ব্যবস্থাপনার আওতা বা বিষয়বস্তু

ব্যবস্থাপনার আওতা বা পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও সর্বব্যাপী । তাই যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং এর অন্তর্গত বিভিন্ন বিভাগরে প্রতিটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব বা পদচারণা লক্ষ করা যায় ।
নিম্নে বিভিন্ন দিক থেকে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র বা পরিধি আলোচনা করা হলোঃ
(ক) কার্যাবলির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ কার্যাবলির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার আওতা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত । যথাঃ
১. অফিস ব্যবস্থাপনাঃ
পরিকল্পিত উপায়ে কার্যাবলির মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা, অফিসের সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ , অফিসে নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বন্টন এবং নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করারকে অফিস ব্যবস্থাপনা বলে ।
এক্ষেত্রে অফিস ব্যবস্থঅপনা অফিসের সকল মানবিক এবং অমানবিক উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে । এত সহজে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষার্জন করা সম্ভবপর হয় ।
১. কারখানা ব্যবস্থাপনাঃ
কারখানা ব্যবস্থাপনার আওতায় কি কি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা হবে, উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কোথা হতে সংগ্রত করা হবে, কারখানা বিন্যাস কীরুপ হবে এবং উৎপাদিত পণ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হবে ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ।
৩. বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনাঃ
ব্যবস্থাপনা কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাঁছামাল রুপান্তরের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে । অতঃপর উৎপাদিত পণ্য ত্রেতা ও ভোক্তার নিকট সরবরাহ করে । এক্ষেত্রে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরন , পণ্য প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচান , বন্টন প্রণালি নির্ধারন , প্যাকেজিং গুদামজাতকরণ ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে থাকে ।
৪. শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনাঃ
ব্যবস্থঅপার যে অংশ প্রাথমিকভাবে সংগঠনের মানবিক উপাদানের সাথে সংশ্লিষ্ট তাকে শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনা বলে । ব্যবস্থাপনার একটি শাখা হিসেবে শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ , নির্বাচন ও প্রশিক্ষন প্রদান পদোন্নতি বদলি ইত্যাদির কাজ সম্পাাদন করে ।
৫. আর্থিক ব্যবস্থাপনাঃ
এক্ষেত্রে প্রয়োজন নির্ধারন করে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করে । তাাছাড়া বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতি প্রয়োগ করে অর্থের উৎস নির্ধারন , অর্থ সংগ্রহ এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যয়ের পদ্ধতি নির্ধারন করে থাকে । অধিকিন্তু আর্থিক ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিকল্পনা অনুযারি অর্থ ব্যয়ের জন্য হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা । এতে অর্থের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয় ।
(খ) স্তরের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামো বিশ্লেষণ করলৈ চারটি স্তর লক্ষ করা যায়। যথাঃ
১. উচ্চ স্তর ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠনিক কাঠামোর যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারন, কর্মসূচি গ্রহণ , নির্দেশনাদান ও নিয়ন্ত্রনের কাজে জড়িত থাকে তাকে উচ্চ স্তর বলে । এ স্তরে সাধারণত পরিচালক পর্ষদ, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, ব্যবস্থাপক পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক প্রমুখ ব্যবস্তাপনা কার্যাবলি সম্পাদন করেন ।
২. উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থাপনাঃ
উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনার সন্নিকটে যারা অবস্তান করেন তাদেরকে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থাপনা বলে । উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবস্থানা বিক্রয়, উৎপাদন, অর্থ ও হিসাব , গবেষণা ইত্যাদি কাজ করেন । যেমন- ডি. জি. এম. জেনারেল ম্যানেজার বা জি. এম. প্রমুখ ।
৩. মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠনিক কাঠামোর যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ নিম্নস্তরে নিয়োজিত কর্মীদের কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করেন তাকে মধ্যম স্তর বলে । মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপকেরা উচ্চ স্তরের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও নীতি অনুযারী উদ্দেশ্যের আলোকে কাজ করেন ।
৪. নিম্ন স্তর ব্যবস্থাপনাঃ
সাংগঠিক কাঠামোর যে স্তরে তত্ত্বাবধায়কগণ সরাসরি ম্রমিক-কর্মীদের সাথে জড়িতি থাকে তাকে নিম্ন স্তরে বলে । যেমন- চেয়ারম্যান, সুপারভাইজার । নিম্ন স্তরের ব্যবস্থাপকরে কাজগুলো শ্রমিক-কর্মীদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হয় । তাই সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরির কাজ এ ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত থাকে ।
(গ) সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাঃ
সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যবস্থপনা ব্যাপক পরিসরে কাজ করে থাকে । যথাঃ
১. কারবার পরিচালনাঃ
প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ সম্পাদন নিশ্চিত করাকে কারবার পরিচালনা বরে । ব্যবস্থাপনা পরিচালনা প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মীসংস্থান , নির্দেশনা দান, সমন্বয়সাধন, প্রেষনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করে । ফলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বা সেবা পরিবেশন করা সম্ভবপর হয় ।
২. নির্বাহী ব্যবস্থাপনাঃ
একটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক ব্যবস্থঅপক নিয়োজিত থাকেন । তাই প্রত্যেক নির্বাহীর কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকল্পে সমন্বয়সাধন করতে হয় । এক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা বা পরামর্শ দান করে নির্বাহীদের কার্যাবলি তত্ত্বাবধান বা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ।
৩. ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবনঃ
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ব্যবস্থাপনা ব্যাপক প্র্রভাববিস্তার করে । এক্ষেত্রে ব্যবস্তাপনার নীতি পদ্ধতি মানুষের জীবনের বিলাসবহুল ও জীবনযাপন বৃদ্ধি করে সুখ – শান্তি দান করে । এত মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সুন্দর ‍ সুখী হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *