বৈদিক গণিত পর্ব – দুই

বৈদিক গণিতের কথা প্রথম সর্বসমক্ষে আনেন জগতগুরু শংকরাচার্য  শ্রী ভারতী কৃষ্ণ তীর্থজী মহারাজ ( 1884-1960) । বৈদিক গণিতের বিশেষত্ব এই যে এক ব্যবহার করে যেমন কটিল অঙ্ক অতি সহজেই প্রায় মনে মনেই করে ফেলা যায় তেমনই গণিতের যে-কোনো পদ্ধতিতেই একে ব্যবহার করে সহজেই অনেক অসাধারণ সূত্র বানিয়ে ফেলা যায় । এখানেই শেষ নয় বৈদিক গণিত প্রয়োগে আমাদের জীবনের বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় ।

বৈদিক গণিত সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই । দর্শন ভাবনা পরিবর্তন ঘটলে যে সকল ভাবনার পরিবর্তন ঘটে তা হয়তো অনেকেই বুঝতে চান না । ভারতীয় দ্বন্দ্বতত্ত্ব বা জ্যোতিষ দর্শনের হাতে গড়ে উঠেছেল এই গণিতশাস্ত্র যা  যথাসম্ভব সহজভাবে আমি বোঝাতে চেষ্টা করব । অভ্যাসে যাতে প্রতিটি পাঠক প্রায় মানব কম্পিউটার হয়ে উঠতে পারেন সে চেষ্টা আমি করব । মনে মনে অঙ্ক করা অসম্ভব নয় ।

বেদের বিভিন্ন শ্লোকের মধ্যে থেকে যে কয়টি সূত্রকে  আজ পর্যন্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সেগুলি নিয়ে  এবার আমরা আলোচনা করব ।

মাত্র 16 টি মূল সূত্র এবং 13 টি উপসূত্র আমরা জানতে পেরেছি । কিন্তু মজার বিষয় মাত্র এই কটি সূত্রের ব্যবহারেই আমরা সাধারণ গণিত থেকে , জ্যামিতি ও অন্য সব ধরনের গণিতই আমরা করতে পারি । আর ও যেটি মজার তা হলো অন্য যে কোনো গণিতের পদ্ধতিতে এর ব্যবহার করে সেই পদ্ধতিটি কে আর ও সহজ ও সরল করে তোলা সম্ভব । মূল সূত্র গুলিকে এবার আমি বলছি তবে পাঠকরা যাতে সকলেই তা বুঝতে পারেন মূল সংস্কৃত সূত্রগুলিকে আমি ইংরেজি বর্ণমালায় লিখব ।

  • Ekadhikena Purvena
  • Nikhilam Navatascaremam Dasatah
  • Uradhava tiryagbham
  • Paravartya Yojayet
  • Sunyam Samyasamuccaye
  • Anurupye Sunyamanyat
  • Sankalana- Vyavakalanabhyam
  • Purana Puranabhyam
  • Calana – Kalanabhyam
  • Yavadunam
  • Vyastisamastih
  • Sesanyankena Caramena
  • Sopantyadvayamantyam
  • Ekanyunena Purvena
  • Gunitasamuccayah
  • Gunakasamuccayah

উপসূত্রঃ

  • Anurupyena
  • Sisyate sesasmjah
  • Adyamadyenantyamantyena
  • Kevalaih Saptkam Gunyat
  • Vestanam
  • Yavadunam Tavadunam
  • Yavadunam Tavadunikrtya
  • Antyayordasakepi
  • Antyayoreva
  • Samuccayagunitah
  • Lopanasthapanabhyam
  • Vilokanam
  • Gunitasamuccayah Samuccayagunitah

তবে পাঠকবন্ধু  এই সবগুলি সূত্র ও উপসূত্রের ব্যবহার এই বইতে আমরা  আলোচনা করব না ।  মাত্র কয়েকটি নিয়েই আমরা আলোচনা করব । পাঠক বন্ধু আশাকরি , আপনি ভুলে যান নি আমি আগেই বলেছিলাম বৈদিক গণিতে সুত্রের প্রয়োগ করা হলেও আমরা আমাদের সুবিধামতো যে-কোনো সূত্রের প্রয়োগ করব ।

একই সূত্রের প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রে ও ব্যবহার করতে পারি । তাই বেদিক গণিত কোনো যান্্রিতক পদ্ধতি নয় । আপনি যদি বুঝতে পারেন এবং এটি অভ্যাস করেন সহজেই তার ব্যবহার শিখে যাবেন । কিন্তু যান্ত্রিকভাবে একে বুঝতে চাইলে তা বোঝা আপনার পক্ষে মুশকিল হবে । যখন যেদিক থেকে অঙ্ক করলে আমার সুবিধা হবে আমি তাই করব । যে সূত্র বা উপসূত্র ব্যবহার করলে সুবিধা হবে আমি তাই করব । প্রয়োজনে ভিন্ন ক্ষেত্রে ও  একই সূত্রের প্রয়োগ করব । কিন্তু সবসময়ই একটি কাল্পনিক সাপেক্ষ স্থির করব যাকে ঘিরে আমার চিন্তা আবর্তীত হবে । বিষয়টি জটিল শোনাতে পারে কিন্তু পাঠকবন্ধু আমি আপনাকে এটুকু আমার বাণী শোনাতেই পারি যে, এই আমি তা সাধ্যমতো সহজ করে সূত্রের ব্যাখ্যার জটিলতায় না গিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করবো যাতে আপনি এই গণিতের প্রতি আগ্রহী হয়ে পরেন এবং আগামীতে কোনো বিচক্ষণ গনিতজ্ঞের সহচর্য এ শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারেন । এই গ্রন্থটিতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যথাসম্ভব কম সূত্রের ব্যবহার করে সাধারণ গণিত করা । আগামীতে আগ্রহী পাঠকরা বিচক্ষণ গণিতজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই শাস্ত্রের অর ও গভীরে প্রবেশ করে চলমান মানব কম্পিউটারর হয়ে উঠবেন আশাকরি ।

সাধারণ গণিতে আমরা সাধারণত ডানদিক থেকে শুরু করে ক্রমে বাঁদিকে অগ্রসর হই । কিন্তু বৈদিক গণিতে  এরকম কোনো বাধ্য বাধকতা নেই । যখন যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে আমরা তাই করব । যেমন –

  100000 – 73245

এই বিয়োগরে গণিতে আমি এখনকার চলতি নিয়েমে ডানদিক থেকে করতে পারি এক্ষত্রে প্রথমে 5 সংখ্যাটিকে 10 থেকে বিয়োগ করতে হবে কিন্তু যেহেতু 0 আগে একটি 1 সংখ্যা কল্পনা করেছি তাই এই 1 সংখ্যা 4 এর সাথে যোগ করে আবার 10 থেকে বিয়োগ করব ।  এভাবেই করে যাব । কিন্তুক বৈদিক গণিত দিয়ে আমরা বাঁদিক থেকে শুরু করে ক্রমে ডানদিকে যেতে পারি । এক্ষেত্রে আমরা বৈদিক গণিতের দ্বিতীয় সূত্রটিকে ব্যবহার করতে পারি । সূত্রটি বাংলায় এ রকম, সবগুলি 9 থেকে শেষটি 10 থেকে । অর্থাৎ প্রথম শূণ্যটিকে 9 কল্পনা করলাম এবং তার থেকে 7 বিয়োগ করলাম উত্তর হলে 2 এবার 9 থেকে 2 বিয়োগ করলাম । উত্তর হল 7 । তারপর 9 থেকে 4 বিয়োগ করলাম উত্তর হলো 5 এবং একদম শেষে 10 থেকে 5 বিয়োগ করে উত্তর পেলাম 5 । যেহেতু শেষ 0 টিকে 10 ধরলাম  এই 1 সংখ্যাটিকে প্রথম 1 থেকে বাদ দিলে উত্তর হয় 0 ।

আমরা উত্তর বলতে পারি 026755 ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *