ইসলামিক স্টেটের যৌনদাসি – শামিমা বেগম

কে এই শামীমা বেগম?

শামীমা বেগম কেন এ পথ বেছে নিল?

আসুন শামীমা বেগমের জীবন কাহিনী পড়ি –

শামীমা বেগম ছিলেন ব্রিটেনের নাগরিক।যদিও তাঁর বাবা-মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। শামীমা মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্রিটেন থেকে পালিয়ে চলে যায় সিরিয়াতে। সে একা যায়নি, সঙ্গে গিয়েছিল তাঁর দুই বান্ধবী আমিরা আবাসে এবং খাদিজা সুলতানা। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় তাঁরা ত্রাণ বিতরণ করতে যায়নি। তারা গিয়েছিল যৌনদাসী হতে। হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন যৌনদাসী হতে।
সেটা ২০১৫ সাল। শামীমা আর দুই বান্ধবী বাড়ি থেকে টাকা, গয়না চুরি করে তুরস্ক যাওয়ার বিমানে চেপে বসলেন। তুরস্কের সীমান্ত পেরিয়ে গেলেন সিরিয়া। পৌঁছে গেলেন ইসলামিক স্টেটের অধীনে থাকা এলাকায়। শুরু হলো যৌনদাসীর জীবন।
কিন্তু যৌনদাসী জিনিসটা কি? সেটা একটু বুঝিয়ে বলা যাক। এক কথায় ভোগের পণ্য। যদিও এক্ষেত্রে একটি বহুল প্রচলিত কথা মিথ্যে প্রমাণিত হয়, তা হলো- ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।
ইসলামিক স্টেটের স্বপ্ন নিয়ে জিহাদি বাহিনী গড়ে তুলেছেন আবু বকর আল বাগদাদি। সারা বিশ্ব থেকে জিহাদের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মুসলিম যুবকরা সিরিয়াতে এসে পাড়ি জমাচ্ছেন। ইউরোপের দেশগুলির অনেক খ্রিস্টান থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিও এসেছেন। ভারতের কেরালা থেকেও ১৮ জনের একটি দল সিরিয়া গিয়েছিল। এইভাবে সারা বিশ্ব থেকে বহু মুসলিম যুবক যুবতী সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল।
কিন্তু জিহাদিদের শারীরিক খিদে অর্থাৎ যৌন বাসনা কিভাবে মিটবে? তার উপায়ও বের করলেন ইসলামীক স্টেটের নেতারা।
ইন্টারনেটে প্রচার চালানো হতে লাগলো যে জিহাদ প্রত্যেক মুসলিমের কাছে পবিত্র। যারা জিহাদ করছে, তাঁরা পবিত্র কাজে লিপ্ত। তাঁরা ‛মুজাহিদ’। তাই তাদের স্ত্রী হয়ে তাদের সেবা করাও অতি পবিত্র কাজ। তাদের তৃপ্তি দেওয়া অতি পুণ্যের কাজ। সেই প্রচারে সাড়া দিয়ে সিরিয়া পাড়ি দিলেন শামীমা বেগম ও তাঁর দুই বান্ধবী আমিরা আবাসে ও খাদিজা সুলতানা। ঠিক একই কারণে সিরিয়ার ইয়াজিদি গোষ্ঠীর তরুণীদের অপহরণ করে এনেছিল ইসলামিক স্টেট জিহাদিরা। তাদেরকে একাধিক জিহাদি ধর্ষণ করতো। দিনের পর দিন ধর্ষণের ফলে একাধিক ইয়াজিদি নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল। অনেক নাবালিকা মেয়েকে আবার বিক্রি করে দিয়েছিল জিহাদিরা। একইভাবে শামীমা বেগম একাধিক জিহাদির সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হয়েছিল এবং এর ফলে সে ‛সোয়াব’ অর্থাৎ পুণ্য অর্জন করেছিল।
সিরিয়ায় শামীমার সঙ্গে ‛নিকাহ’ হলো হল্যান্ডের এক জিহাদির সঙ্গে। তারপর পরপর তিন বছর তিন সন্তানের জন্ম দিল সে। সিরিয়ার স্বর্গীয় ইসলামিক রাষ্ট্রে তাঁর তিন সন্তানের মৃত্যু হল। যদিও তাঁর পিতা কে এখনও জানা যায়নি। যৌনদাসী হওয়ার কারণে সন্তানের জন্ম কিনা, তাও পরিষ্কার নয়।
তবে ব্রিটেন তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বাংলাদেশও তাকে সেদেশে আশ্রয় দিতে চায়নি। ইসলামিক রাষ্ট্রের স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়েছে আগেই। যৌনদাসী হওয়ার ফলও সমাপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *