ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা ও প্রয়োজনীয়তা

ক্ষতি পূরণের নীতিমালা
মজুরি ও বেতন হতে হবে এমন যে যাবে কর্মীদের মধ্যে প্রণোদনার সৃষ্টি হয়ে থাকে । এভাব েকর্মীদের মধ্যে কাজের ভিত্তিতে মজুরি ও বেতন নির্থারিত হলে তাদের মধ্য কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি , দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে । ক্ষতিপূরণ প্রশাসন সঠিক মজুরি ও বেতন কাঠামো নির্ধারন ও সংরক্ষন করে । ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার মূলণীতিগুলো নিচে আলাচনা করা হলো –
ক্ষতিপূরন ব্যবস্তাপনার মূলনীতিঃ
১. সহজবোধ্যতাঃ
ক্ষতিপূরণ নীতি সহজবোধ্য হতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের কর্মীরা বুঝতে সক্ষম হয় ।
২. নমনীয়তাঃ
ক্ষতিপূরনের নীতিতে নমনীয়তার বিষয়ডট উল্লেখ থাকা প্রয়োজন । পরবর্তীতে সামাজিক, অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যাতে ক্ষতিপূরণ পূনর্মূল্যঅয়ন ও পুনঃনির্ধারন করা যায় ।
৩. কাজরে প্রকৃতিঃ
সকল কাজের জন্র একই হারে মজুরি প্রদান করা যায় না । যেসব কাজের অধিক দক্ষতা, দায়িত্ব ও ঝুঁকি রয়েছে সেসব কাজের জন্য অধিক হারে মজুরি দিতে হবে ।
৪. লিখিতঃ
ক্ষতিপূরণের স্থিতিশীলতার জন্য এটি লিখিত হওয়া উচিত । ক্ষতিপূরণের নীতি লিখিত হলে তা প্রতিষ্ঠানের দলিল তিসেবে কাজ করে এবং মজুরি ও বেতন হারে সমতা এবং স্থায়িত্ব আছে ।
৫. অতিরিক্ত মজুরিঃ
অতিরিক্ত কাজরে জন্য কর্মীদের অতিরিক্ত সময় ব্রয় করতে হয় সে অনুযারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা চালূ করতে হবে ।
৬. বেতন স্কেল নির্ধারনঃ
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের কাজরে গুরুত্বসহকারে পদের সৃষ্টি করা হয় । সকল পদের ক্ষতিপূরন সমান হয় না । তাই কাজের প্রকৃতি সময়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পদের গুরুত্ব অনুসারে বেতন স্কেল নির্ধারন করতে হবে ।
৭. চাকরির স্থায়িত্বঃ কর্মীরা চায় তার কাজের নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ । আর প্রতিষ।ঠানে কর্মীদের দীর্ঘকাল ধরে রাখার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রশাসনকে উপুযুক্ত ক্ষতিপূরণেসর ব্যবস্তা করা ।
৮. নিয়োগবিধিঃ
প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী নিয়োগের জন্য নিদির্ষ্ট বিধিবিধান থঅকে । পরবর্তীতে অবস্থায় নিয়োদবিধি সময়োপযোগী করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা সম্ভব ।
৯. ছুটিকালীন বেতনঃ
প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিয়মানুসারে সাধারণ ছুটি , উৎসবকালীন ছেুটি , নৈমিত্তিক ছুটি, চিকিৎসা ও অক্ষমতাজতিন ছুটি এবং সরকারি চুটিসহ অন্যান্য চুটি ভোগ করে থাকে । এসব চুটির জন্য যতাযথ নিয়মে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকা উচিত ।

প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয় । ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় বাজেটের ‍ প্রতি লক্ষ্য রেখে নীতি প্রণয়ন করা হলে তা দীর্ঘমেয়অদে এবং নিয়মিত প্রদান করা যায় ।
ক্ষতিপূরণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সময় পারিপাশ্বির্ক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সরকারি নীতির প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হলে তা সবার জন্য গ্রহনযোগ্য হবে ।

ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা

ক্ষতিপূরণ ব্রবস্থাপনা কর্মীর ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক মজুরি ও বেতনভাতা নির্ধারন সংক্রান্ত নীতি পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত । প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের যেমন কাজে নিয়োগের সুনিদির্ষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে তেমনি কর্মীদেরও কাজে যোগদানের একটি উদ্দেশ্য রয়েছে । প্রতিষ্ঠান শ্রমিক কর্মীদের খাটিয়ে সুনিদির্ষ্ট স্থিরকৃত লক্ষ্য অর্ঝন করে ।
নিম্নে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হল
১. উপযুক্ত মজুরি কাঠামো নির্ধারণঃ
সংগতিপূর্ণ , উপুযুক্ত ও কাম্য মজুরি কাঠামো প্রণয়নই ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য । যথোপযুক্ত ও কার্যকর বেতন কাঠামো কর্মীর কার্য সম্পাদন ও উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন সাধন করে ।
২. ন্যায্য ভাতা ও বেতন প্রদানঃ
কর্মরিদর সঠিক ও ন্যায্য বেতন ভাতা নির্ধারণ করাই ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার কাজ । এজন্য ক্ষতিপূরণ মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূল্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।
৩. অন্যান্য সেবা ও সুবিধাদি প্রদানঃ
ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের অন্যঅন্য সকল আর্থিক সেবা ও সুবিধাদি প্রদান করে থাকে । ফলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য ও মনোবল বৃদ্ধি পায় ।
৪. প্রেষনার বাসতবায়নঃ
ক্ষতিপূরণ প্রশাসন কর্মীদের কর্ম উদ্দীপনা বাড়াতে প্রেষনা বাস্তবায়ন করে থাকে । এতে কর্মক্ষেত্রে কর্মীর শ্রম ঘূর্ণায়মানতার হার হ্রাস পায় এবং কার্য অনুপস্থিতি বহুলাংশে কমে যায় ।
৫. অবসন্নতা দূরীকরণঃ
ক্ষতিপূরন ব্যবস্থঅপনা কর্মীদের অবসন্নতা দূরীকরণে গুরুত্বপুল্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।
৬. শিল্প সংঘাত দূরীকরণ+
ক্ষতিপূরন ব্যবস্থঅপনা সঠিক মজুরি ও বেতন কাঠামো নির্ধারণ কএবং সংরক্ষণ করে থাকে । ফলে শিল্প সংঘাত দূর হয় ।
৭. কর্মীর সামাজিক মর্যাদা ‍ প্রতিষ্ঠাকরণঃ
উপযুক্ত ও ন্যায্য মুজরি , বেতন ভাতা তথা ক্ষতিপূরণ কর্মীর জীবিকা নির্বাহ করতে সুন্দর ভূমিকা পালন করে থাকে । এতে করে কর্মীরা তাদের পরিজন প্রতিপালন ভালোভাবে করতে পারে ।
৮. চাকরি নিরাপত্তাঃ
সর্বোপরি ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের চাকরিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করে থাকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *