প্রশিক্ষনের সুবিধা , প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ ও প্রেষণার মধ্য সম্পর্ক এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পার্থক্য

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি কর্মী প্রশিক্ষণ থেকে নিজে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ না দেখায় অথবা প্রশিক্ষণ থেকে নিজে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ না দেখায় অথবা প্রশিক্ষণ গ্রহণের সামর্থ্য না থাকে ।
সামর্থ্যের বিচার করতে গেলে কর্মীদের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণের পাশাপাশি পঠন, গাণিতিক যুক্তি লিখিতে পারার যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকাটা প্রয়োজন । কর্মী নিয়োগের সময় কর্মীদের এসব প্রাথমিক দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত ।
কর্মীদের শিক্ষণ যোগ্যতা বাড়াতে এবং প্রেষণা দিতে নিয়োগতাতা প্রতিষ্ঠান কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে । যেমন- নগরে গাড়ি চালকদের
দূর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করতে চাইলে সাধারণ ভাবে সতর্ক করার চাইতে সচিত্র গ্রাফিক্সের মাধ্যমে দেখালে বেশি কার্যকর হয় ।
কর্মীর প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত প্রেষণা বিষয়গুলোকে নিম্নরুপে উপস্থাপন করা যায় ।
(ক) শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে । এজন্য যা করা দরকার ।
১. প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রশিক্ষণের সব উপকরণ কৌশল সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা দিতে হবে কর্মীদের এগুলো শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে তাও জানাতে হবে ।
২. পরিচিত বিভিন্ন উদাহরণ টানতে হবে ।
৩. তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং যুক্তিসহকারে উপস্থাপন করতে হবে ।
৪. শব্দ ও অলংকার ব্যবহার হবে যেগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে পরিচিত ।
৫. যতটা সম্ভব ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখাতে হবে।
(খ) দক্ষতা প্রতিস্থাপন সহজ করতে সহজে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র থেকে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও আচরণ যতটা যায় সহজ করতে হবে । এজন্য যা করা দরকার-
১. প্রশিক্ষণ ও কাজের পরিবেশে যতটা পারা যায় মিল রাখতে হবে ।
২. পর্যাপ্ত অনুশীলনেরর সুযোগ ।
৩. যন্ত্রের বা প্রক্রিয়ার প্রতিটি অংশ ও স্তর সম্পর্কে পরিচিতিমূলক জ্ঞান দিতে হবে ।
৪. কাজের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দিতে হবে ।
৫. কাজ করতে দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে বিকল্প কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে , বা অতিরিক্ত কাজের চাপ সম্পর্কে আগাম ধারণা দিলে কর্মীরা প্রশিক্ষণের সময় বিষয়টি সহজভাবে নেয় ।

উপরিউক্ত শর্ত ও পরামর্শ পূরণ করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থী শেখার মনোযোগী হবে এবং প্রেষণা পারে । অর্থাঃ সঠিক উপায়ে প্রেষণা দিতে পারলে কর্মীর শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে এবং অর্থবহ হবে ।
প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্য
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে । নিম্নে সেগুলো দেখানো হলো-

পার্থক্যর বিষয়প্রশিক্ষণব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
১. সঙ্গাআচরণের উন্নতি সাধন করার প্রক্রিয়াকে প্রশিক্ষণ বলে ।অপরদিকে ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নির্বাহীদেরকে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ করার প্রক্রিয়া ।
২. মেয়াদ কালঃপ্রশিক্ষণ হচ্ছে একটি স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া ।
৩. উদ্দেশ্যঃমেধাবি মানব সম্পদ সৃষ্টির প্রয়াস এর মূল উদ্দেশ্য । প্রতিষ্ঠানের  নির্বাহীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করার কৌশল বৃদ্ধি করাই এর মূল উদ্দেশ্য ।
৪. ভূমিকাঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাধারণত শিক্ষা প্রক্রিয়ার সহায়ক ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সহায়ক ।
৫. ফলাফলঃপ্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হয় ।ব্যবস্থাপনা  উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকগণ ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ধারণা অর্জনে সক্ষম হয় ।
সংশ্লিষ্টতাঃপ্রশিক্ষণ সাধারণত নিম্নপদ্স্থ কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত ।ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক নির্বাহীদের সাথে সম্পর্কিত ।

অতএব বলা যায় , প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পার্থক্য থাকলে ও  এদের গুরুত্ব অনেক ।

প্রশিক্ষনের সুবিধাঃ
প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য যদি ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন হয় তাহলে এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হলো প্রশিক্ষণ । আবার কর্মী প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত ফল যদি ও প্রতিষ্ঠান ভোগ করে , প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কর্মীরাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হয় । নিম্নে প্রশিক্ষনের সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলোঃ
১. প্রশিক্ষনের ফলে কর্মীদের মনোবল বাড়ে, সেই সাথে কার্যসন্তুষ্টি ও উল্লেখ যোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায় ।
২. কর্মীদের প্রেষণা বৃদ্ধি পায় ।
৩. উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মীদের দক্ষথা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন-মজুরি ও বৃদ্ধি পায় ।
৪. নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরী হয় ।
৫. শ্রম ঘূর্ণায়মান হ্রাস পায় ।
৬. নৈতিকতা প্রশিক্ষন, যৌন হয়রানি রোধ ভা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায় ।
৭. ভারি যন্ত্রপাতি, ছবি ও বিপজ্জনক রাসায়নিক সংস্পর্শে না এসে নিরাপদে কর্ম সম্পাদনের দক্ষতা অর্জন হয় প্রশিক্ষনের্ মাধ্যমে ।
৮. প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বাহিনীর সৃষ্টি হয় যারা ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনে অবদান রাখেন । এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনামে বৃদ্ধি পায় ।
৯. প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উজ্জীবিত কর্মী বাহিনীর ফলাফল সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে রাখা ।
১০. ইতবাচক প্রশিক্ষনের ফলে যেহেতু কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের ক্রমাগত পরিবর্তন হয় , ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানে দুটিই তথ্য প্রযুক্তিতে হালনাগাদ থাকে ।
উপরের আলোচনায় এটা মনে হতেই পারে যে, প্রশক্ষণে কর্মীরা বেশি উপকৃত হয় । কিন্তু প্রশিক্ষণে বিনিয়োগটা করতে হয় কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে । আর যেহেতু বিনিয়োগ বলা হচ্ছে , প্রতিষ্ঠান নিশ্চয়ই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পায় ও প্রশিক্ষণের চুড়ান্ত লক্ষ্য ও তাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *