প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যসমূহ

প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি কর্মীর অবহিতকরণ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত যা কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের নীতির পদ্ধতি ও কার্যদক্ষতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হয় ।

প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন একটি পরস্পর সম্পর্কিত বিষয় এবং একটি অন্যটির পরিপূরক ।

নিম্নে প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যসমূহ আলাকপাত করা হলোঃ

১. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণাঃ

প্রশিক্ষণের অতি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত করানো । এর ফলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের রীতি-নীত, কার্যসম্পাদনের কৌশল, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয় ।

২. মনোভাব পরিবর্তনঃ

প্রশিক্ষণ কর্মীর মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করে । প্রকৃতপক্ষে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীর মনোভাবের ঋণাত্মক পরিবর্তিত হয় ।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাঃ এর মাধ্যমে কর্মীদের এমনভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়, যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত পরিকল্পনা মানব সম্পদ পরিকল্পনা সঠিক কার্যকরভাবে প্রণয়ন করতে পারে । যার ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ অর্জন হয় ।

৪. মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিঃ কর্মীকে কার্যক্ষেত্রে পারদর্শী করে তোলায় প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । যার ফলে কর্মসম্পাদনে অন্যর তদারকির কোনো প্রয়োজন হয় না । ফলে তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় ।

৫. লক্ষ অর্জনঃ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো লক্ষ অর্জন করা , কারণ এর সাথে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ও সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয় ।

৬. সময় জ্ঞানঃ প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মীদের সময় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয় । যার ফলে কর্মীরা যথাসময়ে কার্যাদি সম্পূর্ণ করতে পারে  এবং প্রতিষ্ঠনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় ।

৭. অপচয় হ্রাসঃ প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয় । ফলে অপচয় অনেকাংশে কমে যায় ।

৮. সামাজিক উন্নয়নঃ কর্মীদের তাত্ত্বিক ও কারিগরি ভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । ফলে তারা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে । যার প্রভাব সমাজে পরিলক্ষিত হয় ।

অতএব বলা যায় যে, প্রশিক্ষন ও উন্নয়ন উপরের লক্ষ্যগুলো সাধন করে থাকে । যা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

প্রশিক্ষন ও উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্যঃ

প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রায়ই এক এবং অভিন্ন মনে হয় । কিন্তু এ দুটি বিষয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে তা তুলে ধরা হলো-

পার্থক্যর বিষয়প্রশিক্ষণউন্নয়ন
১. সংজ্ঞাঃকোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করার জন্য মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার নাম প্রশিক্ষণ ।উন্নয়ন বলতে বোয়ায় একজন ব্যবস্থাপকের বা নির্বাহীদের এবং কর্মীদের সার্বিক উন্নয়ন ।
২. ফলাফলঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনেকটা কার্যভিত্তিক  এবং প্রশিক্ষণ হতে প্রাপ্ত ফলাফল খুব দ্রত আশা করা যায় ।উন্নয়ন অর্থ হচ্ছে সূদরপ্রসারি ফলাফল , অর্থাৎ নিকট ভবিষ্যৎ কিছু আশা করা যায় না ।
৩. উন্নয়নঃপ্রশিক্ষন বলতে সর্বস্তরের কর্মীর উন্নয়নকে বোখায় এখানে একজন মেশিনম্যান যেমন অন্তুর্ভুক্ত হতে পারে তেমন ব্যবস্থাপক ও হতে পারে ।উন্নয়ন মূলত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বা নির্বাহী উন্নয়নকে বোঝায় সমগ্র সংগঠনের স্বার্থ এখানে জড়িত ।
৪. প্রশিক্ষণঃকর্মী উন্নয়নে সাধারণত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় ।নির্বাহী উন্নয়নে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়  ।

প্রশিক্ষন ও মনোবলের মধ্য সম্পর্কঃ

সাধারণত মনোবল বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তির দৃঢ় মানসিক অবস্থাকে । কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কর্মী যখন তার দৃঢ়তা, বিশ্বাস, সামর্থ্য ও  ঐচ্ছিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যায় তখন সে অবস্থাকে মনোবল বুঝায় । আর একটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের মধ্যে কর্মীর দক্ষতা , মনোবল , ক্ষমতা যাচাই করা যায় । মনোবল মনস্তাত্ত্বিক ধারণার সাথে সম্পৃক্ত । শিল্প প্রতিষ্ঠানে মনোবল কর্মীদের কাজের প্রতি সকল ধরনের মানসিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করে । আবার শিল্পে নিয়োজিত সকল শ্রেণীর কর্মীর কার্য সন্তুষ্টি ও প্রেষণার সাথে সম্পৃক্ত । কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগদানের পর কর্মীকে দক্ষ ও পারদর্শিতা করে তোলার জন্য কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । যাতে করে একজন কর্মী তার নিজস্ব মনোবল ও দৃঢ়তা নিয়ে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে । যেমন- উচ্চ মনোবলের অধিকারি কর্মীগণ কাজের প্রতি অত্যাধিক মনোযোগী হয় ।  অন্যদিকে নিম্ন মনোবলের কর্মিগণ কাজের প্রতি অনিচ্ছা ও অনাগ্রহ প্রকাশ করে । সুতরাং বলা যায় কর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই কর্মীর অভ্যন্তরীণ মানসিক অবস্থা যা কর্মীর কাজের প্রতি ইচ্ছা ও অনিইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ।

শিক্ষা

কোনো বিষয় সম্পর্কে সাধারণ ও ব্যাপক দান করাকে শিক্ষা বলে । শিক্ষা মানুষের চিন্তা ও মননশীলতার নৈপূন্য বৃদ্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের পরিধি , চিন্তার পরিধি, বিচার বুদ্ধির পরিধি বিস্তৃত করতে সক্ষম হয় । শিক্ষা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি  এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে । শিক্ষা হলো সঠিক জ্ঞান আহরণের একটি প্রক্রিয়া ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *