ব্যবস্থাপনা কি একটি পেশা ব্যাখ্যা কর

বর্তমানে ব্যবস্থাপনার গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে এক একটি পৃথক পেশা হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হবে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । এ প্রশ্নের সমাধান করতে হল পূর্বে জানতে হবে পেশা কি এবং পেশার উপাদানগুলো কি হতে পারে ।
সাধারণত জীবিকার্জনের জন্য বিশেষায়িত জ্ঞান সম্বলিত কোনকাজ বা বৃত্তিকে পেশা বলা যায় । পেশা অবশ্যই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যে , নৈতকিতার মানদন্ডে উন্নীত এবং আইনের দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে । কোন কাজ বা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হলে তার কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন সে সম্পর্কে অনেকেই মতামত প্রদান করেছেন ।
Kenneth R. Andrews তাঁর Toward Professionalism in Business Management নামকে প্রবন্ধে পেশার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন । এগুলো হলো-
১. নিদির্ষ্ট পেশার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত জ্ঞান ।
২/ বিশেষায়িত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ।
৩/ ব্যক্তিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ।
৪/ ব্যক্তির অনিয়ন্ত্রণ সামর্থ্য এবং
৫/ সামাজিক স্বীকৃতি ।
এছাড়া Frank B, Miller পেশার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন ।
উপরিউক্ত ব্যবস্থাপনাবিদ গনের আলোচনা থেকে বলা যায় কোন কাজ বা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে গন্য করতে হরে তার নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে ।
১. সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমাল সম্বলিত বিশেষায়িত জ্ঞান ।
২. উক্ত বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন , প্রসার ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির উপস্থিতি ।
৩. পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিণিধিত্বমূলক সংঘ বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা ।
৪. পেশা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের প্রমাণ হিসেবে সনদ লাভ এবং পেশাজীবি সংঘের সদস্য পদ লাভ ।
৫. পেশাগত আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য পেশা সংক্রান্ত বিশেষ আইন প্রণয়ন ।
৬. পেশাগত উপদেষ্টা শ্রেণীর উপস্থিতি ।
৭. সদস্যদের সাথে তাদের কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পারিশ্রমিক বা ফি নির্ধারণ ।

ব্যবস্থাপনা একটি পেশা কিনা এ ব্যঅপারে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতি কতটা রয়েছে তা দেখো প্রয়োজন । এ ক্ষেত্রে দেখা যায় কতগুলো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে ও আবার কতকগুলো অনুপস্থিত । নিচে পেশার সাথে সামঞ্জস্যপুল।ণ ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো ।
১. ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সুসংবদ্ধগুলোর ব্যাপক প্রসারঃ
ব্যাপক প্রসার বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে ব্যবস্তাপনার বিষয়ে জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে । আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা অর্নাস ও মাস্টার্স ডিগ্রী পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সুসংবদ্ধ পাঠদান করা হয় । এছাড়া BBA, MBA কোর্সে ও এটি পড়ানো হয় । এ ক্ষেত্রে বিভিন্নি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, BIM, IPM, BIBM ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যপক ভূমিকা রাখছে । এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রশাসন হিসেবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
২. ব্যবস্থাপনার সঙ্গা ও সংস্থা প্রতিষ্ঠাঃ
বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে ব্যবস্থানা বিষয়ে বিভিন্ন সংঘ ও সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ।
American Management Association (AMA), American Bankers Association (ABA), National Office Managemment Association, National Sales Executive Incorporation ইত্যাদি সংস্থার নাম এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযো্য । কেবল ব্যবস্থাপকগণই এ ধরনের সংঘের সদস্য পদ লাভ করতে পারে ।
৩. পেশাদার উপদেষ্টা শ্রেণীর উপস্থিতি
অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা , বিশ্বাবিদ্রঅয়ের শিক্ষক, প্রকৌশরী, ডাক্তার ইত্যাদি উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তি পরামর্শক হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার ফলে ব্যবস্থাপনাকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করার বিকাশ দেখা দিচ্ছে ।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবস্থাপনাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্তাপন করা সম্ভব হলেও বাস্তবিক পক্ষে আইন ব্যবসায় , চিকিৎসা , স্থাপত্য ,চাটার্ড একাউন্টেন্ট ইত্যাদি পেশার ন্যায় ব্যবস্থাপনা এখনো্ বিশেষ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পার নি । কারণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান এখনো পেশার মত বিশেষ জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি । ব্যবস্থাপকদের স্বার্থ রক্ষার্থে কোন একক সংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি । ব্যবস্থাপকদের জন্য স্বতন্ত্র আচরণবিধি প্রণীত হয়নি ।
তাই ব্যবস্থাপনাকে এখনো পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হয় না । তবে ভবিষ্যতে সকল বাধা অতিক্রম করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থাপনা পূর্নাঙ্গ পেশা হিসেবে মর্যাদা লাভ করবে বলে আশা করা যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *