বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ

বাংলাদেশ পৃথিবীর ঘনবসিপূর্ণ দরিদ্র দেশসমূহের মধে অন্যতম একটি । ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশটির আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে সুযোগ ছিল তা সঠিক রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার অভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । স্বাধীনত্তোর কালে যে রাষ্ট্র খাতের তৈরি হয়েছিল তাও কর্তৃপক্ষীয় ব্যর্থতার কারণে দেশের আপামর জনসাধারণের তেমন কোন কল্যান সাধনে সক্ষম হয় নি ।
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ দেশটি শাষিত ও শোষিত হয়েছে ঔপনিবেশিক কায়দায়, ষাটের দশকের পূর্বে তেমন কোন শিল্পই ছিল না । ক্ষদ্রায়তন ও কুটিরশিল্পসমূহ মূলত পারিবারিক ব্যবস্থাপনা ধীরেই ড়ড়ে উঠেছিল । প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও উপ-বিভাগ খোলে কাজ করে । কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে উদ্দেশ্যার্জন ব্যাহত হয় । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা বিভাগীয় কাজগুলো সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ করে । ফলে সহজে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ অর্জিত হয় ।

ষাটের দশকে যে সকল মাঝারি ও বৃহদায়তন শিল্পকারখানা গড়ে উঠে তার ও মালিকানা ছিল মুষ্টিমেয় পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ । অধিকিন্তু ঐ সকল পরিবার যেহুতু মূলত ছিল অবাঙালি সেহেতু তাদের মালিকানাধীনে ব্যবস্থাপকীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসন হওয়া বাঙালিদের পক্ষে ছিল প্রায় অসম্ভব ।
সুতরাং স্বাধীনতা লঅভের পরপরিই অবাঙালি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অন্তর্ধানের শিল্পীয় ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় শূণ্যতার সৃষ্টি হয় । রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাত ছিল সে শ্যন্যতা পূরণের একটা বড় সুযোগ । একটি পশ্চাৎপদত দেশের শিল্পীয় ব্যবস্থাপনাও পম্চাৎপদ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনি । দীর্ঘ দিনের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণই সম্ভবত এর জন্য বেশি দায়ী ।
দীর্ধ দিনের বঞ্চনা হয়তো আমাদের হতোদম করে ফেলেছে , না হয় স্বাধীনতাত্তোর প্রায় তিন যুগেও আমরা
শিল্পোন্নয়নের পথে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেতে সক্ষম হয়নি ।
আমাদের অবশ্য মনে রাখা প্রয়েঅজন যে, আমাদের অনেক পরে স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়েও কোনো কোনো জাতি নিজেদেরকে বিশ্বদরবারে আত্মমর্যাদা হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছে । আমাদের প্রতিবেশি অনেকগুলো দেশই তো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে শিল্পোন্নয়নের পথে । তাদের উন্নয়নের মূলে যে ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা শক্তিটি কাজ কেরেছে তার অনুপস্থিতিতেই যে আমরা বেশি পেছিয়ে পরছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না ।

প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বত্র সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অনুপস্থিতি জাতীয় অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে । বস্তুতঃ ব্যবস্থাপনার সফল প্রয়োগের অভাবে আমাদের সীমিত জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্রবহার সুনিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না । ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে ঠিক তেমনি ব্যক্তি জীবনেও বাড়ে দুর্ভোগ ।
শিল্প জাতীয়করণের পদক্ষেপটি ছিল , এদেশের জনগণের দীর্ঘ দিনের আশা-আকাঙ্খারই প্রতিফলন । দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শতকরা ৮৫ ভাগের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ । যদিও যথাযথ প্রস্তুতি বাদেই এ কাজটি করা হয়েছিল , তথাপি ক্রমান্বয়ে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীদের মতানুকূল্যে ও কর্ম প্রচেষ্টায় প্রায় অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানই একটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধে্যে চলে এসছিল । কিন্তু নব্য ঔপনিবেশিক শক্তি ও তার তলপিবাহক এদেশীয় সহচর কর্তপক্ষের যৌধ চক্রান্তের ফরশ্রুতিতে এ সকল প্রতিষ্ঠানে কোন দক্ষ ব্যবস্থাপনা কাঠামো বা ব্যবস্থাপক শ্রেণী গড়ে উটতে পারে নি ।
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে পুরর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে একটি দক্ষক্ষাতে পরিণত করা কোনো কঠিন কাছ ছিল না । দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে প্রশয় না দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে সামাজিক দায়িত্ব সম্পন্ন পেমাদার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উপর যথাযথ গুরুত্বারোপ করলেই অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত অনায়াসেই ।
ব্যবস্থাপকদের কোনো আচরণবিধি তৈরি না করার এবং ব্যবস্থাপনার সকল স্তরেই জবাবদিহীতার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান সমূহ দ্রুত নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার স্বীকারে পরিণত হয় ।
প্রতিষ্ঠিত হয় লুটপাটের রাজত্ব । জনগণ বিচ্ছিন্ন সরকার সুযোগ বুঝে নাম মাত্র মূল্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তুলৈ দেয় লুটেরা পুঁজিপতিদের হাতে যাদের না আছে কোন ব্যবস্থাপনা দক্ষতা না আছে কোনো সামাজিক দায়িত্ববোধ ।

One thought on “বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ

  1. হতাশাগ্রস্থজীবন

    ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *