ব্যবস্থাপনার নীতির গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ব্যবস্থাপনার নীতি হলো কোনো ব্যবস্থাপনা চিন্তা বা কাজের বিষেয়ে প্রতিষ্ঠিত মৌলিক বক্তব্য, বিকৃতি বা সত্য ভাবনা, বিচার- বিশ্ণেষণ ও গবেষনা করে ব্যবস্থঅনপার কতিপয় ও নীতি উদ্ভাবন করেন । এ সকল নীতির উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থাপককে কাজ করতে হয় । ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সঠিক ও নির্ভূলভাবে সম্পাদন করা সম্ভ হয় । কাজেই প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সম্পাদনে ব্যবস্থপনা নীতির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।
১. দক্ষতা বৃদ্ধিঃ
কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিও অনেকাংশে সুষ্ঠূ নীতিমালার উপর নির্ভর করে । সুষ্ঠূ নীতিমালা অনুযারী ব্যবস্থাপনা যে কর্মী যে কাজে দক্ষ তাকে সেই কাজ দেয় । এতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রত্যেকে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারে । ফলে দক্ষতার সাথে কার্যসম্পাদন সম্ভব হয় ।
২. কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিঃ
সুষ্ঠূ নীতিমালা ছাড়া প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয় না । কারণ এর অভোবে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, সন্দেহ, অবিশ্বাস, ধীরগতি, আলস্য, অবাধ্যতা ইত্যাদি বিরাজ করে । আর এজন্যই প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে কার্যকর নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন ।
৩. প্রতিযোগীতায় সাফল্য অর্জনঃ
নিয়ম-নীতির প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ ও নিয়েম-নীতি মেনে চলার প্রতি ঐকান্তিক আগ্রহ প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য অপরিহার্য । এজন্য তীব্র প্রতিযোগীতামূলক কারবারি জগতে সফলতা অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠূ চিন্তাভাবনার আলোকে যথাযথ উদ্যোগ ও কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হতে হয় ।
এক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা অনুসরণ অনেকাংশে সহযোগিতা করে ।
৪. শ্রম-ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক উন্নয়নঃ
প্র্রতিষ্ঠানে উত্তম শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠ নীতিমালা কার্যকর ফল দেয় । প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা থাকলে ব্যবস্থাপনার সকল কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদিত হয় । ন্যায্য পারিশ্রমিক ও ন্যায় – পরায়ণতার নীতি অনুসরণের ফলে শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক উন্নত হয় ।
৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তাঃ
সুষ্ঠু নীতমিালা ব্যবস্থাপকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহয়তা করে । ভবিষ্যত্বে কোন ধরনের কর্মসূচি গ্রহন করা হবে , কোন কাজ কিভাবে সম্পাদন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিমালা সহয়াতা কর । যেমন- প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পদোন্নতি দেয়া হবে বা পদোন্নতির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা হবে তা যদি পুর্ব থেকেই নির্ধারিত থাকে তবে উর্ধ্বতনদের সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হয় না ।
৬. অনুকুল মনোভাব প্রদর্শনঃ
সুষ্ঠ নীতিমালা কর্মীদের অনুকূল মনোভাব সৃষ্টিতে সাহায্য করে । সাম্য নীতির আলোকে ব্যবস্থাপক সকল কর্মীদের সমান দৃষ্টিতে দেখে । ফলে শ্রমিক-কর্মীরা শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সহকারে ব্যবস্থাপনার প্র্রতি উত্তম মনোভাব প্রদর্শন করে ।
৭. জীবনযাত্রার মানোন্নয়নঃ
প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠ নীতিমালা না থাকলে শ্রমিক-কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় না । যদি পারিশ্রমিক নীতির আওতায় কাজের প্রকৃতি , সময়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচেনা করে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয় তাহলে শ্রমিক-কর্মীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত হয় । এর ফলে অর্জিত অর্থ দ্বারা শ্রমিকেরা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে পারে ।
৮. কার্যভার লাঘবঃ
কার্যভার লাভবের ক্ষেত্রে ও সুষ্ঠ নীতিমালা ব্যবস্থাপকদের্ সহয়াত প্রদান করে । নীতিমালা যদি পূর্বনির্ধারিত থাকে তাহলে ব্যবস্থাপকদের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হয় । অধীনস্থ কর্মীরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সহজে বুঝতে সক্ষম হয় এবং দক্ষতার সাথে কার্যসম্পাদন করতে পারে ।
৯. উৎসাহ বৃদ্ধিঃ
প্রতিষ্ঠানে সকল পর্যায়ে সুষ্ঠ নীতিমালা থাকলে কর্মীরা তার আলোকে কাজ করতে উৎসাহ পায় । চাকরির স্থায়িত্ব নীতির কারণে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মীরা মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকে । এত তারা নিরাপদে কাজ করতে পারে । ফলে তারা দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে কার্যসম্পাদনে উৎসাহিত হয় ।
১০. গবেষনা ও উন্নয়নঃ
গবেষনার সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য নীতিমালা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ । গবেষণা কার্য সফলভাবে সম্পাদনের জন্য তথ্য সংঘ্রহ করা আবশ্যক । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবারাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনা করা সম্ভব হয় ।
উপরিউক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ব্যবস্থাপনার নীতি সহায়তা করে । তাই সহজে ও সুষ্ঠভাবে কার্য সম্পাদনের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ অনুসরণ করা প্রয়োজন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *