ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অসফলতার মাঝে সফলতা নিয়ে আসে


মেলায় লাল, নীল, সবুজ এবং হলুদ জাতীয় অনেকগুলি রঙের বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এক ব্যক্তি। যখনই তার বিক্রি হ্রাস পেত, তখন তিনি হিলিয়াম গ্যাসে ভরা বেলুনটি উড়িয়ে দিতেন। উত্সাহী বাচ্চারা বেলুন আকাশে উড়ছে দেখে বেলুন ওয়ালার কাছে ভিড় করে। তিনি সারাদিন এই পদ্ধতিতে বেলুন বিক্রি করতেন। একদিন একটি ছোট ছেলে বেলুনওয়ালার শার্টটি পিছন থেকে টানে এবং বেলুনওয়ালা মুখ ঘুরিয়ে দেখে একটি ছেলে । ছেলেটি জিজ্ঞেস করল, কালো রঙ্গের বেলুন আকাশে উড়ে কি ? ছেলের তীব্র আগ্রহের বিষয়টি লক্ষ্য করে, লোকটি তাকে আশ্বস্ত করে বলল , “ভাই, বেলুনগুলি রঙের জন্য আকাশে উড়ে না, বেলুনের ভিতরে যে গ্যাস আছে তা দ্বারাই বেলুন গুলো আকাশে উড়ে ।”

এটি মানব জীবনেও সত্য। আমাদের ভিতরে যা আছে তা মূল বিষয়। আমাদের ভিতরে যে জিনিসটি আমাদের উপরে উঠতে সহায়তা করে তা হ’ল আমাদের মানসিকতা।
আমরা কখনো কি চিন্তা করে দেখেছি কেন কোন কোন ওব্যাক্তি ও সংস্থা অথবা দেশ অন্যদের তুলনায় বেশি সফল?
এর মধ্যে কোন ও গূঢ় রহস্য নেই । সফল ব্রক্তিরা একটি নিদির্ষ্ট ও কাঙ্খিত ফললাভের জন্য চিন্তা ও কাজ করেন । তারা জানেন , ফললাভের লখ্যে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো মানুষ । তারা আরও জানে তাকে কিভাবে গড়ে তুলৈ কাজে লাগাতে হয় ।
বিশ্বের প্র্রধান সংস্থাগুলিতে নিযুক্ত উচ্চ আধিকারিরা জানিয়েছেন যে, ব্যবসায়ে উৎপাদনশীলতা ও লাভ বাড়ানোর জন্য যে জিনিসটির পরিবর্তন করতে হবে তাহলো, সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের মনোভাব যদি উন্নতর হয় , তেবে তারা সমিমিলিত ভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে । সংস্থার অপচয় বন্ধ হবে । সংস্থার প্রতি আনুগত্য বাড়বে এবং সাধারণভাবে ঐ সংস্থা কর্মতৎপরতার দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে ।

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম জেমস বলেন, আমাদের প্রজেন্মর সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হলো এই যে, মাণুস মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে পারে ।
অভিজ্ঞাতার নিরিখে আমরা জানি মানব সম্পদই সমস্ত রকমের উদ্যোগে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ । মূলধন বা যন্ত্রপাতি ইত্যাদির থেকে ও মানুষ অনেক মূল্যবান । দূর্ভাগ্যত্রমে এই সম্পদের অপচয় ও অনেক বেশি । মানুষ অপনার মহত্তম সম্পদ কিংবা সবথেকে দায় অথবা বোঝা হয়ে উঠতে পারে ।
ত্রেতা সহায়তা , বিক্রয় দক্ষতা, বাণিজ্য -বৃদ্ধির কৌশল সংক্রান্ত পরিকল্পনা ইত্যাদি , এ বিষয় গুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ । এ গুলর উপর প্রশিক্ষন নিলেও প্রশিক্ষন সফল হবে না , যদি না শিক্ষার্থীদের মান যথোপোযুক্তহ হয় । উপযুক্ত গুণমান সম্পন্নস মানুষ তারাই যাদের চরিত্র আছে, সততা আছে , মূল্যবোধ আছে আর সর্বোপরি আছে ইতিবাচক মনোভাব ।
অবশ্যই প্রশিক্ষনের দরকার আছে । ত্রেতা পরিষেবার প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের বলা হয় প্রতিটি ত্রেতার সঙ্গে কথাবার্তায় অনুগ্রহ করে । ধন্যবাদ ইত্রাদি কথাগুলি ব্যবহার করবে । মুখে থাকবে মোলায়েম হাসি এবং যথাসময়ে করমর্দন করবে । কিন্তু একজন মানুষ কতক্ষন এইভাবে মৃদুহাসি হাসতে পারবে যদি তা মধ্যে ক্রেতাকে সাহায্য করার প্রকৃত সদিচ্ছা না থাকে ।
তাছাড়া ত্রেতারা ও শুকনো হাসির অন্তঃসারশূণ্যতা বুঝতে পারবে । হাসি আন্তরিক না হলে তা অত্যন্ত বিরক্তিকর লাগে । আসল কথা হচ্ছে বাইরের অবয়বের থেকে অন্তর্নিহিত বস্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূল্ণ । অনুগ্রত করে কিংবা ধন্যবাদ মৃদুহাসি ইত্যাদি অবয়বের অঙ্গ হলেও গুরুত্বপূর্ণ । এগুলি অনায়াসে ব্যবহারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় যদি মনে কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা থাকে ।

ফরাসী দার্শনিক ব্লেইস পাস্কাল যেমন একবার বলেছিলেন,

আপনার মতো প্রতিভা যদি আমার থাকে তবে আমি আরও ভাল মানুষ হতে পারতাম।
পাস্কাল জবাব দিল, আগে ভাল মানুষ হও, তাহলে তুমি আমার প্রতিভা পাবে।
ক্যালগারি নামে একটি টাওয়ার নামে একটি ভবন রয়েছে। এর উচ্চতা 190.6 মিটার এবং ওজন 10.64 টন। আশি শতাংশ বিল্ডিং বা 8,349 টন ভূগর্ভস্থ। এইভাবে দীর্ঘতম বাড়িগুলির ভিত্তি শক্তিশালী করতে হয়েছিল। দৃঢ়তা ছাড়া সাফল্যর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না । এবং সাফল্যের ভিত্তি হ’ল মনোভাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *