নেতৃত্বের সঙ্গা এবং নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাবলি

নেতৃত্ব ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য অঙ্গ । নেতৃত্ব পদ বাক্যটি মনস্তাত্বিক ধঅরনার সাথে সম্পর্তিক যা যতখানি উপলব্দি করা যায় ততখানি প্রকাশ করা যায় না । বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে গতিশীল নেতৃত্ব ব্যবস্থাপকের প্রয়োজন অপরিহার্য ।
নেতৃত্বের সংজ্ঞাঃ
কোন দল গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে উদ্দেশ্যার্জনের প্রচেষ্টাকে নেতৃত্ব বলো হয় । যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাকে নেতা বলে ।
ইংরেজি lead থেকে Leadership শব্দ এসেছে যর বাংলা অর্থ হলো নেতৃত্ব । Lead শব্দের অর্থ হলো পথ দেখানো , চালিক করা , আদেশ করা ইত্যাদি তাই নেতৃত্ব বলতৈ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য অধীনস্থ লোকদের পরিচালনা করে এমন কৌশলকে বুঝায় যাতে দলীয় সদস্যদের তাদের সর্বাধিক সামর্থ্য অনুযারি নির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনের তৎপর হয় ।
নিম্নে নেতৃত্ব সম্পর্কে দু জন খ্যাতনামা লেখকের মতামত তুলে ধরা হলো –
NewstorM ও Keith devis এর মতে , নেতৃত্ব হলো অন্যান্যদের উৎসাহিত ও সাহায্য করার একটি প্রক্রিয়া যাতে তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয় ।
M.j. Gannon এর মতে, নেতৃত্ব হলো একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া যেখানে নেতা একটি নির্দিষ্ট কার্যধারা সমাপন করতে তার অধীনস্তদের অবশ্যই প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেন ।
মিঃ বেনিশ এর মতে , নেতৃত্ব হচ্চে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নির্বাহী অধস্তনদেরকে তার কাম্য আচরণ করতে প্রভাবিত করে থাকে ।
HIcks এবং Cullet এর মতে , নেতৃত্ব হলো যেকোনো ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দানের ক্ষেত্রে অন্যান্য আচরণকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য ।
উপররিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, নেতৃত্ব হলো একটি বিশেষ গুন বা কৌশল যার দ্বারা উধ্বর্তন কর্মকর্তা অধীনস্ত কর্মীদের প্রেরণার মাধ্যমে প্রভাবিত করে কোন সংগঠনের উদ্দেশ্যার্জন ত্বরান্তিত করে ।


নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাবলিঃ


নেতৃত্ব হলো যেকোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা অধস্তন জনশক্তিকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে চালনা করে । সফল নেতৃত্বের উপর একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা নির্ভর করে ।
নিম্নে নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যাসমূহ আলোচনা করা হলো-
১. অনুসারিদের সাথে সহ অবস্থানঃ
নেতা ও অনুসারিদের সহ অবস্থান যোগ্য নেতৃত্বের একটি অন্যতম পুর্বশর্ত । নেতৃত্ব কৌশল যেহেতু পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত তাই পরিচালক এবং অধস্তনরা পাশাপাশি অবস্থান না করলে এরুপ কৌশল সুষ্ঠভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না ।
২. অধসত্নদের সম্পর্কে ধারণাঃ
নেতৃত্ব হলো অধস্তনদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালনা করার কৌশল । এরুপ কৌশল প্রয়োগের অধস্তনদের আবেগ , অনুভূতি ও সমস্যা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা থাকতে হবে ।
৩. পরিবেশের প্রভাবঃ
নেতা কখনই পরিবেশকে উপেক্ষা করতে পারে না । কোন বিশেষ পরিবেশেই কোন বিশেষ ব্যক্তি নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেন । একেক পরিবেশে একেক যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি নেতা বিবেচিত হন ।
৪. ক্ষমতা ও কর্তুত্বের উপস্থিতিঃ
একজন নেতার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের কারণে অধস্তনরা নেতার নির্দেশনা পালন করে থাকে ।
৫. অধস্তনদের প্রেষনা দানঃ
নেতৃত্বের সাথে উৎসাহ প্রদান ও প্রবাদকরণের যোগসূত্র রয়েছে । যোগ্য নেতা তার মোহনীয় গুণাবলির দ্বারা অধস্তনদের আকৃষ্ট করতে থাকেন ।
৬. অনুসারিদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগঃ
অধস্তনদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করা নেতার জন্য অপরিহার্য বিষয়, নেতার চিন্তা, ধ্যান ধারনা ও কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য অনুসারিদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য অনুসারিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন ।
৭. অনুসারিদের আনুগত্যঃ

নেতৃত্ব আনগত্যের সাথে সম্পর্কিত । অনুসারীদের আনুগত্য না থাকলে নেতৃত্ব কখনই সফলকাম হতে পারে না । এরুপ আনুগত্য স্বেচ্ছামূলক হোক বা বাধ্যতামূলক হোক নেতৃত্বের পক্ষে অনুসারীদের আনুগত্য লাভ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যার্জনের অপরিহার্য ।
৮. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতাঃ
নেতা যেহেতু কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন তাই তাকে কাজের দায়িত্ব ও ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয় । যেকোন নতুন উদ্যাগ গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব যেহেতু নেতৃত্বের উপর থাকে তাই যেকোন ঝুঁকির উদ্ভব হলে নেতৃত্ব তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে ।
৯. নেতৃত্ব কতিপয় গুণের সম্ষ্টিঃ
নেতৃত্বের কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের বা সংগঠনের গৃহতি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যা পরিচালনা করতে গিয়ে নেতাকে অবশ্যই কতগুলো গুণের অধিকারী হতে হয় ।
১০. উদ্দেশ্যভিত্তিক সম্পর্কঃ
নেতা তার প্রতিটি কার্য উদ্দেশ্যভিত্তিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন । স্বজনপ্রীতি পরিহার করে ন্যায় অন্যায় বিশ্লেষণ করে ন্যায়ের পথে অগ্রসর হবেন ।
১১. নেতৃত্ব শক্তির সাথে তুলনীয়ঃ

দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোন কর্মকান্ড পরিচালনার নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপুর্ণ উপাদান বা শক্তি হিসেবে কাজ করে । নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই অনুসারীরা একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *