ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচতে মেঘনা নদীতে ঝাপ কিশোরীর

ভোলার তাজুমউদ্দিনের এক কিশোরী লঞ্চ কর্মীদের হাত থেকে বাঁচাতে মেঘনা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। প্রায় ৩ ঘন্টা নদীতে ভাসমান থাকার পরে তিনি জেলেদের সহায়তায় নতুন জীবন ফিরে পান ।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তাজমুদ্দিনের ভূইয়া গ্রামের কাছে মেঘনা নদীর তীরে ঘটনাটি ঘটে যখন কাজের সন্ধানে কর্ণফুলী -13 লঞ্চের যাত্রী হিসাবে ঢাকায় যাচ্ছিলেন 17 বছর বয়সী এই কিশোরী।

এদিকে লঞ্চ কর্মীরা তাকে উদ্ধার না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি তাজুমউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেয়েটি মেঘনার মাঝখানে তেলিয়ার চরের কবির হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতালে ভর্তি ওই কিশোরী জানান, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় তাজুমউদ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী -13 লঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। লঞ্চটি তে উঠার মুহুর্ত থেকেই তাকে বেশ কয়েকজন কর্মী দ্বারা উত্যকত্ ও হয়রানি করা হয় । এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে ঢোকানোর জন্য টানতে থাকে । অসহায় হয়ে সে মেঘনা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেলেছিল, তবে জলের স্রোত বেশি থাকায় বয়াটিকে ধরতে পারেনি। পরে লঞ্চটি তাকে উদ্ধার না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রায় 3 ঘন্টা পরে একজন জেলেদের ট্রলার এসে তাকে উদ্ধার করে তাজুমউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে।

উদ্ধারকৃত নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এই মুহুর্তে, নদীর মাঝখানে, যখন তারা মেয়েটিকে ‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে শুনল, তারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তাজুমউদ্দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, উদ্ধার শেষে জেলেরা তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তারা ইউএনও ও ওসির সাথে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি করান । মেয়েটি আরও বলেছিল যে লঞ্চের কর্মীরা তাকে টানাটানি করছিল ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো। কবির সোহেল জানান, নদীতে লাফ দেওয়ার সময় কিশোর তার ডান হাতে আঘাত পায় । জেলেরা তাকে নদী থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে, যেখানে তার চিকিত্সা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁকি মুক্ত।

তাজুমউদ্দিন থানার ওসি এসএম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসার পরে মেয়েটির জবানবন্দির পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিতামাতাদেরও খুঁজে পেয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তাজুমউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, হাসপাতালে মেয়েটিকে সুস্থ হওয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মেয়েটির মতে, দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে লঞ্চের সমস্ত কর্মীদের ডাকা হবে।

কর্ণফুলী -13 লঞ্চের মালিক। সালাউদ্দিন মিয়া জানান, উদ্বোধনের কোনও কর্মী এ জাতীয় ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। মেয়েটি লাফ দেওয়ার পরে বয়াটিকে লঞ্চ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ধরতে পারিনি। বিলম্ব না করে তাকে অন্য ট্রলারে উদ্ধার করা হয়েছিল।

লঞ্চ কর্মীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, কিশোর ইঞ্জিনের কাছে একটি সিট নিয়েছিল। স্টাফ জানিয়েছে যে তার পাশের সিট নিয়ে বসে থাকা কিছু ছেলে মেয়েটিকে হয়রানি করছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *