্তুতির উপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয় । কারণ এর ফলে প্রশিক্ষণ বস্তুনিষ্ট হয় ও কর্মীদের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয় ।

প্রশিক্ষণ একটি স্পর্শকাতর বিষয় । এর সাথে কর্মীর আচরণ, মনোভাব ও কার্ষের প্রতি ও ক্রিয়াশীলতার সম্পর্ক রয়েছে । প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কল্যানমুখি ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্য করার জন্য উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সমাহার ঘটানো প্রয়োজন ।