ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার পরিধি ও ব্যবস্থাপনা প্রশাসন

নিম্নে ক্ষতিপূরনের পরিধিসমূহ বর্ণনা করা হলোঃ
১. বেকার সময়ের অর্থ প্রদানঃ
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রতিদিন কাজের ঘন্টা এবং সারা বছরে কাজের দিন হ্রাস পেতে পারে । যার ফলে ছুটির দিনগুরোর জন্য বা কাজ না থাকার ফলেও কর্মীদের বেতন ভাতা বাবদ প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করতে হয় । এই ধরনের ক্ষতিপূরণের ফলে কোম্পানির ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার মান আরো উন্নত হয় ।
২. অক্ষমতায় আয়ের ধারাবাহিকতাঃ
কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে যেকোনো সময়ই কর্মীদের কাজ করার ক্ষমতা হারাতে পারে । যার ফলে কর্মীরা কর্মসম্পাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে । আবার চিকিৎসা ব্যয় পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ কর্মীর জীবনকে আরো দুর্বিষহ করতে পারে । যার ফলে এসব অক্ষম কর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠান হতে আর্থিক নিরাপত্তা পেয়ে থাকে ।
৩. কর্মীর আয়ের ধারাবাহিকতাঃ
কোনো কারণে উপার্জনক্ষম মানুষটি না থাকলে তার পরিবারের সবাই কিভাবে জীবন ধারণ করবে তার জন্য তারা একটি নিদিষ্ট মানের জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে থাকে । কোনো কর্মী স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেলে বা তার মৃত্যূ হলে কর্মীর উপর নির্ভরশীলদের জীবনযাপনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহন করে থাকে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেনশন বা জীবন বিমা ইত্যাদি ।
৪. কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানঃ
কর্মীদের কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অর্থ স্বল্প সময়ের কাজের জন্য প্রদত্ত মজুরি , বেতন এবং বোনাস হিসেবে প্রদান করতে পারে । আর এসব অর্থ দিয়ে কর্মীলা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য এবং সেবাসমূহ ক্রয় করতে পারে ।
৫. কর্ম হারালে ও আয়ের ধারাবাহিকতাঃ
প্রতিটি কর্মীর মৌলিক চাদিহা হলো তার চাকরির নিরাপত্তা । সর্বদাই কর্মীরা চাকরি হতে স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত তাদের কাজের নিরাপত্তা পেতে চায় । যার ফলে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা , সাময়িক বেকার ভাতা, পারিতোষিক প্রদান করে নতুন কেতানো চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত কর্মীদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।
৬. বিলম্বিত আয়সমূহঃ চাকরিকালীন সম,য়ে কর্মীরা যে ধরনের জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয় , অবসল গ্রহণের পর আর সেই ধরনের সুযোগ পায় না । কারণ, তাদের আয় বহুলাংশে হ্রাস পেয়ে থাকে । চাকরিকালীন অবস্থায় বেশির ভাগ কর্মীরা অধিকাংশ চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের আয় নিশ্চিতকরণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে থাকে ।

ক্ষতিপুরণ ব্যবস্থাপনা প্রশাসন
ক্ষতিপূরণ ব্যবস্তাপনা হলো ব্যবস্থাপনা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ । শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে মজুরি ও বেতন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে । এই মত বিরোধ দূর করার জন্য মজুরি ও বেতন প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে । যে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মকর্টতা বা কর্মী তার কাজের বিনিময়ে যে ধরনের আর্থিক পারিশ্রমিক ও সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে তাকে ক্ষতিপুরণ ব্যবস্থাপনা বলে ।

ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনাঃ যে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মী তার কাজের বিনিময়ে যে ধরনের আর্থিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তাকে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা বলে ।
Richoad L. Herben Son বলেছেন, Compensation Management is the process of managing employees financial remureration gives by the orgainzation.

Dale Yoder- এর মতে, “আর্থিক পুরষ্কারের মাধ্রমে পারিশ্রমিক এবং অনুপ্রেরণাদানের নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন, নির্ধশনা এবং বাস্তবায়নেরর সাথে মজুরি ও বেতন প্রশাসন জড়িত ।”

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ক্ষতিপূরণ প্রশাসনের কাজ হলো ব্যয় সাশ্রয়ী একটি বেতন কাঠামো গড়ে তোলা যা কেবল মাত্র যোগ্য কর্মীদের আকৃষ্ট প্রনোদিত এবং সংরক্ষন করে না বরং একে ঐসব কর্মীরা ন্যায্য বলে ধারণা পোষন করে থাকে ।
প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে মিল রেখে যথাযথ মজুরি বেতন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করাই ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *