বৈদিক গণিত পর্ব এক

বৈদিক গণিত এই শব্দটিই বলে দেয় এই গণিতের সৃষ্টি বেদ থেকে । মূল বেদ চারটি । ঋক, সাম , যজু এই তিন বেদকে ত্রয়ী বলা হয় এ ছাড়াও অর্থবঙ্গিরস মনুসংহিতার সময়কালে যার সাথে গোপথ ব্রাহ্মণ যোগ করে একত্রে অর্থববেদ বলা হয়্ । এছাড়ও চারটি উপবেদ আছে । যেগুলি হলো, Ayurveda, Gandharvabeda, Bhanurveda  এবং Sthapatyaveda । এটা  এই জন্য জানানো হলে যে, বেদ মানে কয়েকটি  গ্রন্থ নয় । শত শত গ্রন্থ নিয়ে বেদ । বেদের বহু শাখা  এবং গুরু ছাড়া তা বোঝা প্রায় অসম্ভবই বলা যায় ।

তার উপর রুপকের ব্যবহার একে আরও জটিল করে ফেলছে । বেদকে বুঝতে হলে আগে বেদাঙ্গ জানতে ও বুঝতে হবে ।

বেদাঙ্গ ৬ টি । শিক্ষা, ছন্দ, কল্প , নিরুক্ত , জ্যোতিষ এবং ব্যাকরণ । এর মধ্যে জ্যোতিষ কে বলা হয় বেদের চোখ । জ্যোতিষ আসলে  একটি দর্শন এবং এর থেকেই বৈদিক গণিতের সূত্রপাত । বৈদিক গণিতের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে উপবেদে সেটি হল  Sthapatyaveda । জ্যোতিষ দর্শন দিয়ে যদি বিচার করা যায় তাহলে বুঝা যায় গণিত শাস্ত্রের দুটি প্রান্ত । একটি পূর্ণ বা অসীম অর্থাৎ আমরা যা ভাবতে পারছি তার থেকেও বেশি । অর্থাৎ  এটি একটি কল্পনা । আজ যাকে আমরা “α”  আক্ষা দিচ্ছি , অপর প্রান্ত টি হলো কস বা কসুড় যা পরে 0 নামে অভিহিত হয়েছে । পরমশূণ্য আসলে একটি কল্পনা । অর্থাৎ সমগ্র বিষয়টি এক কল্পনা থেকে অন্য এক কল্পনার পথে যাত্রা । মাখের কিছু কল্পনাকে তারা সংখ্যা নাম দিয়েছিলেন । যেমন- নবগ্রহ, সেইরকম সংখ্যা ও নয়টি এগুলি হল-

(১) কা, পা, টা অথবা ইয়া      অর্থ ১

(২) কহা, যা, ফা অথবা রা      অর্থ ২

(৩) গ, দা, বা অথবা লা         অর্থ ৩

(৪) ঘা , ধা ভা অথবা ভ        অর্থ ৪

(৫) গ্না, না, মা, অথবা সা       অর্থ ৫

(৬) ক, ত, স                     অর্থ ৬

(৭) চা, যা, অথবা সা            অর্থ ৭

(৮) যা, দা হা                      অর্থ ৮

(৯) ঝা, ধা                         অর্থ ৯

এগুলি প্রতিটিই আসলে এক একটি কল্পনা , দশমিক দিয়ে আমরা “α” সংখ্যায় 9 লাগালে ও 1 হয় না । যেমন- .9/.99/.999/.9999 ইত্যাদি কিন্তু আমরা কেউ 9=1 ধরি কখনও .99=1 ধরি অথবা কখনো .999=1 ধরি । অর্থাৎ আমরা 1 কল্পনা করি । এই একই ভাবে আমরা অন্য সংখ্যাগুলিকেও কল্পনা করি  এবং এই সংখ্যার বিচার করতে কখন ও 0 এর সাপেক্ষে তা করি কখন ও “α” সাপেক্ষে করি ।

ঈশাবাস্যোপনিষদ এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদে আমরা পাই

ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্নমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমূদচ্যতে

পূর্ণষ্য পূর্ণমাদায় পূর্নবেবাশিষ্যতে ।।

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

ওঁ অর্থে সচ্চিদানন্দঘন পরব্রহ্ম যিনি স্থুল , সূক্ষ্মু , অতিন্দ্রিয় সকলকিছুর স্রষ্টা  । তিনি পূর্ণ অর্থাৎ “α” ( জ্যোতিষ দর্শন মনে করে শক্তির বিভিন্ন প্রকৃতির অর্ন্তদ্বন্দেই এই জগতের সবকিছুর সৃষ্টি । )

 এই পূর্ণ থেকেই বহু পূর্ণের সৃষ্টি এবং এই পূর্ণ থেকে যদি সকল পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় তাহলে অবশিষ্ট যা থাকে তাহা ও পূর্ণ । এর থেকে যে গানিতিক সূত্র আমরা পেতে পারি তা এরকম

α = α

α -1 = α

α – 2 = α

α – x = α

α – α = α

α / α = α

α + α = α

 অপর দিকে যেহেতু 0 অর্থ কিছুই নেই এবং এই দুই কল্পনার মধ্যে যদি সম্পর্ক স্থাপন করি তাহলে বিষয়টি এরকম হয়

α – 0 = α

α + 0 = α

α / 0 = α

0 / α = 0 আবার  = α

যেহেতু আমরা আমাদের সুবিধামতো কোনো একটি কল্পনা সংখ্যার মর্যাদা দেই তাই বৈদিক গণিতে কিছু সূত্র থাকলে ও আমরা তাদের ব্যবহার নিজের সুবিধা মতোই করব । সাধারণ গণিতে যেমন , যে-কোনো যোগ, বিয়োগ আমরা আমাদের ডানদিক থেকে বাঁ দিকে যাই , বৈদিক গণিতে আমরাদের সুবিধামতো আমরা কখনও ডান থেকে আবার কখনো বাম দিকে থেকে ডান দিকে করব । এ প্রসঙ্গে আমাদের  আরো  দুটি কথা মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন ।

 প্রথমটি হলো গুণ মানে একাধিক যোগ এবং ভাগ মানে একাধিক বিয়োগ ।

দ্বিতীয়টি হলো আমাদের সব সময়ই অপর একটি সংখ্যার কল্পনা করতে হবে যার সাপেক্ষে আমরা গণিতটি করব ।

এবং তার কতকগুলি বিশেষ নিয়ম রয়েছে । সাধারণ গণিত দিয়ে যদি আমাদের নিম্নের গুণটি করতে বলে তাহলে বেশ কয়েক পাতা লাগবে ।

3479329 * 9999999

কিন্তু বৈদিক গণিত দিয়ে আমরা  এক লাইনেই  এর সমাধান করতে পারি ।

উত্তরঃ 34793286520671

তাই বৈদিক গণিতকে মনে মনে করা গণিত ও বলা যেতে পারে তবে তার জন্য অভ্যাসের প্রয়োজন  এবং যারা তা জানে তাদের মানব কম্পুটার বলে মনে হয় । যারা এটি বোঝে না তারা নিজেদের অজ্ঞতা ঢাকবার জন্য একে প্রতারণা  বলে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *