নির্যাতীত ৭০০ আফগানি হিন্দু ও শিখতে দীর্ঘমিয়াদি ভিসা ভারতের

জিহাদীদের দ্বারা অপহরণ করা নিদান সিং সচদেবকে মুক্তি দেওয়ার খবর কয়েক দিন আগে আফগানিস্তানের একটি গুরুদ্বার থেকে এসেছিল। তারপরে সুসংবাদটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিয়েছিল। আফগানিস্তানের 700 হিন্দু ও শিখকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে ভারতে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা দেওয়া হচ্ছে। সূত্রমতে, দীর্ঘমেয়াদী এই ভিসা কেবল তাদেরই দেওয়া হয় যারা কোনও দেশে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) পাস হওয়ার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটে শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। এই দুটি সম্প্রদায় দেশের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছে। তারপরেও তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তারা বারবার ইসলামিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী দ্বারা চিহ্নিত হয়েছিল। অপহরণ, খুন এবং বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের কারণে আফগানিস্তানে প্রায় ৫০,০০০ হিন্দু ও শিখই বেঁচে আছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে শিখরা নিপীড়নের ভয়ে স্থানীয় গুরুদ্বারগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে। তারপরেও নির্যাতন থামেনি। জিহাদিরা গুরুদ্বারে প্রবেশ করে শিখদের হত্যা করেছিল। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে, প্রাথমিকভাবে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা 700 শিখ এবং হিন্দুদের দেওয়া হয়েছিল। আশা করা যায় যে এই লোকেরা ভবিষ্যতে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা পাবে।

আসামের করিমগঞ্জে মূর্তি ভাঙ্গার উৎসব

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই আসামের করিমগঞ্জে যেন মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাঙার উৎসব শুরু হয়েছে। এবার হামলার ঘটনা ঘটলো গিরিশগঞ্জের কালী মন্দিরে।দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে ওই কালী মন্দির হামলা চালায়। তাঁরা মন্দিরের দরজা জানালা ভাঙচুর করে। তবে মন্দিরের শক্তপোক্ত লোহার বারান্দা ভেঙে ভিতরে ঢুকতে পারেনি। ফলে ভিতরে থাকা মা কালীর মূর্তি রক্ষা মেয়ে যায়। এই ঘটনা গত ১৮ই জুলাই রাতে ঘটে।  বিগত কয়েকমাস ধরে করিমগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু মন্দিরে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। এর আগে লঙ্গাই রোডের কালীবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তারপর ১৩ই জুলাই সন্ন্যাসী মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে, ভাঙচুর করা হয় মূর্তি। তার আগে ৯ই জুলাই করিমগঞ্জ শহরে শিব মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতি ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। তবে আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো এই এতগুলি ঘটনার কোনোটিতেই কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এবার গিরিশগঞ্জের কালীবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলো। পুলিস ঘটনাস্থলে আসে এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরপর এতগুলি মন্দিরে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি কোনো ঘটনায় দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়ই হিন্দু সংগঠনের অনেকের মতে, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেই একের পর এক হিন্দু মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে। 

প্রতিবেশি মুসিলমের দ্বারাই সংখ্যালঘু হিন্দু বাড়িতে হামলা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন হিন্দু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, রমা রানী মজুমদার শোভা (৫৫) কে ইসমাইল হাওলাদার নামে এক প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক ব্যবসায়ীর মাথায় ও দেহে একের পর এক বিরতীহীন ছুরিকাঘাত করে । রমা রানী এখন উপজেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত্রি ৯ টার দিকে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ বন্দর-সুয়েজগেট এলাকায় তার বাসভবনে তাকে আক্রমণ করা হয়। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, ছয়টি স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল।
হামলাকারী ইসমাইল একই এলাকার রতন হাওলাদারের ছেলে। প্রাক্তন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সম্প্রতি একটি মাদকের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটায় । তার মা ও বোন এই মাদক মামলায় আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাক্তন উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মঠবাড়িয়া শহরের দক্ষিণবন্দরের সুয়েজগেট মহল্লার বাসিন্দা রমা রানী মজুমদার শোভার প্রতিবেশীর ছেলে ইসমাইল হাওলাদারের সাথে জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রতন হাওলাদাদের ছেলে ইসলামাইল হাওলাদার । প্রতিপক্ষ ইসমাইল নেশা ও মাদক কেনা বেচা নিয়ে জড়িত থাকার কারণে পুলিশ ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যদের বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করে।
কিছুদিন আগে একটি মাদকের মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন । বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে রমা রানী রান্নাঘরে রান্নায় ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় ওৎ পেতে থাকা ইসমাইল তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিরতীহিনভাবে কোপাতে শুরু করে। প্রতিবেশীরা তার চিৎকারে ছুটে এসে হামলাকারী ইসমাইল পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
কর্তব্যরত মাঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জন মোঃ রাকিবুর রহমান জানান, প্রাক্তন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাথায় ছয়টি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে । তবে তিনি কিছুটা নিরাপদে আছেন। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান মিলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচকে জানিয়েছেন, আহত শোভা রানী থানায় ০৫-০৭-২০২০ তারিখে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দায়ের রজ্জু করা মামলা নং ৪৪৭/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৭৯/১১৪ । এখনো পর্যন্ত কোনও আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আর অভিযুক্তরা পলাতক।
অ্যাড: রবীন্দ্র ঘোষ স্যার বলেন, হাসপাতালে আহত শোভা রানির আমার নিকট অশ্রু কণ্ঠে বলেন , “আমি এই অঞ্চলের সহসভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছি। আমি শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি অঞ্চলটি। আমার উপর আক্রমণ করা হয় এবং আমাকে হত্যার চেষ্টা ও করা হয় , আমি আপনাদের আইনি সহায়তা চাই ।
বাংলাদেশে মাইনরিটি ওয়াচের মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা সূর্য কুমার বৈরাগী আহত রমা রানী মজুমদার শোভা কে দেখতে গিয়ে তার একটি ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করেছেন।
বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এই জাতীয় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

২০০ বছরের পুরোনো মন্দির সহ ২১ শতাংশ জায়গা দখল পিরোজপুরে

প্রভাবশালী স্থানীয় জমি দখলকারীরা পিরোজপুরের এক অভিজাত সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ২০০ বছরের পুরানো শিব মন্দিরের ১০শতাংশ এবং পরিবারের ১১ শতাংশ জমি সহ মোট ২১ শতাংশ ভূমি জোর জবরদস্তি করে নিল ।

ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানাধীন দিঘিরজান গ্রামে।

সোমবার (৬ জুলাই) ২০২০, সকাল আটটার দিকে মোহাম্মদ কামরুল শেখ (কাবুল), মোহাম্মদ শাহজাহান শেখ (তাহসিলদার) ও মোহাম্মদ হেদায়েত শেখের নেতৃত্বে কয়েকশ নাম না জানা অজ্ঞাত লাঠিয়াল কাঁটাতারের ও বাঁশের বেড়া ভেঙে জায়গাটি দখল করে।

শহীদ জননী কলেজের অধ্যক্ষ এবং ভুক্তভোগী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নাজিরপুর উপজেলার সহ-সভাপতি মিঃ দিপ্তেন মজুমদার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন । তিনি আরো বলেন যে, তাদের ২০- বছরের পুরানো শিব মন্দিরের ১০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির 11 শতাংশ কাঁটাতার এবং বাঁশ দিয়ে আবরণ দেওয়া ছিল। উল্লেখ্য যে, ব্যাক্তিগত ১১ শতাংশ জায়গা এবং মন্দিরের ১০ শতাংশ জায়গা সরকারী খাতায় তাদের নামে লিপিবদ্ধ আছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দিপ্তেন মজুমদার তাদের বাধা দেয় এবং বলেন যে জায়গাটি ডকুমেন্ট আছে , যা আমাদের নামে দলিল ও রেকর্ড করা । “আপনারা যদি জমির মালিক হয়ে থাকেন , তাহলে আপনার বৈধ কাগজপত্র দেখান এবং সরকার বা প্রশাসনের পক্ষে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিক । কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা তার কোনও কথায় কান না দিয়ে তাদের পেশীর শক্তি প্রয়োগ করে এবং কাঁটাতারের সমস্ত বেড়া ভেঙে ফেলে এবং সেই সাথে হুমকি ও ধামকি দেয় । এছাড়াও তারা পরিবারের মহিলা সদস্যদের উপর অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ করে এবং যথেষ্ঠ অপমান ও করে।

স্থানীয়দের মতে, তাদের অমানবিক অত্যাচার থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না , সবাই এই দৃবৃত্তের অপকর্মের কাছে নির্যাতীত । সে ধনী হোক বা গরীব, শক্তিমান বা শক্তিহীন। যাই হউক , দিন শেষে এরকম ভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে ।

শেখ নরুলের নেতৃত্বে হিন্দুদের উপর হামলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত পাথরপ্রতিমা এলাকায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত পাথরপ্রতিমা এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিন্দুরা আকান্ত্র দুষ্কৃতিদের হামলার শিকার হল । ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার, ৬-৭-২০২০ সন্ধ্যে বেলায় । আকস্মিক এই রকম হামলা হবে তা কখনো কল্পনা করতে পারে নি , সেখানকার হিন্দুরা । এরা কখন যে ভাল কখন যে খারাপ , তা ওরা ছাড়া কেউ জানে না ।

তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী শেখ নুরুল তার দলবল নিয়ে বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালায়। কারণ ওই পরিবারটি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এর জন্মবার্ষকীতে পতাকা উত্তোলন করতে যায়। ওই এলাকার মানুষদের দাবি প্রায় মুসলিমরা দলবল নিয়ে এসে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করে।

আক্রান্তরা প্রত্যেকেই বেজিপি করে । এদের একমাত্র দোষ হল এরা বিজেপি করে । আর এরা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুর্খার্জির জন্ম বার্ষীকিতে পতাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিল । আর এটাই এদের অন্যায় । এই অন্রঅয়ের শাস্তি স্বরুপ তাদের উপর আক্রমন করে শেখ নুরুল ও তার দলবলের লোক জন ।
আক্রান্ত হিন্দু মহিলা বলেছেন, যে নুরুল ও তার দলবলের লোকজন , মহিলাদের গলা টিপে মারার চেষ্টা করছে ছে এবং শাররিক নির্যাতন তো করছেই । আমাদের অনেক মহিলা আহত হয়েছে এই আক্রমণে । আসরা ভারতের এই পশ্চিমবৃঙ্গে অনিশ্চয়তায় জীবন যাপন কাটাতে হচেছ এখন । পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রি মমতা এখনো কোন ব্যবস্থা নেয় নি এরকম দুস্কৃতিকারিদের বিরুদ্ধে ।
আক্রান্ত মহিলা আরো বলেন , আমাদের পড়নের কাপর ধরে টানাটানি করেছে , আমরা আমাদের সম্ভ্রন বাচাতে কাপড় ছিড়ে গেছে , তবু তারা ক্ষান্ত হয় নি । সন্ধ্যা ৭ টায় তারা অতর্কিত হামলা চালায় ।
জানা গেছে- শেখ নুরুল তৃণমুল দলের সাথে যুক্ত এবং দক্ষিন ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমা গ্রামে হিন্দুদের উপর যে হামলা হবে তা পুলিশ ও প্রশাসন জানত । পুলিশ কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয় নি শেখ নুরুল ও তার দলবলের লোকজনের উপর । পুলিসের মদদ ও নাকি এই ঘটনায় ছিল , স্থানীয় অনেকেই একমটাই বলেছেন ।

আক্রান্তে আহত এক হিন্দু মহিলা বলেন, যখন আমাদের উপর হামলা হয় আমরা পুলিশ ষ্টেশনে ফোন করি । কিন্তু তারা আসে না । আমাদের উপর হামলার ২ ঘন্টা হয়ে গেল , পুলিশ ঘটনা স্থলে আসে নি ।
অবশ্যই পুলিশের হাত ছিল এঘটনায় , যদি না থাকত অবশ্যই ফোন পাওয়ার সাথে সাথে প্রশাসনের লোক আসত । কিন্তু তা আসে নি ।

আক্রান্তে আহত অভিজিৎ সেন আরো বলেন- আমার পরিবারের সবাই কে শেখ নুরুল ও তার দলবল আহত করে দেয় । মেয়ে এবং মহিলা বাদ যায় নি । শ্যামা প্রসাদের জন্ম বার্ষিকীতে পতাকা উত্তোলন করতে যায় । সেখানে এক তৃণমূলী কর্মী বলেন , তোরা তো তৃণমূলে ছিলে , বিজেপিতে এসেছে । তাহলে তোদের রাতে একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে । আর সন্ধ্যা ৭ টায় তারা আমাদের বাড়িতে আক্রমন করে ।

শেখ নুরুলের বাড়ি দাস পুরের । আর নেতুত্বে হিন্দু বাড়িতে আক্রমন করে ১৫০ জন মুসলিম । দাস পুরের মুসলিম কলোনির সকল মুসলিমেই শেখ নুরুলের হয়ে কাজ করে । পশ্চিমবঙ্গে এযাবত যত বার হিন্দুরদর উপর হামলা হয়েছে তার নেতৃত্বে মুসলিমরাই ছিল ।

টাঙ্গাইল: হিন্দু নাবালিকা মেয়েকে ইসলামে ধর্মান্তরের জন্য অপহরন

সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাবালিকা মেয়ে লক্ষ্মীরানি চক্রবর্তীকে(১৫) কে ১৮ জুন ২০২০ , তার স্কুল শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট যাওয়ার পথ থেকে ইসলাম গ্রহণের জন্য কিছু দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় । অপহরকরা মেয়েটিকে কোথায় রেখেছে তা সন্ধান করে বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ এখন ও মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি।
মেয়েটি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার অন্তর্গত হেমনগর শশিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
অপহরণকারীরা হলেন-
১) মোহাম্মদ ইউসুফ (২০)
২) মোহাম্মদ আজমোহর (৬৪),
৩) মোহাম্মদ কলেজ (৪৫)
৪) মোহাম্মদ মনি (২৮),
৫) মোহাম্মদ নজরুল (৩৬)
৬) মোসাম্মত নূর নাহার (৩৫)।
মেয়েটির মা ভগবতী চক্রবর্তী (৩৫) তার স্বামী গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী বাংলাদেশ সংখ্যালঘু মাইনরিটি ওয়াচকে বলেছেন: –
অভিযুক্তরা একে অপরের সহযোগিতায় আমার মেয়ের মুখ চেপে ধরে জোর করে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে ইসলামে ধর্মান্ত করার অভিপ্রায় নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সরিষাবাড়ী থানার অভিমুখে নিয়ে যায়। সাক্ষীরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে “

মেয়ের মা বাদী হয়ে ১ জুলাই, ২০ জুলাই গোপালপুর থানায় মহিলা ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ওয়াচের পক্ষে বক্তব্য রেখে অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ থানার অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা বলেছেন। মেয়েটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বাংলাদেশের মাইনরিটি ওয়াচকে বলেছিলেন যে তার মেয়ে নাবালিকা হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ছিল। “আমি আমার মেয়েকে ফিরে চাই এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি করি।”
বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ওয়াচ এই জাতীয় হিন্দু মেয়ে অপহরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অবিলম্বে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

২০২০ সালে প্রথম ৬মাস বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের চিত্র ২০১৯ সাল কে ছাড়েয়ে গেছে

করোনভাইরাসের মহামারী সারা দেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার তবু থামছে না । সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে , যা গত বছরের চেয়ে দেড়গুণ বেশি। সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য কাজ করা বেশ কয়েকটি সংগঠন হিন্দুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতীয় হিন্দু মহাজোট (জিএইচজে) অভিযোগ করেছে যে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় সংখ্যক নাবালিক নির্যাতন হয়েছিল। জানুয়ারী থেকে ৩০ শে জুনের মধ্যে ৫৯২ টি পৃথক ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে হাজার হাজার হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণ করা হয়েছিল। এমনকি এই ৬ মাসে ৩ জন হিন্দুকে মিথ্যাভাবে রাজাকার বানানো হয়েছে।
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেছেন, এসব মামলায় ন্যায়বিচারের অভাবে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ এবং ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ছয় মাসে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ৭২ সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। ৮ টি চেষ্টা খুন, ৬১ হুমকি, মোট ১৮ টি ধর্ষণ এবং গণ ধর্ষণ, ৪৬ অপহরণ এবং ২,০৪৬6 রূপান্তর হয়েছে। ৪৮৯ টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ৫৪৫ টি পরিবার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে এই সমস্ত ক্ষেত্রে সরকার কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা দায়ের করেনি এবং ঘটনার সাথে জড়িতরা তাদের মামলা দায়ের করতে বাধা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা হত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে এক না কোনওভাবে জড়িত। যে কারণে সরকার ও পুলিশ আইনী ব্যবস্থা শিথিল করেছে।
হিন্দু মহাজোটের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেছিলেন যে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর এই ধরনের নির্যাতনের মূল কারণ জাতীয় পরিষদে এই বিষয়গুলিতে কথা বলার সুযোগ না পাওয়া। কয়েকজন হিন্দু এমপি বোবা ও বধির। তারা এটিকে দেখেন না এবং হিন্দুদের আর্তচিৎকার শুনতে পান না। সে কারণেই সংসদে হিন্দুদের আরও প্রতিনিধিত্বের জন্য তিনি সংরক্ষিত আসন দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে, মিঃ গোবিন্দ একটি খাঁটি পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রক রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি হিন্দুদের তাদের অভিযোগগুলি জানার সুযোগ তৈরি করবে।
হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাড। দীনবন্ধু রায়, প্রেসিডিয়াম কালীপদ মজুমদার, সিনিয়র সহ-রাষ্ট্রপতি প্রদীপ পাল, যুগ্ম মহাসচিব সুজন দে, অ্যাড। লাকী বাশার, নকুল চন্দ্র মন্ডল, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোট আহ্বায়ক শ্যামল ঘোষ, হিন্দু মহিলা মহাজোট সাধারণ সম্পাদক ঢাকা দক্ষিণ হিন্দু মহাযোটের সভাপতি ডি কে সমীর, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, হিন্দু যুব মহাজোটের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রদীপ শঙ্কর, প্রশান্ত হালদার, হিন্দু ছাত্র মহাজোট সভাপতি সজন কৃষ্ণ বল , অখিল মণ্ডল, মিল্টন বিশ্বাস, সানি সাহা, টিকে সরকার আশীষ, কল্যাণ ঘোষ প্রমুখ।

গত মাসে হিন্দু নির্যাতনের অপরাধের পরিসংখ্যান

  1. হত্যা: 72 জন
  2. মৃত্যুর হুমকি: 61 জন
  3. ৩. হত্যার চেষ্টা: 87 জন
  4. আহত: আহত: 512
  5. খুজে পাওয়া যায় নি : 25
  6. মারধর ও চাঁদাবাজি: 20 লাখ টাকা
  7. পরিবার ও মন্দির লুটপাট: 40
  8. বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট: 155
  9. সম্পত্তির উপর আক্রমণ: 48
  10. ব্যবসায়ের উপর আক্রমণ: 35
  11. আদিবাসী সহ মোট জমি দখল: ২৩২৩ একর ৬৭ শাতংশ
  12. ঘরবাড়ি দখল: 26
  13. ব্যবসায় দখল: 15
  14. মন্দিরের জমি দখল: 10
  15. বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: 489 পরিবার
  16. উচ্ছেদের চেষ্টা: 1460 পরিবার
  17. উচ্ছেদের হুমকি: 1801 পরিবার
  18. আদিবাসী সহ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য: 454 পরিবার
  19. নির্বাসনের শিকার: 540 পরিবার
  20. নিরাপত্তাহীনতা; 3806 পরিবার
  21. মন্দিরের আক্রমণ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ: 164
  22. মন্দির লুটপাট: 6
  23. প্রতিমা ভাঙচুর: 249
  24. ঘরবাড়িতে আক্রমণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ: 437
  25. অপহরণ: 48 জন
  26. অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে: 1 জন
  27. ধর্ষণ: 15 জন
  28. গণধর্ষণ: ২ জন
  29. ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে: 11 জন
  30. ব্রেনওয়াস , লাভ জিহাদ জোড় করে ধর্মান্তুরিত – 2486 জন
  31. ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা: 293 জন
  32. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: 25
  33. মিথ্যা মামলা: 69
  34. মিথ্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তার: 33 জন
  35. পরিবার অবরুদ্ধ: 343
  36. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবমাননা: ৫
  37. ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অন্তরায়: 15
  38. হিন্দুদের গরুর গোশত খাওয়াতে অশান্তি: ৫০ জন
  39. ভুয়া রাজাকার বানানো: 3 জন।
  40. সরস্বতী পুজায় আঘাত: 7 লক্ষ হিন্দু শিক্ষার্থী

গত এক বছরের সাথে নির্যাতনের চিত্রটির তুলনা করে বলা হয়েছে যে 2018 সালের তুলনায় 2019 সালে নির্যাতন দ্বিগুণ হয়েছে। 2019 সালের তুলনায় 2020০ সালে হিন্দু নির্যাতন দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে, হিন্দু নির্যাতনের চেয়ে বেশি হিন্দু নির্যাতন করা হয়েছিল 2019 সালে পুরো বছরে। 2019 সালে, সারা বছর 108 জন মারা গিয়েছিল, 2020-এর 6 মাসে, 72 জন মারা গিয়েছে। এ বছরের প্রথম মাসে আহত হয়েছেন ৪৪৪ জন, আহত হয়েছেন ৫২১ জন। গত বছর ৪৩৪ টি পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৮৯ টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, ১৪৮০ পরিবার উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিল, ১৮০১ পরিবারকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
গত বছর ৬৪১ টি পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, আর এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৮০১ পরিবারকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ৩৭৮ টি পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫৪৫ টি পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। গত বছর নিরাপত্তাহীনতায় 2261 পরিবার ছিল, এ বছরের প্রথম 6 মাসে, ৩০৮৬ পরিবার ছিল। গত বছর, মন্দিরগুলিতে ১৫৩টি হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের হামলা হয়েছিল এবং এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৬৪হামলা হয়েছিল। বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ৪৪৮ টি ঘটনা ঘটেছে, যা এ বছরের ৬ মাসেই হয়েছে ৪৩৭ টি।

দিনাজপুর কাহারোলে ঘরে ঢুকে হিন্দু মহিলাকে ধর্ষন

দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার অন্তর্গত তারাপুর গ্রামের হিন্দু পরেশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী প্রতিমা রানী (৩০) কে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে ১২ জুন সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মোঃ দুলাল মিয়া ধর্ষণ করে।
গোয়াল ঘরে প্রবেশের পরে, পিছন থেকে প্রতিমা রানির দুটি স্তন চেপে ধরে এবং ধর্ষণ করার জন্য মাটিতে ফেলে দেয়। প্রতিমা রানীর চিৎকার করেন এবং সম্মান রক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন, তার চিৎকারে পাশের লোকেরা এসে তাকে বাঁচায় এবং অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

দিনাজপুর কাহারোলে ঘরে ঢুকে হিন্দু মহিলাকে ধর্ষন


সংখ্যালঘু ওয়াচ বাংলাদেশের পক্ষে, আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রতিমাটি থানায় নিয়ে এসেছেন এবং মামলা দায়েরের জন্য সম্ভাব্য সকল সহায়তা দিয়েছিলেন। কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা দায়েরের পরে মোঃ দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে ১ ৬ জুন মহিলা ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (৪) খ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা নং ৫ (পাঁচ)
আমি, অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ওয়াচের পক্ষে, সত্যতা যাচাই করতে নির্যাতন প্রতিমা রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভুক্তভোগী প্রতিমা রাণী বলেছিলেন, “ঘটনার দিন প্রয়াত জামশের আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪০) আমাকে পেছন থেকে ধরে আমার দু’স্তনের উপর চাপ দেয় আর বলে , তোমার স্বামী অক্ষম আমার সংস্পর্শে তুমি সন্তান জন্ম দিতে পারবে, আমি সক্ষম “, এরকম বলতে বলতে , আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে আমার গা মুখ এবং গাল এবং আমার স্তনের বিভিন্ন অংশ আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কামড়াতে থাকে , আমি আহত হয়েছি, আমি ডাক্তারের আশ্রয় নিয়েছি। “আমার দেহের বিভিন্ন অংশ কামড়ানোর জন্য আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আমি পুলিশে মামলা দায়ের করেছি। পুলিশ মোঃ দুলাল মিয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি তার বিচার চাই। আমরা খুব দরিদ্র এবং আমরা ন্যায়বিচার পাচ্ছি না । সাহায্য করুন।
বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ ধর্ষণ মূলক এ জাতীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং দাবি করে যে পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে এবং ধর্ষণ করা ওই মহিলার যথাযথ চিকিৎসার দায়দায়িত্ব নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে, জাতিসংঘে মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত একটি নীতি বিকাশ পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ১৯৬৫ সালে মেক্সিকোয় মহিলাদের নিয়ে প্রথম বিশ্ব সম্মেলনে গৃহীত ওয়ার্ল্ড প্ল্যান অফ অ্যাকশন, স্পষ্টভাবে সহিংসতার কথা উল্লেখ করেছে তবে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মর্যাদা, সাম্যতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের প্রয়োজনের দিকে মনোনিবেশ করেছিল।

পাকিস্তানের মুসলিম সম্প্রদায় অমুসলিম নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণকে সমর্থন করে

পাকিস্তানের সিন্ধু-পাকিস্তানের জমছোর গ্রাম চাচাদে এক নারী ওয়াজিরানকে অনার কিলিংয়ে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তার স্বামী আলী বখশকে গ্রেপ্তার করেছে। পাকিস্তানের মহিলারা এমনকি অন্য পুরুষের সাথে প্রেমের সন্দেহ করে হত্যা করা হলেও সমস্ত সমাজ অমুসলিম নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণকে সমর্থন করে।

পাকিস্তানের নারীরা অন্য পুরুষদের সাথে প্রেমের সন্দেহের শিকার হলেও হত্যা করা হয়, তবে সমস্ত সমাজ অমুসলিম নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণকে সমর্থন করে। ধর্ষক নায়ক হিসাবে প্রশংসিত হয় । যখন সেই ছোট, শিকার মেয়েটির পরিবার হঠাৎ ভিলেন হয় এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের শত্রু হয় । কেমন দেশ এটা !

মন্দির নির্মাণে বাধা ইসলামাবাদে, নতুন ফতোয়া জারি পাকিস্তানের ইসলামিক সংগঠনগুলোর

কৃষ্ণ মন্দিরটি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্মিত হবে। পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম হিন্দু মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয়েছিল। তবে শুরুতেই বাধা। ধর্মীয় সংগঠন জামিয়া আশরাফিয়া ইসলামাবাদের এইচ -৯ / ২ সেক্টরে কৃষ্ণ মন্দির স্থাপনকে বাধা দিয়েছে। গত সপ্তাহে, পাকিস্তান সরকার ওই অঞ্চলে একটি মন্দির স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল। এমনকি ইমরান খানের সরকার মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ কোটি রুপি ঘোষণা করেছিল। আর এই কারণেই জামিয়া আশরাফিয়া ক্ষুব্ধ। জামিয়ার লাহোর ইউনিটের প্রধান মুফতি জিয়াউদ্দিন বলেছেন, সরকার সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থানগুলি মেরামত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে আমরা নতুন ধর্মীয় স্থান তৈরির বিরোধী। এইভাবে, জনগণের করের অর্থ নষ্ট করা যাবে না।

পাকিস্তানের সংসদীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক লাল চাঁদ মাহি গত সপ্তাহে মন্দিরটির কাজ শুরু করেছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে মন্দির স্থাপন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ২০১৬ সালে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মন্দির নির্মাণের জন্য ইসলামাবাদ অঞ্চলে 20,000 বর্গকিলোমিটার জমি হিন্দু কাউন্সিলকে দিয়েছে। তবে তার পর থেকে একের পর এক বাধা। তিন বছর ধরে সেখানে মন্দির তৈরি করতে একটি ইটও তৈরি করা হয়নি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী পীর নুরুল হক কাদরী মন্দিরটি নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা অনুদানেরও ঘোষণা করেছিলেন। তবে পথে জামিয়া আশরাফিয়াকে পাওয়া গেল।

আরও পড়ুন- পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মন্দির ইসলামের নীতি লঙ্ঘন হয়েছে : চৌ

তবে লাল চাঁদ মাহি বলেছিলেন যে কোনও বাধা থাকুক না কেন এবার মন্দিরটি নির্মাণ করা হবে। ইসলামাবাদে প্রায় তিন হাজার হিন্দু রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ মন্দির একবার ইসলামাবাদে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তাদের আর পূজার জন্য রাওয়ালপিন্ডিতে যেতে হবে না। এদিকে, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি নোটিশ জারি করেছে। কথিত আছে যে মন্দিরটি নির্মাণ করা শহরের প্রধান পরিকল্পনার পরিপন্থী। সর্বোপরি পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু মন্দির প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বিপদে রয়েছে।