বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুঁজিবাদের ধারণা

প্রতিযোগিতামূলক ও জঠিল বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকা ও দক্ষতার সাথে উৎপাদন কার্য পরিচালনার জন্য উৎপাদন , বন্টন, ডিজাইন, প্রভৃতি ক্ষেত্রে গতিশীলতার প্রয়োজন । এই কাজগুলো দক্ষতা ও কার্যকারিতার সাথে সম্পাদন করার একটি উপায় হতে পারে সকল কর্মীদের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক প্রদান করা । ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে কর্মীদের পারিশ্রমিক প্রদানের পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয় ।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুঁজিবাদ এবং ধারনাঃ
পুঁজি বা ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা হচ্ছে এমন এক ধরনের অর্থ ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী নিজ ইচ্ছা অনুযারি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন, ভোগ বা বিনিময় প্রথার সকল অর্থনৈতিক কর্মাকান্ড ব্যাক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং ভোগের ক্ষেত্রে ও প্রত্যেক ব্যাক্তি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে ।
পুঁজিবাদি বা ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার ভিত্তি হলো অবাধ প্রতিযোগিতা । ধনাতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদ অর্থ ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা হচ্ছে আয় ও সম্পদের বৈষম্য । এ অর্থ ব্যবস্থঅয় আর ও সম্পদের বৈষম্য ক্রমাগত বাড়তে থাকে ।
অসম আয় ও সম্পদের মূল প্রভাবকারিী উপাদান হলো ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী জ্ঞান ও দক্ষতা যেটি সমাজের মানুষের আয়ের সাথে সম্পর্কিত । আর যে সমস্ত সমাজরে মানুষের পর্যাপ্ত শিক্ষার জ্ঞান নেই তারা নিজেদেরকে বর্তমান ও ভবিষ্যত আয়ের সুযোগ সুবিধার অবস্থান করতে পারে না । আর পর্যাপ্তমাত্রার জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্নদের আয়ের সুযোগ, বেতন ও ক্ষতিপূরণ বৃদ্দি পাবে যেখানে সর্বনিম্ন পর্যায়ের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্নদের আয়ের সুযোগ স্থির থাকবে এমনকি কমতে থাকবে ।

বৈশ্বিক অর্থনীতিকর এই যুগে ক্ষতিপূরন ব্যবস্থাপনা ক্ষতিপূরণ পেশাদারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে যার ফলশ্রুতিতে সংঘঠনের কর্মীদের অয়ের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায় এবং অসম বৈষম্য দূরীভূত হয় এবং সমাজের মানুষের জীবনমান বুদ্ধি পায় ।

জীবন ধারা এবং ক্ষতিপূরণ
শিল্প বিপ্লবের পর যেহেতু অর্থনৈতিক কার্যত্রম এবং শিল্পায়ন দ্রুত বাড়তে থাকে সেই সাথে কর্মীদের আহত হওয়ার এবং কর্ম হারানোর সম্ভাবনা বাড়তে থাকে । তাই কর্মীদের জন্য একটি সুন্দর ন্যায় বিচারপূর্ণ ক্ষতিপূরণ নীতির প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয় ।

সে সময় চলে গেছে যখন টাকাকে মূখ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো না বরং এটি মানুষের আচরণ প্রভাবে একটি মক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করে । প্রায় ৩০০ বছর আগে ইংরেজ করি john Milton বলেছেন Money Brings Honor , friends , conquests and riches .
যার সম্পদ যত বেশি তার জীবনযাত্রার মান তত উন্নত ।
নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর সামাজিক মর্যাদা নির্ভর করে । যথাঃ
(১) আয়
(২) সম্পদ
(৩) পেশা
(৪) শিক্ষা
সমাজকে আবার তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় । যথাঃ
(ক) উচ্চ শ্রেণী
(খ) মধ্য শ্রেণী এবং
(গ) নিম্ন শ্রেণী ।

প্রতিষ্ঠানের উচিত উপর্যুক্ত নিষয়গুলেঅ বিবেচনা করে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা । তাহলে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের জীবনরধারা ও বেতন কাঠামোর মধ্যে একটি সমন্বয় করে থাকে ।

আর্থিক দাবি
কর্মীদের যে সব দাবি অর্থের অংকে পরিমাপ করা যায় তাকে আর্থিক দাবি বলে । কর্মীরা মূলত তাদরে আর্থক প্রয়োজন পূরনের জন্য কোন না কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করে । কর্মীদের প্রধান আর্থিক দাবি হচ্ছে প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যায্য মজুরি বা বেতন পাওয়া । অর্থ কর্মীকে ক্রয় ক্ষমতা দেয় । আর কর্মী ক্রয় ক্ষমতা দিয়েই তার অভাব পূরন করে থাকে । উপযোগী পণ্য ও সেবা বাজার থেকে সংগ্রহ করে । এজন কর্মী তখনই সন্তুষ্টি অর্জন করে যখন তার সব অভাববোধের পরি সমাপ্তি ঘটে । এছাড়া আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই একজন মানুষকে নিশ্চিত ও নিরাপদত জীবনযাপনে সহায়তা প্রদান করে । এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বলতে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও আবাসস্থলে নিশ্চিত সরবরাহ ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়কে বোঝায় । এ কারণেই কর্মীদের নিকট হেতে বোনাস মুনাফার অংমীদারিত্ব পেনশন ইত্যাদি আর্থিক দাবি উত্থাপিত হয় ।
আর্থিক দাবির উপাদানসমূহঃ
(১) ন্যায্য মজুরি ও বেতন
(২) পদোন্নতি
(৩) মুনাফার অংশ
(৪) বোনাস এবং
(৫) পেনশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *